×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১১ মে ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

করিনার সঙ্গে স্ত্রী তন্যার প্রকাশ্যে তুমুল ঝগড়া, সুপারহিট ছবি হাতছাড়া হয় ববি দেওলের

নিজস্ব প্রতিবেদন
০৩ ডিসেম্বর ২০২০ ১৫:৫১
বলিউডে বক্স অফিসের গ্রাফের পাশাপাশি সমান্তরাল গতিতে চলতে থাকে তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওঠানামাও। দুই তারকার মধ্যে মধুর সম্পর্ক নিমেষে বদলে যায় তিক্ততায়। কখনও আবার ঠিক বিপরীত। তাঁদের রসায়নের মেঘ ও রোদই গুঞ্জরিত হয়ে মুখরোচক আলোচনা তৈরি হয়। সে রকমই এক বার হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে, করিনা এবং ববি দেওলের মধ্যে।

২০০১ সালে ববি দেওলের বিপরীতে ‘আজনবী’ ছবিতে অভিনয় করার কথা ছিল করিনার। ছবিতে অক্ষয় কুমার এবং বিপাশা বসু ছিলেন খল ভূমিকায়।
Advertisement
করিশ্মা এবং করিনার ছবির শ্যুটিং থাকলেই স্পটে হাজির থাকতেন তাঁদের মা ববিতা। অভ্যাসবশত তিনি গিয়েছিলেন বিদেশে ‘আজনবী’-র সেটেও। সেখানে ছিলেন ববির স্ত্রী তন্যা দেওলও।

সেখানে ববি এবং করিনার মধ্যে একটা দৃশ্যের শ্যুটিং চলছিল। সেটা দেখে ববিতার মনে হয়, ববি ঠিক মতো অভিনয় করছেন না। পরিচালকের কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু মাঝখানে বাধ সাধেন ববিতা। শোনা যায়, তিনি নাকি শ্যুটিং থামিয়ে ববিকে বলতে থাকেন কী ভাবে অভিনয় করতে হবে।
Advertisement
ববিতার আচরণে কিছু মনে করেননি ববি দেওল। তিনি তাঁর বয়সকে শ্রদ্ধা জানিয়ে চুপ করে শুনতে থাকেন বাধ্য ছাত্রের মতোই। তবে ববিতার এই পরিচালক হয়ে যাওয়া ভাল লাগেনি ববির স্ত্রী তন্যার।

শ্যুটিং স্পটে সকলের সামনে মেজাজ হারিয়ে ববিতাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তন্যা। এর পর মেজাজ শান্ত রাখতে পারেননি করিনাও। তিনিও পাল্টা কটূক্তি করেন তান্যার প্রতি।

দু’জনের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হতে থাকে। ববি দেওল এবং ববিতা এক পাশে পড়ে রইলেন। মাঝখান থেকে ঝগড়া করে যেতে লাগলেন করিনা-তন্যা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সে দিন অক্ষয় কুমার ঘটনাস্থলে না এলে দু’জনের মধ্যে হাতাহাতিও হতে পারত।

শেষ অবধি অক্ষয়ের মধ্যস্থতায় দু’জনের ঝগড়া থেমে যায়। কিন্তু ঘটনার জেরে ববি-করিনা সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। ববির সঙ্গে আর কাজ না করার জন্য মেয়েকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে দেন ববিতা।

অন্য দিকে তন্যাও তাঁর স্বামীকে বলেন করিনার সঙ্গে আর একসঙ্গে কাজ না করতে। এই ঝগড়ার পরে ‘দোস্তি’ ছবিতে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল ববি-করিনাকে। কিন্তু সে ছবিতে তাঁরা সই করেছিলেন এই তিক্ততার আগে।

তাঁদের মধ্যে এই তিক্ততার কথা প্রকাশ্যে এসেছিল ২০০৭ সালে, ‘জব উই মেট’ ছবির সময়। এই ছবিতে প্রথমে ববি দেওলের নায়ক হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু করিনা দাবি করেন, ববির বদলে ছবিতে নিতে হবে তাঁর সেই সময়কার প্রেমিক শাহিদ কপূরকে। শাহিদকে নিলে তবেই এই ছবিতে তিনি অভিনয় করবেন স্পষ্ট জানিয়ে দেন করিনা।

শেষ অবধি করিনার শর্তে রাজি হন ছবির পরিচালক ও প্রযোজক। ববি দেওলকে সরিয়ে ছবিতে চলে আসেন শাহিদ।

বক্স অফিসে সুপারডুপার হিট হয়েছিল শাহিদ-করিনার ‘জব উই মেট’।

তন্যা-করিনা ঝগড়ার জন্য সুপারহিট এই ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ হারান ববি দেওল।

পরে সম্পর্ক ভেঙে গেলেও ‘জব উই মেট’-এর সুবাদে শাহিদ এবং করিনার দু’জনেরই কেরিয়ারে নতুন গতি যোগ হয়েছিল।

অন্য দিকে তাঁদের তুলনায় ক্রমেই কেরিয়ারের পথে পিছিয়ে পড়েন ববি দেওল।