অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে এ বার কাজ করতে দেওয়া হোক। বৃহস্পতিবার তাঁর অনুপস্থিতিতেই সংবাদমাধ্যমের সামনে আর্জি জানালেন দেব। নিজের ছবিতে অনির্বাণকে নেওয়া হবে কি না, তা নিশ্চিত করে না বললেও, ‘রঘু ডাকাত’ ছবির সহকর্মীর হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের কাছে সকলের সামনে ক্ষমাও চেয়ে নিলেন সাংসদ-অভিনেতা।
ফেডারেশনের সঙ্গে অনির্বাণের দ্বন্দ্ব বাংলা বিনোদনদুনিয়ার সকলেরই জানা। শোনা যায়, তিনি নাকি ইন্ডাস্ট্রিতে ‘নিষিদ্ধ’। তাঁর ছবিতে অনির্বাণের উপস্থিতি নিয়ে দেব এ দিন সাফ বলেন, “এমন কোনও কথা হয়নি। আমি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলাম। কিন্তু, দাদা এখনও ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কিচ্ছু বলেননি। তবে কালকে খবর বেরোনোর পর থেকে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছি, এটা (অনির্বাণকে অভিনয়ে নিলে) হলে তো খারাপ হবে না।”
সাংবাদিকদের মুখোমুখি দেব। নিজস্ব চিত্র।
দেবের ‘রঘু ডাকাত’ ছবিতে অনির্বাণ অভিনয় করেছেন। তা হলে কি এ বারেও সে রকম কোনও সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে? দেব স্পষ্ট বলেন, “‘দেশু৭’-এ অনির্বাণ থাকবে কি থাকবে না এখনও জানি না। কারণ, ও যে মাপের অভিনেতা তার জন্য যোগ্য চরিত্র দরকার।”
এ দিন ইম্পার অফিসে স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেব ছাড়াও যোগ দিয়েছিলেন স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, স্বরূপ বিশ্বাস, প্রযোজক নিসপাল সিংহ রানে, রানা সরকার, প্রেক্ষাগৃহের মালিক ও পরিবেশক শতদীপ সাহা, পঙ্কজ লাডিয়া, অরিজিৎ দত্ত প্রমুখ।
দেব কি অনির্বাণকে নিয়ে এ দিন স্বরূপের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেছেন? অভিনেতা-পরিচালক কবে কাজে ফিরবেন? জবাবে অভিনেতা বলেন, “অনির্বাণকে নিয়ে কোনও কথা হয়নি।” এর পরেই অনির্বাণের কাজে ফেরা প্রসঙ্গে দেব বলেন, “তিন বারের সাংসদ বলুন, মেগাস্টার বলুন, টলিউডের অন্যতম কর্মী বলুন বা সাধারণ একজন মানুষ— যে নজরে আমায় দেখুন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, সবার কাছে অনির্বাণের হয়ে ক্ষমা চাইছি। ছেলেটাকে শান্তিতে বাঁচতে দিন। ওকে কাজ করতে দিন।” তাঁর আরও আবেদন, বিনোদনদুনিয়ার অধিকাংশ মানুষ মধ্যবিত্ত ঘর থেকে এসেছেন। কাজ করতে না দিলে প্রত্যেকের বিপদ। তাই একা অনির্বাণ নয়, প্রত্যেকে যাতে কাজ করতে পারেন তার অনুরোধও জানান তিনি।