Advertisement
E-Paper

সুশান্ত সিংহ রাজপুত করতেন, আলিয়া, সমান্থা, হুমা, অনন্যারাও করেন জার্নালিং! আপনি কি করবেন?

আলিয়া ভট্ট প্রবল ব্যস্ততার মধ্যেও রোজ মনে করে জার্নালিং করেন। সুশান্ত সিংহ রাজপুতও নাকি একটা সময়ে নিয়মিত জার্নালিং করতেন বলে জানিয়েছিলেন তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা অঙ্কিতা লোখণ্ডে। কিন্তু জার্নালিং বিষয়টি আদতে কী?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১০
জার্নালিং কি মনের ওষুধ?

জার্নালিং কি মনের ওষুধ? গ্রাফিক— আনন্দবাজার ডট কম।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনায় ‘জার্নালিং’ কথাটি প্রায়শই শোনা যায়। হলিউডে তো বটেই, বলিউডেও তারকারাও নানা সময়ে জার্নালিং করার কথা বলেছেন। এ-ও জানিয়েছেন যে, জার্নালিং তাঁদের জীবন বদলে দিয়েছে।

সমান্থা রুথ প্রভুর কথাই ধরা যাক। তিনি বলেছিলেন, ‘‘জীবনের কঠিন সময় পেরোতে আমাকে সাহায্য করেছে জার্নালিং। গত দু’বছর ধরে এই অভ্যাস আমাকে ভাল রেখেছে।” হুমা কুরেশি জানিয়েছেন, তিনি প্রতি দিন সকালে কাজ শুরু করার আগে জার্নালিং করেন। জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ় প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন জার্নালিংয়ের সাহায্য নিয়ে। অনন্যা পাণ্ডে জানিয়েছেন, তিনি খুব ছোটবেলা থেকে জার্নালিং করছেন, আর দিনের কোনও না কোনও সময় ওই কাজটি না করলে তাঁর মনে হয় দিনটাই সম্পূর্ণ হয়নি। সুশান্ত সিংহ রাজপুতও নাকি একটা সময়ে নিয়মিত জার্নালিং করতেন বলে জানিয়েছিলেন তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা অঙ্কিতা লোখণ্ডে। আলিয়া ভট্ট আবার প্রবল ব্যস্ততার মধ্যেও রোজ মনে করে গ্র্যাটিচ্যুড জার্নালিং করেন। সেটি কী জিনিস সে কথা পরে। তার আগে জানতে হবে জার্নালিং বিষয়টি আদতে কী?

বিষয়টি অত্যন্ত পুরনো। ডায়েরি লেখা। মনোবিদেরা বলেন, এই অভ্যাস এতটাই শক্তিশালী যে মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখার ক্ষেত্রে এটি এক ধরনের থেরাপির মতো কাজ করে। বডোদরার এক মনোরোগ চিকিৎসক জ়িল ত্রিপাঠী বলছেন, ‘‘জার্নালিং হল নিজের আবেগকে প্রকাশ করার একটা নিরাপদ জায়গা। আপনি যা ভাবছেন, যা কারও সামনে বলে উঠতে পারছেন না বা হয়তো ভাবছেন, বললে আপনার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়ে যাবে, লোকে আপনাকে ভাল বা মন্দ ভেবে বিচারসভা বসাবে, তখন আপনি আপনার মনের কথা একটি সাদা পাতায় লিখতে পারেন। কারণ সেখানে কোনও রকম ভয়ের জায়গা নেই।’’

জার্নালিং করলে কী কী উপকার হতে পারে?

১. সারাদিনের দুশ্চিন্তা বা নেতিবাচক ভাবনাগুলো কাগজে লিখে ফেললে মনের ভার অনেকখানি কমে যায়। এটি আপনার মস্তিষ্ককে শান্ত করতে সাহায্য করে। দুশ্চিন্তা থেকেও মুক্তি দেয়।

২. মনের গভীরে থাকা চিন্তা এবং অনুভূতিগুলো সাদা পাতায় চোখের সামনে লেখা থাকলে নিজের সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট হবে।

৩. নিজের কথা লিখতে গেলে নিজের লক্ষ্য বা স্বপ্নের কথাও স্বাভাবিক ভাবে প্রকাশ পাবে। এতে স্বপ্নপূরণের যে ‘রোডম্যাপ’ বা পথ তা-ও বেছে নিতে সুবিধা হবে। কাজে বাড়তি মনোযোগ দিতেও সাহায্য করে এই অভ্যাস।

৪. জার্নালিংয়ের একটি বিশেষ ধরন আছে। তাকে বলা হয় গ্র্যাটিচ্যুড জার্নালি, যা আলিয়া করেন। এই ধরনের জার্নালিংয়ে মনের সব কথা না লিখলেও চলবে। বদলে দিনের শেষে শুধু লিখতে হবে তিনটি ভাল ঘটনা বা মানুষ বা যে কোনও ভাল বিষয়ের কথা, যার জন্য আপনি জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ। মনোরোগ চিকিৎসক বলছেন, ‘‘এই পদ্ধতিতে জার্নালিং করলে জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হয়। এটি হতাশা কাটাতেও সাহায্য করে।’’

৫. কোনও সমস্যায় পড়লে তা লিখে ফেললে অনেক সময় বিষয়টি অনেক সহজ মনে হয়। মনোরোগ চিকিৎসক বলছেন, ‘‘অনেক সময়ে আপাতদৃষ্টিতে জটিল এবং বড় মনে হওয়া সমস্যাও তুচ্ছ মনে হতে পারে লিখে ফেলার পরে। এতে ঝোঁকের মাথায় ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতাও কমে। বদলে যুক্তিসঙ্গত সমাধান খোঁজার প্রতি মনোযোগী হন মানুষ।’’

Journaling
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy