ছবি: সুই ধাগা মেড ইন ইন্ডিয়া

পরিচালনা: শরত কাটারিয়া

অভিনয়: অনুষ্কা শর্মা, বরুণ ধবন, রঘুবীর যাদব, নমিত দাস, যামিনী দাস

ছোট শহর। অতি সাধারণ নিম্নবিত্ত যাপন। ঘরে-বাইরে নিয়মিত সংগ্রাম। বাড়িতে বাপের ধ্যাতানি। বাইরে বসের চড়থাপ্পড়। দু’মিনিট বৌয়ের সঙ্গে শান্তিতে গল্প করা দূরে থাক, কোনও দিন একসঙ্গে বসে দুপুরের খাওয়াটুকুও সারেননি! তবু মওজি’র (বরুণ ধবন) জীবন দর্শন ‘সব কুছ বড়িয়া হ্যায়’। শুধু মওজি কেন, শেষমেশ ‘সুই ধাগা মেড ইন ইন্ডিয়া’র সারমর্ম, জীবনে যা-ই হোক, ‘সব কুছ বড়িয়া হ্যায়’।

উপলক্ষ, বসের ছেলের বিয়ে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে হাজির হয় মওজি। মনোরঞ্জনের জন্য রোজের মতো সে দিনও মওজিকে কুকুর বানিয়ে আনন্দ লোটে সবাই। প্রথম বার মওজির স্ত্রী মমতার (অনুষ্কা শর্মা) চোখের সামনে ঘটে সবটা। বাড়ি ফিরে অপমানিত মমতার প্রশ্ন: “ওরা তোমাকে রোজ কুকুর বানায়?” হেলদোলহীন মওজির উত্তর: “রোজ কে কুকুর হবে? কোনও দিন গলির ষাঁড় বানায়, কখনও বাঁদর!” রোজের এই অপমান, লাঞ্ছনার প্লে-অ্যাক্ট থেকে তার স্বামীর কি তবে কোনও নিষ্কৃতি নেই? মমতার চোখের জল মওজির অত্মসম্মানের জন্ম দেয়। শুরু নিজের পায়ে দাঁড়াবার লড়াই। সেলাই মেশিনের জন্য মাইলের পর মাইল সাইকেল চালানো কিংবা ফুটপাথে মেশিন বসিয়ে ব্যবসার চেষ্টা। মায়ের অসুস্থতার কারণে আবার চাকরি নেওয়া। বড় কোম্পানির প্রতারণা! অবশেষে নিজের কোম্পানি খোলা এবং কম্পিটিশন জয়ের আনন্দ দিয়ে হ্যাপি এন্ডিং।

‘সুই ধাগা’র সমস্যা হল, ছবিটি বড্ড বেশি প্রেডিক্টেবল। শুরু থেকেই দূরবর্তী দৃশ্যগুলির আন্দাজ করা যায়। শরত কাটারিয়ায় প্রথম ছবি ‘দম লাগাকে হাইসা’র গল্পের মোচড় ‘সুই ধাগা’য় অনুপস্থিত। শরতের মওজি এক রাতের মধ্যে ম্যাক্সি বানিয়ে যতই তাক লাগিয়ে দিক, চোখের পাওয়ায় বাড়লে সুই-এ সুতো ভরাতে যে ভাবে বার বার হাত কাঁপে, এ ছবির কাহিনি ঠিক তেমনই নড়বড়ে, কম্পমান। তবু যত ক্ষণ এ ছবি মওজি-বাবুজি’র ছিল, ভালই চলছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ আনকোরা কারিগর দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাশন ফেস্টিভ্যালের পোশাক বানানো কিংবা ভারতের জিনিসে কেন চায়না ছাপ জাতীয় দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা যথেষ্ট বিরক্তিকর! তাই সাধারণ স্বামী-স্ত্রী’র অসাধারণ গল্প হয়ে ওঠার কিছু উপাদান থাকলেও ‘সুই ধাগা’র কোনও উত্তরণ ঘটে না!


ছবির দৃশ্যে বরুণ-অনুষ্কা।

ছবির অন্যতম চর্চার বিষয় ছিল অনুষ্কার নো মেকআপ লুক। সোশ্যাল নেটওয়ার্ক অনুষ্কার নতুন লুকের মিমে ছেয়ে গিয়েছিল। মমতা হিসেবে সর্ব ক্ষণ ঘোমটা আঁটা অনুষ্কাকে কিন্তু বেশ মানিয়েছে। সুজিত সরকারের ‘অক্টোবর’-এ তাক লাগিয়েছিলেন বরুণ। ‘সুই ধাগা’-তেও চমকের ধারা অব্যাহত। তবে সেলাই কম্পিটিশনে বরুণের খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দৃশ্যটি শাহরুখ সিগনেচার মনে করায়। এই মেলোড্রামাটি না করলেই পারতেন। ছবির আরও দুই প্রাপ্তি রঘুবীর যাদব ও যামিনী দাস। ছোট ছোট এক্সপ্রেশন, ডায়লগ থ্রোয়িং-এ মাত করে  রাখলেন দুঁজনে। মাঝেমধ্যে ফুঁড়ে বেরোলেন লেখক শরত কাটারিয়া। স্ক্রিপ্ট  নড়বড়ে, তবে ডায়লগ রাইটিং-এ কোনও খামতি নেই! ‘দম লাগাকে হাইসা’র ‘মোহ মোহকে ধাগে’র রেশ ফিরিয়ে আনে এ ছবির ‘চাও লাগা’। পুরনো অনু মালিককে ফিরে পেতে দারুণ লাগছে।

আরও পড়ুন, ‘সুই ধাগা’ দেখে রিভিউতে কী লিখলেন বিরাট?

হল থেকে বেরিয়ে একটা ফিল গুড রেশ থাকে মনে। পুজোর আগে হাল্কা মনোরঞ্জনের জন্য ‘সুই ধাগা’ মন্দ নয়!

(সিনেমার প্রথম ঝলক থেকে টাটকা ফিল্ম সমালোচনা - রুপোলি পর্দার বাছাই করা বাংলা খবর জানতে পড়ুন আমাদের বিনোদনের সব খবর বিভাগ।)