১৯ জুন মুক্তি পেয়েছে শাহিদ কপূর, কৃতি সেনন ও মৃণাল ঠাকুর অভিনীত ‘ককটেল ২’। ২০১২ সালে মুক্তি পায় হোমি আদজানিয়া পরিচালিত ‘ককটেল’। সইফ আলি খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও ডায়না পেন্টী অভিনীত সেই ছবি বক্সঅফিসে দারুণ সাফল্য লাভ করে। ৫৩ কোটি টাকা বাজেটে তৈরি ছবি সেই সময়ে গোটা বিশ্বে প্রায় ১২৬ কোটি টাকার ব্যবসা করে। এর সিক্যুয়েলের পরিচালনাও করেছেন হোমিই। তবে এ বারের বাজেট প্রায় ১৫০ কোটি। ছবি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই শুরু বিতর্ক। ছবিতে কৃতির খোলামেলা পোশাক থেকে শুরু করে গল্প— নানা মুনির নানা মত। এখনও প্রেক্ষাগৃহে রয়েছে ছবিটি। তবে হিসাব বলছে, প্রথম সপ্তাহের তুলনায় আয়ের পরিমাণ কমেছে। দর্শকের প্রতিক্রিয়াও মিশ্র। সেই আবহেই ফিরে দেখা যাক এমন কিছু ছবির নাম, যেগুলির প্রথম ভাগের সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি সেগুলোর সিক্যুয়েল!
সদ্য মুক্তি পেয়েছে ‘ককটেল ২’। ছবি: সংগৃহীত।
‘রক অন ২’: ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রক অন ২’ আদতে ২০০৮ সালের ‘রক অন’-এর সিক্যুয়েল। ফরহান আখতার, অর্জুন রামপাল, পূরব কোহলি, লিউক কেনি, প্রাচী দেশাই, সাহানা গোস্বামীর মতো অভিনেতাদের নিয়ে মিউজ়িক্যাল ঘরানার ছবি ‘রক অন’ তৈরি হয়েছিল ৮-৯ কোটি টাকা বাজেটে। বিশ্ব জুড়ে ব্যবসা করে প্রায় ৩৬ কোটি টাকার। এর দ্বিতীয় ভাগে অর্জুন, ফরহান, পূরব, প্রাচীর সঙ্গে ছিলেন শ্রদ্ধা কপূর। প্রথম ছবির গল্পের রেশ টেনেই দ্বিতীয় ভাগ তৈরি হয়। শোনা যায়, প্রায় ৪৫ কোটি টাকা বাজেটে তৈরি হয় ছবিটি। বক্সঅফিসে বিশেষ সাফল্য পায়নি। বিভিন্ন হিসাব বলছে, বিশ্ব জুড়ে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা আয় হয়েছিল ছবিটির।
‘রক অন ২’ ছবিতে ফরহানের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল শ্রদ্ধাকে। ছবি: সংগৃহীত।
‘লভ আজ কাল’: ২০০৯ সালে মুক্তি পায় প্রথম ‘লভ আজ কাল’। ইমতিয়াজ় আলি পরিচালিত ছবিতে মুখ্য চরিত্রে নজর কাড়ে সইফ আলি খান ও দীপিকা পাড়ুকোনের জুটি। দুই প্রজন্মের প্রেমকাহিনি সমান্তরাল ভাবে বলায় ইমতিয়াজ়ের জুড়ি মেলা ভার। দর্শকের মন ছুঁয়ে যায় সেই ছবি। শোনা যায়, মাত্র ৩৫ কোটি টাকায় তৈরি ছবি বিশ্বে প্রায় ১২০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল। প্রায় একই ঘরানায় তৈরি হয়েছিল ২০২০ সালের ‘লভ আজ কাল’। ছবির নাম ও পরিচালক— দুই-ই অপরিবর্তিত। বদলে যায় মুখ্য চরিত্রেরা। জুটি বাঁধেন কার্তিক আরিয়ান ও সারা আলি খান। কিন্তু, কাজ করেনি ‘ইমতিয়াজ় ম্যাজিক’। প্রায় ৫৬-৬০ কোটি টাকায় তৈরি ছবি ব্যবসা করে টেনেটুনে ৫০ কোটির মতো। ‘ফ্লপ’ ঘোষণা করা হয় ছবিটিকে।
দ্বিতীয় ‘লভ আজ কাল’ ছবিতে জুটি বাঁধেন সারা-কার্তিক। ছবি: সংগৃহীত।
‘বান্টি অউর বাবলি ২’: পর্দায় অভিষেক বচ্চন ও রানি মুখোপাধ্যায়ের জুটি বরাবরই দর্শক প্রচণ্ড পছন্দ করেন। তাঁদের নিয়েই ২০০৫ সালে মুক্তি পায় ‘বান্টি অউর বাবলি’, পরিচালনা করেছিলেন শাদ আলি। মাত্র সাড়ে ১২-১৪ কোটি টাকায় তৈরি ছবি বিশ্ব জুড়ে বিপুল ব্যবসা করে। আয়ের পরিমাণ প্রায় ৬৪ কোটি টাকা। সেই ছবির প্রায় ১৬ বছর পরে, ২০২১ সালে মুক্তি পায় ‘বান্টি অউর বাবলি ২’। শর্বরী ওয়াঘ ও সিদ্ধান্ত চতুর্বেদীকে দিয়ে একেবারে নতুন জুটি তৈরি করেন পরিচালক বরুণ শর্মা। বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে ছবিটি। রানি মুখোপাধ্যায় ও সইফ আলি খানও উদ্ধার করতে পারেননি। ছবিটি তৈরি হয়েছিল ৪৫ কোটি টাকা বাজেটে। আয় করেছিল মাত্র ২২ কোটি টাকার আশপাশে।
‘বান্টি অউর বাবলি ২’ ছবিতে শর্বরী-সিদ্ধান্ত জুটি বাঁধেন। ছবি: সংগৃহীত।
‘ওয়ার ২’: ২০১৯ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘ওয়ার’ তৈরি হয়েছিল হৃতিক রোশন ও টাইগার শ্রফকে নিয়ে। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত এই অ্যাকশন ঘরানার ছবি তৈরি করতে খরচ হয়েছিল প্রায় ১৭০ কোটি টাকা। হিসাব বলছে, এই ছবি বক্সঅফিস থেকে প্রায় ৪৭৬ কোটি টাকা আয় করেছিল। যা খরচ, পুরোটাই তুলতে সক্ষম হয়েছিল প্রযোজনা সংস্থা। এর মাত্র বছরছয়েকের মাথায় মুক্তি পায় ‘ওয়ার ২’। হৃতিকের সঙ্গে পর্দায় দেখা যায় দক্ষিণের তারকা জুনিয়র এনটিআর-কে। অয়ন মুখোপাধ্যায় পরিচালিত এই ছবি তৈরি করতে প্রায় সাড়ে ৩০০-৪০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। যদিও লাভের নিরিখে অনেক পিছিয়ে এই ছবি। অ্যাকশন থ্রিলার ঘরানার এই ছবি গোটা পৃথিবী থেকে ৩৫৫-৩৬৫ কোটি মতো রোজগার করতে পেরেছিল। এই ধরনের ছবি তৈরির প্রোডাকশন খরচ বিপুল হয়, ফলে এই ছবিকে ‘ফ্লপ’ বলেই ধরেন সমালোচকেরা।
‘ওয়ার’ ও ‘ওয়ার ২’ — দুই ছবিতেই অভিনয় করেন হৃতিক রোশন। ছবি: সংগৃহীত।
‘ওয়েলকাম ব্যাক’: কমেডি ঘরানার ‘ওয়েলকাম’ মুক্তি পায় ২০০৭ সালে। অক্ষয় কুমার, নান পটেকর, অনিল কপূর, পরেশ রাওয়াল, ক্যাটরিনা কইফ, মল্লিকা শেরাওয়াত অভিনীত এই ছবির কিছু দৃশ্য আজও সমাজমাধ্যমে অনবরত ঘুরতে থাকে। হিসাব বলছে ৩০ থেকে ৪৮ কোটি টাকার বাজেটে তৈরি এই ছবি প্রায় ১১৭ থেকে ১১৯ টাকার ব্যবসা করেছিল। বক্সঅফিসে বিপুল সাফল্য, বলাই বাহুল্য। এর সিক্যুয়েল ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ মুক্তি পায় ২০১৫ সালে। দুই ছবির পরিচালকই অনীস বাজ়মি। অভিনেতাদের তালিকায় যুক্ত হয় জন আব্রাহাম, শ্রুতি হাসন, ডিম্পল কপাড়িয়া, শাইনি আহুজার মতো নাম। ৯০ কোটি টাকা দিয়ে তৈরি এই ছবি আয় করে ১৬৮ কোটি টাকা। তৈরির খরচ তুললেও ‘হিট’ করেনি ছবিটি। দিনকয়েক আগে মুক্তি পেয়েছে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’, একই ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির ছবি। এটি আপাতত দর্শকের থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই পেয়েছে।
বক্সঅফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি ‘ওয়েলকাম ব্যাক’। ছবি: সংগৃহীত।
আরও পড়ুন:
‘মেট্রো ইন দিনো’: ২০০৭ সালে মুক্তি পায় ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’। ধর্মেন্দ্র, শিল্পা শেট্টী, কেকে মেনন, শাইনি আহুজা, ইরফান খান, কঙ্কনা সেনশর্মা, শরমন জোশী, কঙ্গনা রনৌত, নাফিসা আলি— একগুচ্ছ তারকাকে নিয়ে ছবি তৈরি করেন অনুরাগ বসু। তাবড় তারকাদের প্রেম-সম্পর্কের টানাপড়েনের গল্প। দর্শকের মন ছুঁয়ে যায়। সঙ্গে প্রীতমের সুরে গান। ৯ কোটির খানিক বেশি অর্থে তৈরি ছবি বক্সঅফিসে ২৪ কোটিরও বেশি আয় করে। ২০২৫ সালে মুক্তি পায় ‘মেট্রো ইন দিনো’। আধুনিক যুগের সম্পর্কের গল্প। আবার অনুরাগ বসুর পরিচালনা। একগুচ্ছ তারকা। অভিনয় করেন অনুপম খের, নীনা গুপ্ত, কঙ্কনা সেনশর্মা, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, পঙ্কজ ত্রিপাঠি, আদিত্য রায় কপূর, সারা আলি খান, আলি ফ়জ়ল, ফতিমা সানা শেখ, দর্শনা বণিক। এ বারেও প্রীতমের সুর। মোটামুটি সব এক রেখেও বক্সঅফিসে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি এই ছবি। মোট খরচের সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি এই ছবির। তবে প্রযোজনা ও প্রচারের খরচের নিরিখে সেই হিসাব ৪৭ থেকে ৮৫ কোটির মাঝে বলে ধরা হয়। তবে ছবিটি আয় করেছে ৬৮ কোটি টাকার আশপাশে। হিট না করলেও ছবির খরচা তুলে নিয়েছিল এই ছবি, মত বিশেষজ্ঞদের।
‘মেট্রো ইন দিনো’ ছবির দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত।