• সুচন্দ্রা ঘটক
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আধ ভাঙা প্রেম আর কড়া থ্রিলার, চেষ্টা করেছে মাফিয়া...

Mafia
গোটা সিরিজ ধরে শুধু চরিত্রেরা চরিত্রদের সঙ্গে মাফিয়া খেলেন না, পরিচালক যেন সেই খেলায় যোগ করে নেন দর্শকদেরও। ছবি ফেসবুক থেকে নেওয়া।
মাফিয়া
অভিনয়: অনিন্দিতা বসু, সৌরভ সরস্বত, আদিত্য বক্সী, তন্ময় ধননিয়া, ইশা স্বপ্লিল, মধুরিমা রায় প্রমুখ
পরিচালনা: বিরসা দাশগুপ্ত

মাফিয়া কে?

আদৌ কেউ আছে কি?

না কি এটা নিছকই মনের ভুল?

শেষে গিয়ে ভূতের গল্প হয়ে দাঁড়াবে না তো?  

কোনও ফিল্ম বা ওয়েব সিরিজের নাম যে এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, সত্যিই জি ফাইভের নতুন সিরিজ ‘মাফিয়া’ না দেখলে বোঝা দায়। থ্রিলারের প্রথম শর্ত হল রহস্যটা ধরে রাখা। শেষ পর্যন্ত। মাফিয়া দেখা দরকার অন্তত সেই অ্যাকাডেমিক দিকটি বুঝে নেওয়ার জন্য। শুধু একটি ওয়েব সিরিজের নাম যে কী ভাবে তাড়া করে নিয়ে যেতে পারে দর্শকদের, তা দেখার। গোটা সিরিজ ধরে শুধু চরিত্রেরা চরিত্রদের সঙ্গে মাফিয়া খেলেন না, পরিচালক যেন সেই খেলায় যোগ করে নেন দর্শকদেরও। সকলে মিলে খোঁজ চলে সেই মাফিয়ার, যে কি না আছে সব সঙ্কটের মূলে।
 
 
কলেজের বন্ধুত্ব। সে বন্ধুত্বে ফাটল। তা জোড়া লাগাতে বহু বছর পরে পুরনো স্মৃতি উস্কে দেওয়ার টেকনিক— কোনওটাই নতুন নয়। সঙ্গে রয়েছে আধ-ভাঙা প্রেম। তার উপরে বিয়ে। চেনা ছক, দড়ি টানাটানি সব রয়েছে। ঠিকই। দেখতে দেখতে সে সব কথা এক ঘেয়ে মনে হলে ভুল নয়। জঙ্গলের মধ্যে সাজানো বাংলো। তাতে ভয় ভয় আবহ। প্রথম থেকেই যেন সন্দেহ তৈরি করে গোটা কাজটির উপরে। আর হবে না-ই বা কেন? পুরনো কিছু ‘ডরনা মানা হ্যায়’ গোছের হিন্দি ছবির প্রভাবও অবশ্যই চোখে পড়ে যেতে পারে। সব কিছু হঠাৎ চেনা লাগতে শুরু করতে পারে। সময়টা তবে নষ্টই হল আশঙ্কা করে হতাশ লাগতে পারে।
 

প্লট জটিল করার দৌড়ে মনে থাকবে অনিন্দিতার অভিনয়। ছবি ফেসবুক থেকে নেওয়া।

এ সব হলে দোষ নেই। সত্যিই সবটা নতুন নয়। এই থ্রিলার-থ্রিলার খেলার মাঝে অনেক কিছুই যেন বারবার দেখতে হচ্ছে বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। তবে সে সব মনে পড়ার শেষে একটা প্রাপ্তিযোগ রয়েছে। আট এপিসোডের মাফিয়া সম্পর্কে এটুকু বলাই চলে। পরিচালক বিরসা দাশগুপ্ত এটুকু নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁর দর্শককে শুধু পেন্সিল হাতে বসে থাকতে হবে না কয়েক ঘণ্টার শেষে।

