Advertisement
E-Paper

‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’! খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর মুখ খুলল চিন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে আন্তর্জাতিক আইন মনে করিয়ে কড়া বার্তা

চিনের বিদেশ মন্ত্রক রবিবারের বিবৃতিতে জানায়, ইরানে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। অবিলম্বে ওই অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর জন্য সংঘর্ষবিরতি প্রয়োজন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬ ১২:২৫
(বাঁ দিক থেকে) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই, ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

(বাঁ দিক থেকে) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই, ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর মুখ খুলল চিন। ইরানে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ হামলার নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছে সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক। অবিলম্বে সংঘর্ষবিরতির আর্জি জানিয়েছে সব পক্ষের কাছে।

চিনের বিদেশ মন্ত্রক রবিবারের বিবৃতিতে জানায়, ইরানে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। অবিলম্বে ওই অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর জন্য সংঘর্ষবিরতির আহ্বান জানিয়েছে বেজিং। তিন পক্ষকেই সংযত হয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং ভূখণ্ডের অখণ্ডতাকে শ্রদ্ধা করা উচিত।’’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নীতিকে ‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’ বলেছে বেজিং।

চিনের সরকারি সংবাদসংস্থা ইরানের উপর মার্কিন ও ইজ়রায়েলি হামলার নিন্দা করেছে কড়া ভাষায়। বলা হয়েছে, ‘‘এই হামলা একটি সার্বভৌম জাতির বিরুদ্ধে নির্লজ্জ আগ্রাসন এবং ক্ষমতা ও আধিপত্যের রাজনীতি।’’ রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ, আন্তর্জাতিক আইন আমেরিকা লঙ্ঘন করেছে বলেও দাবি বেজিংয়ের।

ইজ়রায়েল এবং ইরান থেকে চিনা নাগরিকদের অবিলম্বে বেরিয়ে আসার পরমার্শও দিয়েছে চিন। ইজ়রায়েলে অবস্থিত চিনা দূতাবাস জানিয়েছে, টাবা সীমান্ত হয়ে নাগরিকেরা যেন মিশরে চলে যান। নিরাপত্তার কারণেই ইজ়রায়েলে আর থাকা চলবে না। এ ছাড়া, ইরানে অবস্থিত চিনা নাগরিকদের দূতাবাসের বার্তা, যত দ্রুত সম্ভব ইরান ছাড়তে হবে। বিমান পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ায় সড়কপথে আজ়ারবাইজান, আর্মেনিয়া, তুরস্ক এবং ইরাকের বিকল্প চারটি রাস্তা বলে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকে ইরানে হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। পরে জানা যায়, তাদের সহায়তা করছে আমেরিকাও। যৌথ বাহিনীর প্রথম হামলাতেই খামেনেইয়ের মৃত্যু হয় বলে মনে করা হচ্ছে। তেহরান রবিবার সকালে জানিয়েছে, খামেনেই শনিবার ভোরে নিজের দফতরে ছিলেন। সেখানে যৌথ বাহিনীর হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর কন্যা, নাতনি, জামাইও মারা গিয়েছেন এই হামলায়। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কঠোর প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

মার্কিন ও ইজ়রায়েলি হামলার জবাবে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে পাল্টা হামলা শুরু করেছিল ইরান। নিশানায় ছিল বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরবেও ইরানের বোমা পড়েছে। শনিবার তার জেরে খালি করে দিতে হয় বুর্জ খলিফাও। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে বিমান পরিষেবা ব্যাহত। ইরান বন্ধ করে দিয়েছে তাদের আকাশসীমা। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরেও ইরানে হামলা থামাচ্ছে না আমেরিকা-ইজ়রায়েল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে শান্তি ফেরাতে আরও এক সপ্তাহ বোমাবর্ষণ চলবে।

China US Iran US Israel Relation Israel Iran War Ayatollah Ali Khamenei Donald Trump Benjamin Netanyahu
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy