ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর মুখ খুলল চিন। ইরানে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ হামলার নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছে সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক। অবিলম্বে সংঘর্ষবিরতির আর্জি জানিয়েছে সব পক্ষের কাছে।
চিনের বিদেশ মন্ত্রক রবিবারের বিবৃতিতে জানায়, ইরানে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। অবিলম্বে ওই অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর জন্য সংঘর্ষবিরতির আহ্বান জানিয়েছে বেজিং। তিন পক্ষকেই সংযত হয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং ভূখণ্ডের অখণ্ডতাকে শ্রদ্ধা করা উচিত।’’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নীতিকে ‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’ বলেছে বেজিং।
আরও পড়ুন:
চিনের সরকারি সংবাদসংস্থা ইরানের উপর মার্কিন ও ইজ়রায়েলি হামলার নিন্দা করেছে কড়া ভাষায়। বলা হয়েছে, ‘‘এই হামলা একটি সার্বভৌম জাতির বিরুদ্ধে নির্লজ্জ আগ্রাসন এবং ক্ষমতা ও আধিপত্যের রাজনীতি।’’ রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ, আন্তর্জাতিক আইন আমেরিকা লঙ্ঘন করেছে বলেও দাবি বেজিংয়ের।
ইজ়রায়েল এবং ইরান থেকে চিনা নাগরিকদের অবিলম্বে বেরিয়ে আসার পরমার্শও দিয়েছে চিন। ইজ়রায়েলে অবস্থিত চিনা দূতাবাস জানিয়েছে, টাবা সীমান্ত হয়ে নাগরিকেরা যেন মিশরে চলে যান। নিরাপত্তার কারণেই ইজ়রায়েলে আর থাকা চলবে না। এ ছাড়া, ইরানে অবস্থিত চিনা নাগরিকদের দূতাবাসের বার্তা, যত দ্রুত সম্ভব ইরান ছাড়তে হবে। বিমান পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ায় সড়কপথে আজ়ারবাইজান, আর্মেনিয়া, তুরস্ক এবং ইরাকের বিকল্প চারটি রাস্তা বলে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকাল থেকে ইরানে হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। পরে জানা যায়, তাদের সহায়তা করছে আমেরিকাও। যৌথ বাহিনীর প্রথম হামলাতেই খামেনেইয়ের মৃত্যু হয় বলে মনে করা হচ্ছে। তেহরান রবিবার সকালে জানিয়েছে, খামেনেই শনিবার ভোরে নিজের দফতরে ছিলেন। সেখানে যৌথ বাহিনীর হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর কন্যা, নাতনি, জামাইও মারা গিয়েছেন এই হামলায়। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কঠোর প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মার্কিন ও ইজ়রায়েলি হামলার জবাবে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে পাল্টা হামলা শুরু করেছিল ইরান। নিশানায় ছিল বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরবেও ইরানের বোমা পড়েছে। শনিবার তার জেরে খালি করে দিতে হয় বুর্জ খলিফাও। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে বিমান পরিষেবা ব্যাহত। ইরান বন্ধ করে দিয়েছে তাদের আকাশসীমা। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরেও ইরানে হামলা থামাচ্ছে না আমেরিকা-ইজ়রায়েল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে শান্তি ফেরাতে আরও এক সপ্তাহ বোমাবর্ষণ চলবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
সংঘর্ষবিরতি, ৩০ হাজার কোটির বিনিয়োগ পরিকল্পনা! আমেরিকা এবং ইরানের সংঘাতের অবসানে খসড়া চুক্তিতে আর কী রয়েছে?
-
‘চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, ঘোষণার অপেক্ষা’! সমঝোতা প্রসঙ্গে দাবি ট্রাম্পের, জানান, খুলবে হরমুজ়! কী মত ইরানের
-
সুযোগ পেলেই চোরাগোপ্তা হামলা! সাবেক পারস্যের হাতে মার খাওয়ার প্রতিশোধ নিচ্ছে ‘নিরীহ’ আরব রাষ্ট্র
-
হরমুজ় প্রণালীতে চলল গুলি! ইরান-আমেরিকার মধ্যে বাড়ল উত্তেজনা, সংঘর্ষবিরতিতে কি ইতি? কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
-
আমেরিকার হৃৎস্পন্দন বন্ধের হুঙ্কার, হরমুজ়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ধ্বংসে ‘আত্মঘাতী তিমি’দের নামাচ্ছে ইরান!