এ দিক-সে দিকের ক্রাইম সিরিজ, গোয়েন্দা গল্পের দ্বারা অনুপ্রেরণার পরেও তো নিজস্ব কিছু দিতে হয় দর্শককে। তা না দিতে পারলে তবে হয় মুশকিল। কিলো দরে তৈরি হওয়া থ্রিলার সিরিজের ভিড়ে, মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারা সে দিক থেকে বেশ কঠিন। কিন্তু এ কথা বলতে দ্বিধা নেই যে, বেশ অনেক দিনের মধ্যে ‘শবর’ ছাড়া এত কড়া থ্রিলার পশ্চিমবঙ্গে অন্তত বানানো হয়েছে বলে মনে পড়বে না অধিকাংশ দর্শকের।

তবে থ্রিলার টান টান হবে, এমনটাও দাবি থাকে। একটা ফ্রেম থেকে পরেরটিতে যাওয়ার মধ্যে কোনও ফাঁক থাকলে ছটফট করবেন দর্শক। একটি খেলা ঘিরে তৈরি হতে থাকা জটিলতায় যেন সেই টান টান ভাবটা মাঝেমধ্যেই আলগা হয়ে যায়। আসলে কিছু গল্পের চলন এপিসোডে ভাগ করা যায় না। ‘মাফিয়া’ও যেন খানিকটা তেমনই। কোথাও কোথাও সে কারণেই অহেতুক লম্বা হয়ে যায় এক-একটি মুহূর্ত। ঘণ্টা আড়াইয়ের একটি ছবি হলে হয়তো এড়ানো যেত সেই বিভ্রাট।

 জঙ্গলের মধ্যে সাজানো বাংলো। তাতে ভয় ভয় আবহ। প্রথম থেকেই যেন সন্দেহ তৈরি করে গোটা কাজটির উপরে। আর হবে না-ই বা কেন? ছবি ফেসবুক থেকে নেওয়া।

আরও পড়ুন: অভিষেকের লাভস্টোরিতে অ্যাথলিট আয়ুষ্মান​

এ ছাড়া আর যা কানে বাজতে পারে, তা হল সংলাপ। সে দিকে আরও একটু যত্ন পড়লে যেন বন্ধুত্বের এই টানাপড়েনের কাহিনি আরও একটু ভাল লাগত দেখতে। অনেক জায়গাতেই যেন একটু পোশাকি হয়ে গিয়েছে বন্ধুদের মধ্যে কথোপকথন। তবে সেই খামতি অনেকটাই আবার পূরণ করে দিয়েছে লোকেশন। সুনসান জঙ্গলের মধ্যে অমন একটি বাড়ি না থাকলে, স্ক্রিনে অতক্ষণ চোখ আটকে রাখা সহজ হত না। তার সঙ্গে অবশ্যই বলতে হয় এক ঝাঁক ঝকঝকে মুখের অভিনয় বেশ মনে রাখার মতো। সকলে মিলে খুবই ভাল খেলেছেন ‘মাফিয়া’। ধরে রেখেছেন সাসপেন্স। ঋষি রূপের তন্ময়, ঋত্বিকের চরিত্রে সৌরভ আর স্যামের চরিত্রে আদিত্য রীতিমতো একে-অপরকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছে দর্শকের সন্দেহের তির নিজের নিজের দিকে ঘোরানোর জন্য। প্লট জটিল করার দৌড়ে পিছিয়ে থাকনেননি নীতিন, অন্দিতা, ইশা, মধুরিমা, অঙ্কিতা, ঋদ্ধিমাও। তবু মাফিয়া দেখা দেওয়ার নাম নেয়নি।
 
আর শেষে কি মাফিয়া এল? কে ধরল কাকে? নাকি খান কয়েক খুনের পরে সব রয়ে গেল ঝাপসা। সে উত্তর আর না-ই বা দেওয়া হল। পরচালকের উপহার দেওয়া সাসপেন্সটা বজায় থাক না।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন