• রাজীবাক্ষ রক্ষিত
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

জুলাইয়ে বলিউডের দুই বিগ-বাজেট ছবিতেই প্রেক্ষাপট মণিপুর

Kenny Basumatary
নেতাজির ভূমিকায় কেনি বসুমাতারি।

এক মাসের মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে মণিপুরের প্রেক্ষাপটে দু’-দু’টি মূল ধারার বলিউড ছবি! এমন ঘটনা একেবারে বিরল।

মেরি কমের আগে-পরে মণিপুর কখনওই বলিউডে ঠাঁই পায়নি। ১৯৯৭-এ ‘কোয়েলা’ ছবিতে নাচের দৃশ্যের পরে গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘রেঙ্গুন’-এ ছিল অরুণাচলের খানিক ছোঁয়া। কিন্তু শুক্রবার মুক্তি পাওয়া অনুরাগ বসুর ‘জগ্গা জাসুস’ ও ২৮ জুলাই মুক্তি পেতে চলা তিগমাংশু ঢুলিয়ার ছবি ‘রাগ দেশ’-এ অনেকটা জুড়েই মণিপুর। প্রথমটির বিষয়, অস্ত্র পাচারের আন্তর্জাতিক চক্র। দ্বিতীয়টির গল্প, লালকেল্লায় আজাদ হিন্দ বাহিনীর বিচারকে নিয়ে। যেখানে অবশ্যই পটভূমিতে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘ইম্ফল-কোহিমা চ্যাপ্টার’। উল্লেখযোগ্য বিষয়, পটভূমি ও সময়টা আলাদা হলেও দু’টি ছবির মধ্যেই সেতুবন্ধন করেছেন স্বয়ং ‘নেতাজি।’

আইএনএ ব্যবহৃত গুহায় অস্ত্র পাচারকারীদের ডেরায় রণবীর-ক্যাটরিনার অভিযান।

‘জগ্গা জাসুস’কে নিয়ে অসমেও উৎসাহ তৈরি হয়েছিল। কারণ, বরাকের ছোট্ট উপস্থিতি আর ক্যাটরিনার বিহু নাচের দৃশ্য। অল্প হলেও। ছবির প্রথমার্ধ প্রায় পুরোটাই জুড়ে মণিপুরের পাহাড়ি জেলা উখরুলের গল্প। যদিও নকল উখরুলকে তাইল্যান্ডে দারুণ মুন্সিয়ানায় ফুটিয়েছেন অনুরাগ ও সিনেমাটোগ্রাফার রবি বর্মণ। অবশ্য জগ্গার শৈশব থেকে যৌবন পর্যন্ত টাংখুল নাগা অধ্যূষিত উখরুল থানার ওসি হিসেবে পালিতবাবু (রজতাভ দত্ত)-র থেকে যাওয়াটা চোখে লাগে। অনেকটাই অপেরাধর্মী ছবি জগ্গায় গল্পে-গানে পুরুলিয়া অস্ত্রবর্ষণের সঙ্গে উখরুলের নাগা জঙ্গি সংগঠন এনএসসিএন (আই-এম)কে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে আবার গোপন আঁতাত ‘র’-এর। কপাল মন্দ, মণিপুরে হিন্দি ছবি নিষিদ্ধ। তাই উখরুলের মানুষের এ ছবি দেখার প্রশ্নই নেই। এ দিকে, শান্তি আলোচনায় থাকা আই-এম নেতৃত্ব এ ভাবে তাদের পুরুলিয়া অস্ত্রবর্ষণে পরোক্ষে জড়িয়ে দেওয়ায় কি‌ছুটা ক্ষিপ্ত। টাংখুল এলাকার ভারপ্রাপ্ত এক আই-এম নেতা জানান, তিনি ছবিটি দেখেননি। কিন্তু শুনেছেন তাদের সংগঠনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অস্ত্র পাচারচক্র ও পুরুলিয়া অস্ত্রবর্ষণকে জড়ানো হয়েছে। দৃশ্যতই বিব্রত ওই নেতা বলেন, ‘‘পরিচালকের স্বাধীনতা থাকলেও ও ছবি শুরুর আগে ‘সব ঘটনা কাল্পনিক’ বলে লেখা থাকলেও যে ভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে, তা আপত্তিকর। নাগারা নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম চালিয়েছেন। অস্ত্র পাচারের জন্য নয়।’’

