Advertisement
E-Paper

ছোটবেলায় আবদার মেটাতে দোয়াতের কালি দিয়ে আঙুলে দাগ করে দিত মা, আমি ভাবতাম ভোট দিয়েছি: ইন্দ্রাণী

এক ভোট নিয়ে আসে আরও বহু ভোটের স্মৃতি। সে সব সময়, সে সময়ের রাজনীতি কেমন ছিল? পুরনো সে সব ভোটের কথা ফিরে এল তারকার কলমে।

ইন্দ্রাণী হালদার

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৯
ভোটের স্মৃতি রোমন্থনে ইন্দ্রাণী হালদার

ভোটের স্মৃতি রোমন্থনে ইন্দ্রাণী হালদার গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভোট আমার কাছে বরাবরই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আজ পর্যন্ত আমি কোনওদিন ভোট মিস্ করিনি। ছোটবেলায়, যখন ভোট দেওয়ার বয়স হয়নি তখন ভোটের দিন বড়দের আঙুলে কালির দাগ দেখে জিজ্ঞাসা করতাম, ‘ওই দাগটা তোমাদের হাতে আছে, আমার হাতে দেয়নি কেন?’ এমনকি, বায়না পর্যন্ত করতাম আমাকেও ‘ভোট’ করে দাও, মানে কালি দিয়ে দাও। মনে আছে, মা তখন আমাকে খুশি করার জন্য দোয়াতের নীল কালি দিয়ে আঙুলে দাগ করে দিত। বলত, ‘এই দেখো, তুমি ভোট দিয়েছ।’ তখন সে যে কী আনন্দ হত আমার!

নস্টালজিয়ায় ভাসলেন ইন্দ্রাণী হালদার

নস্টালজিয়ায় ভাসলেন ইন্দ্রাণী হালদার ছবি: সংগৃহীত

প্রথম বার ভোট দেওয়ার আগে খুব উত্তেজিত ছিলাম। কতক্ষণে ওই দাগটা আমার হাতে পড়বে তা নিয়ে। কিন্তু সত্যি সত্যিই যে দিন সেই দাগ হাতে পড়ল, সেই দিন বুঝলাম এই কালির দাগের মাহাত্ম্য। মনে হল, আমিও ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক। আমিও পরিণত হয়েছি। কাকে ভোট দিলে ভাল হবে সেই বিবেচনা করতে শিখেছি। প্রথম বার পুরো পরিবার একসঙ্গে ভোট দিতে গিয়েছিলাম, বাবা-মায়ের সঙ্গে। যাওয়ার আগে বাবার সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম কাকে ভোট দেব তা নিয়ে। রাজনীতি নিয়ে আলোচনা তো হতই পরিবারে। বাবা, কাকা, জ্যাঠামশাইরা যে দলে বিশ্বাস রাখতেন, আমারও মনে হয়েছিল সেই দলই ঠিক। তবে আমার উপর কেউ কখনও চাপিয়ে দেননি, যে এদেরই ভোট দিতে হবে। স্বাভাবিক ভাবেই মনে এসেছিল, বড়রা যখন এই দলে ভোট দেন, আমিও দিই। পরবর্তী কালে নিজের ভাবনা অনুযায়ী মত বদলেছে।

ভোটের দিনটা এমনিতেও একটা ছুটির দিনের মতো। কেউ সে দিন কাজে যেত না। ছোটবেলায় আগে থেকে মাংস কিনে রাখা হত। ভোট দিয়ে এসে পরিবারের সবাই মিলে মাংস-ভাত খাওয়া হত। সেটাও বেশ আনন্দের ব্যাপার ছিল। আমি ছোট থেকেই নিউ আলিপুরে থাকি। চিরকাল ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, কোনও দিন এই এলাকায় ঝামেলা হয় না। শান্তিপূর্ণ ভোট হতেই দেখেছি ছোট থেকে। আমার অভিজ্ঞতায় মনে পড়ে না কোনও দিন গন্ডগোল হয়েছে। আগে সিআরপিএফ, পুলিশ থাকত শুধু। নির্বাচন কমিশন এখন তো অনেক কঠোর হয়ে গিয়েছে। খুব কড়াকড়ি এখন, অনেক নিয়মকানুন বেড়েছে। প্রচুর চেকিং হয় এখন ভোটের কয়েক দিন আগে থেকে।

Advertisement
ভোট মিস্ করেন না ইন্দ্রাণী

ভোট মিস্ করেন না ইন্দ্রাণী ছবি: সংগৃহীত

কিছু দিন আগে সমাজমাধ্যমে দেখছিলাম, একজন ভদ্রমহিলা তাঁর মেয়ের গয়না কিনতে যাচ্ছিলেন লক্ষাধিক টাকা নিয়ে। শুনলাম সেই টাকা আটকানো হয়েছে। সেটা শুনে খারাপ লাগল। যদি সত্যিই তা হয়ে থাকে, তা হলে এটা উচিত নয়। নিয়ম নিশ্চয়ই থাকবে, কিন্তু কারও সমস্যা করে নয়। হতে পারে সময়ের সঙ্গে কড়াকড়ি প্রয়োজন, কিন্তু মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও চলাফেরায় যেন কোনও প্রভাব না পড়ে।

বড় হয়ে ভোট দিতে যেতাম একটু বেলা করে। সেখানেও মানুষের সঙ্গে দেখা হলে অনেকেই সেল্‌ফি তুলতে চাইতেন। সেটা একটা আলাদা অনুভূতি। এ বার তো আমি ভোটের প্রচারও করলাম। দারুণ অভিজ্ঞতা হল, তিন দিন প্রচারে গিয়েছিলাম আমতা, মহিষাদলে। এত সাড়া আগে দেখিনি। অনেকদিন পর প্রচারে গেলাম। মানুষের সঙ্গে দেখা হল, কথা হল। আগের বার ভোটের সময় কোমরে চোট ছিল বলে যেতে পারিনি। এখন ধীরে ধীরে আবার শুরু করছি সব কাজ। শরীরটাও আগের থেকে ভাল হয়েছে। দেখা যাক, কত তাড়াতাড়ি কাজে ফিরতে পারি।

(সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে অনুলিখিত)

Indrani haldar Vote Assembly Election Celebrity Nostalgia
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy