৯৮তম অ্যাকাডেমি পুরস্কার, এক কথায় অস্কার-এর চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় ঠাঁই হল না কর্ণ জোহর প্রযোজিত ও নীরজ ঘেওয়ান পরিচালিত ছবি ‘হোমবাউন্ড’-এর। আগামী ১৬ মার্চ অস্কার পুরস্কার ঘোষণার কথা। এ বছর ভারতের তরফে থেকে পাঠানো হয়েছিল নীরজ ঘেওয়ানের এই ছবিটি। আন্তর্জাতিক কাহিনিচিত্র বিভাগে জন্য সারা পৃথিবী থেকে মোট ১৫টি ছবি বাছাই করা হয়েছিল। সেখানেই স্থান পেয়েছিল ‘হোমবাউন্ড’। বুক বেঁধেছিল ভারতীয় দর্শক। তবে ২২ জানুয়ারি চূড়ান্ত ঝাড়াই-বাছাই পর্বের পর ছিটকে গেল ভারতের আশা।
আরও পড়ুন:
সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিলের ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’, নরওয়ের ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’, ফ্রান্সের ‘ইট ওয়াজ় জাস্ট আন অ্যাক্সিডেন্ট’, স্পেনের ‘সিরাট’ ও তিউনিশিয়ার ‘দ্য ভয়েস অফ হিন্দ রিজাব’।
গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় নীরজ ঘেওয়ান পরিচালিত ছবি ‘হোমবাউন্ড’। সমালোচক থেকে দর্শক— সর্বস্তরে প্রশংসা পায় এই ছবিটি। মুখ্য চরিত্রে ছিলেন বিশাল জেঠওয়া ও ঈশান খট্টর। ছিলেন জাহ্নবী কপূরও। গল্পের কেন্দ্রে এই দুই তরুণ। এই ছবি ভারতের প্রান্তিক মানুষের জীবনের কঠিন বাস্তবকে তুলে ধরে। দুই পরিযায়ী শ্রমিকের গল্প। মনগড়া গল্প নয়। ভারতের মধ্যপ্রদেশে ঘটেছিল এমনই এক ঘটনা।
দেশ জুড়ে তখন লকডাউন ঘোষণা হয়েছে সবে। অমৃত কুমার ও মহম্মদ সাইয়ুব দুই বন্ধু কাজ করতেন গুজরাতের এক কারখানায়। লকডাউন ঘোষণার পরে দুই বন্ধু গুজরাতের সুরাত থেকে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে উত্তরপ্রদেশে, তাদের গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে অসুস্থ হয়ে মারা যায় অমৃত। তবে বন্ধুকে একা ফেলে চলে যায়নি সাইয়ুব। অমৃতের মরদেহ সে নিয়ে যায় তার বাড়িতে। এই ঘটনাটি প্রতিবেদন আকারে ২০২০ সালে ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্স’-এর সাংবাদিক তুলে ধরেন। সেই খবরের শিরোনাম ছিল ‘টেকিং অমৃত হোম’। সেখান থেকেই সৃষ্টি নীরজের ‘হোমবাউন্ড’।