দাউদ ইব্রাহিমের আমন্ত্রণ পেয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ঋষি কপূর। কী ভাবে তাঁর আপ্যায়ন করা হয়েছিল, তা পুরনো এক সাক্ষাৎকারে জানান অভিনেতা।
একটি চকচকে ‘রোলস্ রয়েস’ গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছিল ঋষির বাড়ির সামনে। গাড়ি পাঠিয়েছিলেন দাউদ নিজে। গন্তব্যে পৌঁছনোর আগে গাড়িটিকে নানা রাস্তা দিয়ে বার বার ঘুরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন চালক, যাতে দাউদের বাড়ির রাস্তা সহজে চেনা না যায়। অবশেষে অভিনেতা গিয়ে পৌঁছেছিলেন দাউদের সামনে।
খুব সাধারণ ভাবেই তাঁকে স্বাগত জানানো হয়েছিল। কোনও অতিরিক্ত আতিশয্য ছিল না। ঋষি সেই সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “তিনি আমাকে চা আর বিস্কুট খেতে দেন প্রথমে। তিনি নিজে মদ্যপান করেন না। আমাকেও তাই মদ দেননি।” দাউদ সেই দিন তাঁর কাজ ও অপরাধ নিয়েও নাকি কথা বলেছিলেন। তবে তাঁর কথায় কোনও অনুতাপের ছাপ ছিল না। ঋষি বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে নাকি তাঁকে গ্যাংস্টার বলেছিলেন, “আপনার যদি কিছু প্রয়োজন হয়, নির্দ্বিধায় আমাকে জানাবেন।” অবাক হয়েছিলেন ঋষি। এর পরে ১৯৮৯ সালে দুবাইতে ফের দাউদের মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেতা। স্ত্রী নীতু কপূরের সঙ্গে কেনাকাটা করছিলেন ঋষি। সেই সময়ে সামনে এসে হাজির দাউদ। তাঁকে ঘিরে ছিলেন ৮-১০ জন দেহরক্ষী। দাউদের হাতে নাকি মোবাইল ফোনের মতো কিছু একটা ছিল, যা সেই যুগে বেশ বিরল।
আরও পড়ুন:
ঋষিকে দেখেই দাউদ তাঁকে কিছু একটা উপহার দিতে চান। কিন্তু সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন অভিনেতা। দাউদ সম্পর্কে নিজের জীবনীপুস্তকেও ঋষি লিখেছিলেন, “আমার সঙ্গে তিনি সব সময়ে খুব ভাল ব্যবহার করতেন। খুবই আন্তরিক ছিলেন।” দাউদ ইব্রাহিম সম্পর্কিত তথ্যের সঙ্গে যা মেলাতে পারতেন না ঋষি। বইতেই তাই ঋষি লিখেছিলেন, “সব খুব তাড়াতাড়ি বদলে যায়। সত্যিই জানি না, কী এমন হল যে তিনি আমার দেশের সঙ্গে এমন করতে লাগলেন।” দুবাইয়ের পরে আর কখনও দাউদের সঙ্গে দেখা হয়নি ঋষির।