লোকের মুখে নতুন নাম পেয়েছিলেন ভারতীয় সেন্সর বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান পহেলাজ নিহালনি। ছকের বাইরে ছবি দেখলেই কাঁচি চালানোর চোটে, তাঁকে ‘সংস্কারী বন্ড’ বলে নেটিজেনরা। এ বার সেই পহেলাজ নিহালনির বক্তব্য, ‘ইন্দু সরকার’ ছবিতে কাঁচি চালানোর জন্যই নাকি তাঁর চাকরি গিয়েছে! অভিযোগের আঙুল সরাসরি কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির দিকে।

ঘটনাটা ঠিক কী?

পদ থেকে সরে যাওয়ার এক সপ্তাহ বাদে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন সেন্সর বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান। শনিবার ইউটিউবের চ্যানেল লেহরান টিভিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে নিহালনি বলেছেন, ‘‘যখন থেকে মধুর ভাণ্ডারকরের ছবি ইন্দু সরকার পাশ করতে অস্বীকার করি, তখন থেকেই স্মৃতির বিষ নজরে পড়ে যাই। স্মৃতি ইরানি সরাসরি ফোনে জানতে চান কেন ছবি পাশ করালাম না। জানিয়েছিলাম যা করেছি গাইডলাইন মেনেই। ...আমি টার্গেট হয়ে গিয়েছিলাম।’’

আরও পড়ুন, স্মৃতি ইরানির সিদ্ধান্তে শুভেচ্ছা-টুইট শাহরুখের

আসলে, প্রেমের কাহিনির মাঝেই সত্তরের দশকে দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থার রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের টুকরো টুকরো ছবি রয়েছে ইন্দু সরকারে। যা নিয়ে ইন্দিরা গাঁধী সরকারের ভূমিকার ‘ভুল ব্যাখ্যা’ হয়েছে বলে তীব্র প্রতিবাদে নেমেছিল কংগ্রেস। ট্রেলার রিলিজের পর থেকেই ছবিতে রাজনীতির রং লেগে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে পহেলাজ নিহালনির অভিযোগ, বিজেপির শাসনকালে, কংগ্রেস জমানার সেই ‘নিপীড়ন’-এর ছবি পাশ করাতে অস্বীকার করার জন্যই স্মৃতি ইরানি তাঁকে বোর্ড প্রধানের পদ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। 

আরও পড়ুন, চলতি বছর কোন বলিউডি ছবি কেমন ব্যবসা করল? দেখে নিন

গত বছর জানুয়ারি মাসে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন-এর চেয়ারম্যান পদে যোগ দেন পহেলাজ নিহালনি। চলতি বছর ১১ অগস্ট তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ভারতীয় সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান হন বিজ্ঞাপন নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার প্রসূন জোশী। এই গোটা জার্নিতেই ছবি মুক্তি নিয়ে একাধিক বার বিতর্কে জড়িয়েছিলেন নিহালনি। তার জেরেই তাঁকে সরানো নিয়ে জল্পনা শোনা গিয়েছিল ইন্ডাস্ট্রিতে। যদিও পহেলাজের অভিযোগ নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।