আরও পড়ুন:মন জয় করলেন রণবীর ‘জগ্গা’ কপূর, চমকে দিলেন শাশ্বতও

এই কাহিনীর দু’সপ্তাহ পরেই মুক্তি পাবে অতীতের ইতিহাস নিয়ে ছবি ‘রাগ দেশ’। ‘গ্যাংস অফ ওয়াসেরপুর’, ‘পান সিংহ তোমর’-এর নির্মাতা তিগমাংশুর এই ছবিতে আজাদ হিন্দ বাহিনীর অফিসার-সেনাদের ১৯৪৫ সালের বিচারপর্ব দেখানো হয়েছে। অবশ্যই প্রেক্ষাপটে সিঙ্গাপুর, রেঙ্গুন হয়ে কোহিমা-ইম্ফলে মিত্র শক্তির সঙ্গে নেতাজির নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ বাহিনীর লড়াই। নেতাজির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ‘লোকাল কুংফু’ ছবির পরিচালক-অভিনেতা কেনি দেউড়ি বসুমাতারি। আইএনএ অফিসার প্রেম সেহগলের ভূমিকায় আছেন মোহিত মারোয়া, গুরবক্স সিংহ ধীঁলোর ভূমিকায় আছেন অমিত সাধ ও কর্নেল শাহনওয়াজ খানের ভূমিকায় কুণাল কপূর। ছবির প্রযোজনা করেছে রাজ্যসভা টিভি। ইতিহাসের ছাত্র তিগমাংশুর কাছে ‘নেতাজি’কে নিয়ে ছবি করা স্বপ্নের কাজ ছিল।

পরিচালক-অভিনেতা কেনি বলেছেন, ‘‘তিগমাংশুর ‘ইয়ারা’ ছবিতে আমি কাজ করেছি। তা বছরের শেষের দিকে মুক্তি পাবে। ভাগ্যিস নেতাজির চরিত্র করার সময় আমার কথা মনে পড়ে তিগমাংশুর। এ এক বিশাল দায়িত্ব ছিল। নেতাজি ও আজাদ হিন্দ নিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বই পড়ে ফেলি। যত পেরেছি পুরনো ফুটেজ দেখেছি। নেতাজির ভাষণ শুনেছি। প্রতি দিন মেক আপ করতে ঘণ্টাখানেক লাগত।’’


বিহু দলের সঙ্গে ক্যাটরিনা।

বর্মা হয়ে সোজা পথে ভারতে প্রবেশ করা সমস্যা ছিল। রাস্তা ছিল ব্রিটিশদের দখলে। তাই পাহাড়-জঙ্গল-গুহার গোপন পথে আজাদি সেনা মণিপুরে আক্রমণ চালিয়েছিল। সে সবের উল্লেখ রয়েছে নেতাজি সংক্রান্ত বইগুলিতে।

ঘটনাচক্রে তেমনই একটি বই হাতে পেয়ে বর্তমানের ‘তোতলা জগ্গা’ বুঝতে পারে, অতীত গৌরবের সেই রাস্তা, গুহার মাধ্যমেই এখন চলছে অস্ত্র পাচারের অন্ধকার জগৎ। তার পর তো মণিপুরের হত্যা-মারপিট থেকে মরক্কোয় গুলির লড়াই, রহস্যভেদ। টিনটিনের মতো ছুটে চলে জগ্গা। সঙ্গে সাংবাদিক শ্রুতি সেনগুপ্ত (ক্যাটরিনা)। শেষ পর্যন্ত বাবা ও ছেলের মিলন।

এই ভাবেই অনুরাগ আর তিগমাংশুর ছবির সেতুবন্ধন হয়েছে খোদ সুভাষ বোসের হাত ধরে।

 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন