ঠান্ডা আটকাতে শীতে পায়ে মোজা পরছেন। আর তাতেই উদ্ভব নতুন সমস্যার। মোজার ইলাস্টিকের জায়গায় পায়ের ত্বকে ভরে গিয়েছে লালচে ফুস্কুড়ি। সেখানে মাঝেমধ্যেই জ্বালা করছে নয়তো প্রাণান্তকর চুলকোচ্ছে। কিন্তু এমন হলে একেবারেই ওই র্যাশ বা ফুস্কুড়িতে নখ লাগাবেন না বা বার বার চুলকোবেনও না। কারণ তাতে সংক্রমণ ছড়াতে পারে পায়ের ত্বকের অন্য অংশেও। শীতকালীন ওই র্যাশ নিয়ে সমাজমাধ্যমে আলোচনা করেছেন ভার্জিনিয়ার এক ত্বকের চিকিৎসক এবং এমডি এমি ভগ্যান। তিনি বলছেন, ‘‘শীতকালে মোজার ইলাস্টিকের জায়গায় পায়ে লালচে ফুস্কুড়ি বা চুলকানি হওয়া খুব অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। একে এগজ়িমা ভেবে ভুল করবেন না। এই ধরনের সমস্যার একটি অন্য নাম আছে। একে বলা হয় কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস। শীতে চাপা পোশাক পরার কারণে এবং ত্বক শুষ্ক হওয়ায় এমনটা হতে পারে।“
কেন এমন হচ্ছে?
অতিরিক্ত টাইট: মোজার ইলাস্টিক খুব বেশি টাইট হলে সেখানে রক্ত সঞ্চালনে বাধা পায়। দীর্ঘ ক্ষণ এক জায়গায় চাপ পড়লেও ত্বকের নির্দিষ্ট অংশ ফুলে লাল হয়ে যেতে পারে। তার উপর যদি ওই অংশের ত্বক শুষ্ক হয় এবং তাতে ক্রমাগত চাপা ইলাস্টিক ঘষা খেতে থাকে তবে শুষ্ক ত্বকে ক্রমাগত ঘর্ষণ এবং অতিরিক্ত চাপের কারণে র্যাশ বা ফুস্কুড়ি হতে পারে।
ঘাম বসলে: মোজার নিচে ঘাম জমে থাকলে সেখানে ব্যাক্টেরিয়া বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন হতে পারে, যা থেকে লালচে দানা দানা র্যাশ দেখা দেয়।
অ্যালার্জি: অনেক সময় মোজার কাপড়ে থাকা সিন্থেটিক তন্তু, যেমন— নাইলন বা ল্যাটেক্স থেকে ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে। মোজায় ডিটারজেন্ট জমে থাকলে তা থেকেও ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে।
কী করবেন?
১. মোজা: সব সময় সুতির মোজা পরার চেষ্টা করুন। সুতির কাপড় ঘাম শুষে নিয়ে ত্বককে শুষ্ক রাখে। ফলে ঘাম জমে ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাকজনিক সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে কম। পায়ে খুব চেপে বসে থাকবে এমন টাইট ইলাস্টিকের মোজাও এড়িয়ে চলুন।
২. পরিচ্ছন্নতা: প্রতি দিনের মোজা প্রতি দিন ধুয়ে নিন এবং প্রতি দিন কাচা মোজা পরুন। মোজা ধোয়ার সময় মৃদু ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে পরিষ্কার করুন। ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে নিন যাতে সাবান লেগে না থাকে।
৩. ত্বক: বাড়িতে ফেরার পর মোজা খুলে পা ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। র্যাশ বা ফুস্কুড়ির জায়গায় বার বার হাত দেবেন না বা চুলকোবেন না। এতে ইনফেকশন ছড়াতে পারে।
৪. সমাধান: চুলকানি বেশি হলে, ওই জায়গায় বরফ ঘষতে পারেন। তাতে আরাম হবে। ক্যালামাইন লোশনও ব্যবহার করতে পারেন। তবে কোনও ক্রিম বা লোশন লাগানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিলে ভাল হয়।