সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের কর্মকাণ্ড রুপোলি পর্দায় তুলে ধরার দায়িত্ব বিধায়ক-পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর। বুধবার, মকরসংক্রান্তির সন্ধ্যায় নন্দন ২-এ শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়-অঙ্কুশ হাজরা অভিনীত ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’ ছবিটি দেখলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ মহুয়া মৈত্র, বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, রাজা চন্দ, নিসপাল সিংহ রানে, রানা সরকার, প্রিয়াঙ্কা সরকার, সন্দীপ্তা সেন, ভরত কল প্রমুখ।
এক ঘণ্টার এই ছবির পরিচালক রাজ। তথ্যচিত্রের চেনা রাস্তায় না হেঁটে পরিচালক আশ্রয় নিয়েছেন ঘরোয়া গল্পের। সাধারণ মানুষের সংসারজীবন উন্নত করতে শাসকদল কী ভাবে শহর থেকে শহরতলি হয়ে গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে, তারই জীবন্ত দলিল এই ছবি। রাজের ছবি বরাবর অনুভূতির সমস্ত স্তর ছুঁয়ে। ছবি দেখে বেরিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে সে কথাই জানিয়ে গেলেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, ভরত কল, রোহন ভট্টাচার্য, জন ভট্টাচার্য, সাংসদ জুন মালিয়া।
যাঁর নির্দেশে এই ছবি তৈরি, সেই অভিষেক কী বললেন ছবি দেখে? গাঢ় নীল সোয়েটার আর ধূসর ট্রাউজ়ারে সেজে ওঠা অভিষেক আনন্দবাজার ডট কমকে বলেছেন, “রাজ ভীষণ ভাল ছবি বানিয়েছেন। এক ঘণ্টার তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে আমাদের দলীয় কর্মকাণ্ড, সমস্ত প্রকল্পের কথা।” তাঁর মতে, শাসকদলের কাজ, প্রকল্প নিয়ে এখনও সমাজের সাধারণ মানুষের মনে অনেক বিভ্রান্তি ছড়ানো। এই ছবি সেই ভ্রান্তি দূর করবে, এমনই আশা ডায়মন্ডহারবারের সাংসদের। তিনি উপস্থিত সমস্ত মহিলা সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে বলেন, “এই ছবি দেখে মহিলারাও অনেক কিছু জানতে পারবেন, শিখতে পারবেন। মূলত, আপনাদের জন্যই এই ছবি বানানো। তাই অনুরোধ, আপনারা অবশ্যই ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’ দেখবেন।”
‘লক্ষ্মী এল ঘরে’ দেখার পর রাজ চক্রবর্তী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি মুহূর্তে নিজেকে ঘষেমেজে ধারালো করেছেন অভিষেক। নিয়মিত শরীরচর্চা করে চেহারাতেও বদল এনেছেন। আগামী দিনে অভিষেককে কি তাঁর রাজ্য রুপোলি পর্দায় দেখতে পাবেন?
আনন্দবাজার ডট কমের এই প্রশ্নে হেসে ফেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। হাসতে হাসতে বলেন, “আমি অবশ্যই সিনেমা দেখতে ভালবাসি। শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক। কিন্তু নিজে কোনও দিন অভিনয় করব না।” তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন শুভশ্রী এবং অঙ্কুশের অভিনয়ের। জানান, ছবিতে খরাজ মুখোপাধ্যায়, সোহিনী সেনগুপ্তের অভিনয় চোখ জুড়ানো। ছবিশেষে তিনি কথা বলেন ছবির সঙ্গে যুক্ত কলাকুশলীদের সঙ্গে।
প্রায় একই কথা শোনা যায় আর এক দলীয় সাংসদের মুখেও। মহুয়াও আপ্লুত রাজ পরিচালিত ছবি দেখে। তাঁর কথায়, “একটি তথ্যচিত্রকে পূর্ণ দৈর্ঘ্য ছবির মাত্রা দিয়েছেন রাজ। আমরা গত ১৫ বছর ধরে কী ভাবে বাংলার উন্নতিসাধনের চেষ্টা করেছি, তারই দলিল এই ছবি। প্রত্যেকে অসাধারণ অভিনয় করেছেন।”
আরও পড়ুন:
এ দিনের ছবি প্রদর্শনে অবশ্য দেখা মেলেনি অঙ্কুশ, খরাজ বা সোহিনীর। উপস্থিত ছিলেন না ইম্পা এবং স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসও। রাজ-শুভশ্রীর সঙ্গে দেখা গিয়েছে বিধায়ক-অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী, সদ্য দলে যোগ দেওয়া অভিনেত্রী পার্নো মিত্র, সন্দীপ্তা সেন, সৌমিতৃষা কুণ্ডুকে।
‘লক্ষ্মী এল ঘরে’ নিয়ে কী বক্তব্য রাজ-শুভশ্রীর? আগামী দিনে নায়িকাকে কি রাজনীতিতে দেখা যাবে? কারণ, নির্বাচনী প্রচারে রাজ এবং আর এক সাংসদ পার্থ ভৌমিকের হয়ে এর আগে প্রচারে যোগ দিতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ দিন দু’জনেই নীরব। রাজ অবশ্য এর আগে আনন্দবাজার ডট কম-কে একাধিক বার বলেছেন, “নিজের কাজ নিয়ে নিজে ঢাক পেটাতে পছন্দ করি না। আমার কথা আমার কাজ। আর আমার দর্শক। যাঁদের ভালবাসা আমায় নতুন ছবি বানানোর উৎসাহ জোগায়।”