১৯৯০-এর দশক। বলিউডের সোনালি সময়। এই দশকেই বহু তারকার উত্থান ঘটেছে বলিউডে, আবার এমনও দেখা গিয়েছে যে, একটিমাত্র হিট ছবি নতুন অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দিয়েছে। এমনই এক জন ছিলেন ফারহিন প্রভাকর। তিনি ফারহিন খান নামেও পরিচিত। একসময়ে তিনি ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে আলোচিত নবাগতাদের অন্যতম ছিলেন। কিন্তু, দর্শক তাঁকে সে ভাবে পেল কই? একটি ব্লকবাস্টার ছবি হাতছাড়া, এক তারকা ক্রিকেটারের সঙ্গে প্রেম এবং যখন বলিউড তাঁকে পরবর্তী তারকা হিসাবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত হল, তত দিনে তিনি নীরবে আলোচনার কেন্দ্র থেকে সরে গেলেন।
জন্মের পরে নাম রাখা হয় ফারহিন খান। ১৯৯২ সালে দীপক বলরাজ বিজ পরিচালিত ‘জান তেরে নাম’ ছবির মাধ্যমে রণিত রায়ের বিপরীতে বলিউডে আত্মপ্রকাশ হয় তাঁর। তাঁদের জুটি দর্শকের কাছে দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। রাতারাতি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তাঁরা। ফারহিনের মুখের সঙ্গে মাধুরী দীক্ষিতের মিল থাকায় অনেকেই তাঁকে “মাধুরীর যমজ” বলেও অভিহিত করতেন। অনেকেই আশা করেছিলেন যে, ফারহিন বলিউডে দীর্ঘ দিন টিকবেন।
প্রথম ছবির পর পরেই তাঁকে শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘বাজ়িগর’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অভিনেত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তাঁকে সেই চরিত্রের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যাতে পরে শিল্পা শেট্টী অভিনয় করেন। কিন্তু, ফারহিন ওই ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। সেই সময়ে তিনি কমল হাসনের বিপরীতে তামিল ছবিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। বক্সঅফিসে ‘বাজ়িগর’ সুপারহিট হলেও ‘কলাইগনন’ বক্সঅফিসে তেমন সাফল্য পায়নি।
একসময়ের অন্যতম আলোচিত নবাগতা ছিলেন ফারহিন। ছবি: সংগৃহীত।
পরবর্তীকালে তিনি হিন্দি ও দক্ষিণী মিলিয়ে একাধিক ছবিতে কাজ করেন। অক্ষয় কুমারের সঙ্গে ‘সৈনিক’, ‘দিল কি বাজ়ি’, ‘নজ়র কে সামনে’র মতো ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এ ছাড়া ‘অগ্নি প্রেম’, ‘ফৌজ’, ‘তহকিকাত’-সহ আরও কিছু ছবিতেও তিনি অভিনয় করেন। একের পর এক ছবিতে কাজ করার সময়েই ফারহিনের সঙ্গে পরিচয় হয় প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মনোজ প্রভাকরের।
ফারহিন ও মনোজের পরিচয় হয় ১৯৯৩ সালে। পরিচয় দ্রুতই প্রেমে পরিণত হয়। সেই সময়ে মনোজ বৈবাহিক সম্পর্কের জটিলতার মধ্যে ছিলেন। পরে ১৯৯৪ সালে তাঁরা গোপনে ‘নিকা’ সারেন, কারণ তখনও মনোজের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ হয়নি তাঁর। তাঁদের দুই সন্তান— রাহিল ও মানবংশ। রাহিল ইতিমধ্যেই অভিনয়জগতে পা রাখার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং বিভিন্ন অডিশনও দিয়েছেন। তাঁদের ছোটছেলে মানবংশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করছে। ২০০৮ সালে মনোজের সঙ্গে তাঁর প্রথম স্ত্রীর আইনি বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। ২০০৯ সালে ফারহিনকে তিনি আবার হিন্দু রীতিতে বিয়ে করেন।
বিয়ের পরে ফারহিন ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রজগৎ থেকে সরে আসেন এবং পরিবারের সঙ্গে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে, তিনি সচেতন ভাবেই অভিনয়ের বদলে পারিবারিক জীবন বেছে নিয়েছিলেন এবং গৃহিণী হিসাবে সন্তুষ্ট। বর্তমানে ফারহিন পরিবার নিয়ে দিল্লিতেই থাকেন। সম্প্রতি তিনি জন আব্রাহামের ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ ছবিতে কাজ করেন। যদিও সেটি একেবারেই একটি ছোট চরিত্র ছিল। তিনি একটি পডকাস্টে জানান যে, তিনি কুমুদ মিশ্রের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, কিন্তু কাহিনির প্রয়োজনে তাঁর দৃশ্যগুলো শেষপর্যন্ত ছবিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়।