Advertisement
E-Paper

রান্নার গ্যাস ঘিরে উদ্বেগ থাকলেও অভাব নেই! জানাল দিল্লি, ২৯ রাজ্যে শুরু বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ

গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের চাহিদা পূরণ করার জন্য জন্য পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত রয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে সিলিন্ডার বুক করতে শুরু করেছেন। শনিবার এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্র।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ২৩:১৯
বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার।

বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার। —ফাইল চিত্র।

রান্নার গ্যাস সরবরাহ ঘিরে চিন্তা থাকলেও কোনও অভাব নেই। শনিবার ফের তা স্পষ্ট করে দিল কেন্দ্র। জানিয়ে দেওয়া হল, গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের চাহিদা পূরণ করার জন্য পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত রয়েছে। তার পরেও অনেকে শুধুমাত্র আতঙ্কের কারণে সিলিন্ডার বুক করতে শুরু করেছেন। অযথা আতঙ্কিত হয়ে এ ভাবে সিলিন্ডার বুক না-করার জন্য গ্রাহকদের পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে কোনও সময়েই উদ্বেগের পরিস্থিতি ছিল না। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সরবরাহ নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন রাজ্যে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সরবরাহ সাময়িক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। তবে শনিবার কেন্দ্র জানিয়ে দিয়েছে, ইতিমধ্যে ২৯টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুনরায় বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ শুরু হয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানির জোগান অব্যাহত রাখতে উদ্যোগী কেন্দ্র। গত কয়েক দিনের মতো শনিবার বিকেলেও যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বসে পাঁচ মন্ত্রক। উপস্থিত ছিলেন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রক, বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের শীর্ষকর্তারা। পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সুজাতা শর্মাও ছিলেন সেখানে।

সুজাতা জানান, গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের চাহিদা পূরণ করার জন্য জন্য পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত রয়েছে। কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে সিলিন্ডার বুকিংয়ের প্রবণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কী হারে সিলিন্ডার বুকিং হচ্ছে, সেই পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন তিনি। সুজাতা বলেন, “গতকাল বুকিং ছিল প্রায় ৭৫ লক্ষ। এখন তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে প্রায় ৮৮ লক্ষ। আসলে এটি আতঙ্কিত হয়ে বুকিং করার ফল। তা ছাড়া কিছুই নয়।”

বস্তুত, যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে দেশে দিনে প্রায় ৫৫ লক্ষ সিলিন্ডার বুকিং হত। প্রতিদিন সরবরাহ হত প্রায় ৫০ লক্ষ সিলিন্ডার। কেন্দ্র জানাচ্ছে, এখন সিলিন্ডার সরবরাহের হার একই রয়েছে। কিন্তু দৈনিক সিলিন্ডার বুকিং ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় গ্রাহকেরা যাতে অযথা আতঙ্কিত হয়ে বুকিং না করেন, সেই পরামর্শও দেন পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্মসচিব। একমাত্র যখন প্রয়োজন, তখনই সিলিন্ডার বুক করার অনুরোধ করেন সুজাতা।

উদ্ভূত পরিস্থিতি উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে, তা-ও শনিবার জানিয়েছে কেন্দ্র। তবে একই সঙ্গে এ-ও জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং গৃহস্থের এলপিজি সরবরাহকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুজাতা বলেন, “পরিস্থিতি আমাদের সকলের কাছেই চিন্তার। তবে গৃহস্থের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করেছি আমরা। গৃহস্থের সিলিন্ডারকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়েছে। গৃহস্থের জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ চালিয়ে গিয়েছি আমরা।”

গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের উপরে যাতে কোনও প্রভাব না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে গত কয়েক দিন ধরেই দেশে এলপিজি প্রস্তুতের হার বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্র। প্রথমে ১০ শতাংশ, তার পরে ২৫ শতাংশ, এবং ২৮ শতাংশ পর্যন্ত তা বৃদ্ধি করা হয়। শনিবার সুজাতা জানান, এলপিজি প্রস্তুতের হার ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বাণিজ্যিক সিলিন্ডার নিয়েও দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্র। পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারগুলিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সরবরাহের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব রাজ্য সরকারগুলির উপর দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৯টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাইপ্‌ড ন্যাচরাল গ্যাস (পিএনজি) ব্যবহারে আরও বেশি জোর দিয়েছে কেন্দ্র। যাদের কাছে পিএনজি এবং এলপিজি উভয়েরই সংযোগ রয়েছে, তারা আপাতত এলপিজি সিলিন্ডার পাবেন না বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। এই ধরনের গ্রাহকদের (বাণিজ্যিক এবং গৃহস্থ) এলপিজি সিলিন্ডার ফেরত দিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলিন্ডার জমিয়ে রাখা বা কালোবাজারিরও বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে। এর বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা শুরু হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘সারপ্রাইজ় ভিজ়িট’ শুরু হয়েছে। শনিবার মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা, কর্নাটক-সহ বিভিন্ন রাজ্যে কালোবাজারির বিরুদ্ধে অভিযান চলেছে। শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশেই প্রায় ১৪০০টি জায়গায় ‘সারপ্রাইজ় ভিজ়িট’ করেছেন কর্তৃপক্ষ। রুজু হয়েছে ২০টি এফআইআর। তার মধ্যে ১৯ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপও করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন গ্যাস অফিসের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে বুকিং করার বা সিলিন্ডার নেওয়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছে। এ ভাবে অযথা ভিড় না করার জন্যও দেশবাসী পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র। সশরীরে গ্যাস অফিসে না গিয়ে এসএমএস বা হোয়াট্‌সঅ্যাপ বা ফোনের মাধ্যমে গ্যাস বুক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, “বুকিং করা বা সিলিন্ডার বুঝে নেওয়ার জন্য গ্যাস অফিসগুলির সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কোনও প্রয়োজন নেই। গ্যাস অফিসগুলি গ্রাহকদের বাড়িতেই সিলিন্ডার পৌঁছে দেয় এবং ভবিষ্যতেও এই পরিষেবা অব্যাহত থাকবে।”

একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের বিষয়েও দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্র। দেশবাসীকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র। জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেট্রল এবং ডিজ়েল মজুত রয়েছে। কোনও পেট্রল পাম্পে একেবারেই জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না— এমন একটি ঘটনাও ঘটেনি বলে শনিবার জানিয়েছে কেন্দ্র।

LPG Gas Ministry of Petroleum and Natural Gas LPG cylinders
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy