খাবার খাওয়ার পর এঁটো বাসন ফেলে রাখেন না। কারণ, উচ্ছিষ্ট খেতে সেখানে পোকামাকড়ের আবির্ভাব হতে পারে। কিন্তু তাড়াহুড়োতে বাসন মাজার ভিজে স্পঞ্জটি পরিষ্কার করা কিংবা শুকোতে দেওয়ার কথা মনে রাখেন কি? জলে ভেজা সাবানের উপরেই রেখে দেন। সেই স্পঞ্জটিই ধুয়ে নিয়ে পরের দিন আবার ব্যবহার করেন। বাড়ির মাসকাবারি মালপত্রের সঙ্গে বাসন মাজার স্পঞ্জ আসে নিয়ম করে, কিন্তু খুব প্রয়োজন না পড়লে ব্যবহৃত স্পঞ্জটি বদলানো হয় না বেশির ভাগ বাড়িতেই। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই অভ্যাসের কারণেই ব্যাক্টেরিয়াজনিত রোগের বাড়বাড়ন্ত হয়। শুধুই পেটের সমস্যা নয়, দিনের পর দিন ধরে একই স্পঞ্জ ব্যবহার করতে থাকলে ক্যানসারের মতো মাারণরোগেরও ঝুঁকি বাড়ে।
বাসন মাজার স্পঞ্জগুলি যে ব্যাক্টেরিয়ার আঁতুড়ঘর, তা বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি চিকিৎসকেরা বলছেন, স্পঞ্জগুলিতে কমোডের চাইতেও ২০০ গুণ বেশি ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়া লুকিয়ে থাকে। এগুলির সঙ্গে থাকে খাবারের উচ্ছিষ্ট। দিনের পর দিন সেগুলি স্পঞ্জের মধ্যে পচতে শুরু করে। এবং ব্যাক্টেরিয়ার আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়। ক্যানসারের চিকিৎসক তরঙ্গ কৃষ্ণ বলেন, ‘‘আর্দ্র আবহাওয়া ই-কোলাই এবং স্টাফ ব্যাক্টেরিয়াগুলির বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ। ভিজে স্পঞ্জে স্বাভাবিক কারণেই এদের বাড়বাড়ন্ত হয়। এই ব্যাক্টেরিয়ার কারণে পেটের সংক্রমণ আর লিভারে প্রদাহ হতে পারে। দিনের পর দিন এই ব্যাক্টেরিয়াগুলি শরীরে প্রবেশ করলে ক্যানসারও হতে পারে। হেঁশেলের সবচেয়ে অপরিষ্কার জিনিসটি দিয়েই আমরা দিনের পর দিন বাসনপত্র পরিষ্কার করি।’’
রোগ ঠেকাতে কী করণীয়?
১) এক থেকে দু’সপ্তাহ অন্তর স্পঞ্জ বদলে ফেলুন।
২) প্রতি বার বাসন মাজার পর স্পঞ্জটি ঈষদুষ্ণ জলে সাবান দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। জীবাণুমুক্ত করতে প্রতি রাতে ভিনিগারে ডুবিয়ে রাখুন। তার পর শুকনো করে তবেই ব্যবহার করুন।
৩) দু-তিন দিন অন্তর ছোট কাচের পাত্রে তরল সাবান দিয়ে মাইক্রোঅয়েভে কিছুটা গরম করে নিন। তার পর মিনিটখানেক ওই স্পঞ্জটি ভিজিয়ে রাখুন। এতে স্পঞ্জের মধ্যে থাকা ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া সহজেই মরে যাবে।
৪) চিকিৎসক তরঙ্গের মতে, খুব ভাল হয় যদি এই স্পঞ্জের বদলে সিলিকনের স্ক্রাবার ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলি দ্রুত শুকিয়ে যায়, এবং ব্যাক্টেরিয়াকে প্রতিরোধ করতে পারে।