সাল ২০১২। রাজা চন্দ পরিচালিত ‘চ্যালেঞ্জ ২’ ছবিতে দেব আর পূজা বন্দ্যোপাধ্যায় নায়ক-নায়িকা। ছবির একটি গান ‘পুলিশ চোরের প্রেমে পড়েছে’ এখনও পুজোপার্বণে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে বাজে।
কাট টু সাল ২০২৬। জনপ্রিয় গানের মেজাজ ধরা দিয়েছে জ়়ি বাংলার ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’য়। না, গানটি সরাসরি এখানে ব্যবহৃত হয়নি। কিন্তু গানের বিষয় আপাতত ধারাবাহিকের চিত্রনাট্যের বিষয় হয়ে উঠেছে। ধারাবাহিকে দুঁদে পুলিশ অফিসার জিৎ বসু ওরফে ফাহিম মির্জা, চোর ‘নিশা মিত্র’ তথা শ্রুতি দাসের প্রেমে মশগুল! জিৎ রীতিমতো হাঁটু গেড়ে বসে প্রেমপ্রস্তাবও দিয়েছে। দেখে একটু একটু করে গলছে ‘অপরাধী’ নিশার মন।
বড়পর্দার আমেজ ছোটপর্দায় ফিরতেই খুশি দর্শকও। তাঁরা জিৎ-নিশার প্রেমকাহিনি দেখতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, তৃতীয় পক্ষ হয়ে গিয়েছে নিশার বিশ্বস্ত সহকারী ‘ভানু’ রৌনক খান। বেচারা ভানু কোনও দিন মুখ ফুটে বলেই উঠতে পারেনি, সে নিশাকে ভালবাসে! ভানুর কী হবে?
ধারাবাহিকের দৃশ্যে শ্রুতি দাস, ফাহিম মির্জা, রৌনক খান ও আরাত্রিকা মাইতি। ছবি: সংগৃহীত।
দর্শকদের কৌতূহল মেটাতে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল পর্দার ত্রিভুজ প্রেমের তিন অভিনেতা ফাহিম, শ্রুতি, রৌনকের সঙ্গে। চোর-পুলিশের প্রেমের খেলায় অভিনয় করতে গিয়ে ফাহিম কি ছোটপর্দার ‘দেব’ হয়ে উঠলেন? প্রশ্ন শুনে একচোট হেসেছেন অভিনেতা। বলেছেন, “সে রকম একেবারেই না। তবে গতানুগতিক অভিনয়ের চেয়ে নতুন ট্র্যাকে ধারাবাহিকের গল্প এগোচ্ছে। ফলে, অভিনয় করতে ভাল লাগছে।” বাস্তবে কি পুলিশ চোরের প্রেমে পড়ে? অপরাধী যদি সুন্দরী হন...। কথা শেষ হতেই অভিনেতা জানালেন, বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে ‘পুলিশ-চোরের প্রেম’। নেপথ্যে হয়তো অন্য কারণ। অপরাধীকে অপরাধ করা থেকে আটকাতে বা শোধরাতেও তো প্রেমের অভিনয় করা যায়। সে রকমই যে কিছু ঘটছে না, কে বলতে পারে? এরকম কিছু ঘটলে বাস্তবেও কিন্তু সেই ঘটনা ঘটতে পারে।
দর্শক যে এই ‘ট্র্যাক’ উপভোগ করছেন, সে বিষয়ে ফাহিম নিশ্চিন্ত। তাঁর কথায়, “ধারাবাহিক জনপ্রিয় হয় গল্পের ট্যুইস্টে। এই ধারাবাহিকে সেটা প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। জিৎ-নিশার প্রেম দেখে কিন্তু খুশি সবাই।”
কিন্তু নিশার ‘সখা’ ভানুর যে বুক ফেটে যাচ্ছে! রৌনকের কাছে সে কথা তুলতেই তাঁর দাবি, “হ্যাঁ, তা ফাটছে। কারণ, সে-ও নিশাকে ভালবাসে। সৎ পথে ফেরাতে চায়। কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারে না।” এই জায়গা থেকেই ভানুর ভয়, পুলিশকে বাগে আনতে গিয়ে নিশা যদি সত্যিই তার প্রেমে পড়ে, তা হলে কী হবে?
আরও পড়ুন:
তা হলে তো প্রেম বিয়ে পর্যন্ত গড়িয়ে যেতে পারে! তখন তো ভানু ‘তৃতীয় পক্ষ’ হয়ে থেকে যাবে। “সেটা হবে না”, রৌনকের কণ্ঠে যেন ‘ভানু’র আত্মবিশ্বাস! যুক্তি দিয়েছেন, “নিশা বরাবর ভানুকে আশ্বস্ত করেছে, প্রেমের অভিনয় করতে পারে বড়জোর। বিয়ে সে কিছুতেই করবে না।” দর্শকের একাংশ যে ভানু-নিশার মিলন দেখতে চায়, সে কথাও জানাতে ভোলেননি অভিনেতা। বলতে বলতে নিমেষে ফোনের ও পারে রৌনক যেন ‘ভানু’ হয়ে উঠলেন! বললেন, “নিশা শুধুই ভানুর! আজীবন নিশা শুধু ভানুর হয়েই থেকে যাবে!”
যাঁকে নিয়ে দুই পুরুষের টানাপড়েন, সেই ‘নিশা’ ওরফে শ্রুতি কী বলছেন? অভিনেত্রী যে চিত্রনাট্যের এই বাঁকে খুশি, সে কথা লুকোননি। বলেছেন, “আমাদের এই গল্প ছবির সেই জনপ্রিয় গানের যেন পরিপূরক হয়ে উঠেছে। এটা দেখার জন্য দর্শক অনেক দিন অপেক্ষা করেছেন।” পর ক্ষণে নিজেই যেন নিজেকে প্রশ্ন করেছেন, “নিশা কি এত সহজে সাড়া দেবে? ও কি এত সহজে সাড়া বা ধরা দেওয়ার মেয়ে?” আবার এ-ও উপলব্ধি অভিনেত্রীর, ধরা দেওয়ার তাগিদ দুই পক্ষেরই রয়েছে। শুধু বলার অপেক্ষা!
আর এই জায়গা থেকেই ‘ভানু’ পড়েছে ফাঁপরে! শ্রুতির কথায়, “‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা বুঝবেন বিষয়টি। বন্ধুত্ব থেকে যখন প্রেম আসে, তখন মুশকিলে পড়ে দুই বন্ধু। আর আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে, এতে বন্ধুত্ব নষ্ট হয়। যদিও শেষপর্যন্ত এক বন্ধুর পাশে থেকে যায় দ্বিতীয় বন্ধুটিই।” ধারাবাহিকের অন্যতম নায়িকা জানেন না, চিত্রনাট্য কোন দিকে ঘুরবে। তবে চিরাচরিত ত্রিভুজ প্রেমের গল্পের বদলে ‘জোয়ার ভাঁটা’র গল্পে এই যে স্বাদবদল, সেটা চুটিয়ে উপভোগ করছেন ফাহিম, শ্রুতি এবং রৌনক।