দিনভর প্রোমোশনে ব্যস্ত। ‘পরী: নট আ ফেয়ারিটেল’-এর প্রোমোশন। আজই ছবির মুক্তি। কলকাতায় আছেন, অথচ অফিসে যাওয়া হল না বলে হালকা টেনশন। ফোনের চার্জ ফুরিয়ে এসেছে। কলকাতার পাঁচতারা হোটেলের ঘরে চার্জার খুঁজছিলেন অভিনেতা। তিনি পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ফোন চার্জে দিয়ে কিছুটা রিল্যাক্সড ভঙ্গিতে এসে বসলেন চেয়ারে। বলুন…

‘পরী’ তো সিভিতে পাঁচ নম্বর বলিউড ছবি?
পরমব্রত: (একটু ভেবে, গুনতে গুনতে) হ্যাঁ, পাঁচ নম্বর। তবে ‘অনুকূল’ ধরলে ছয়।

‘পরি…’র পরম কেমন?
পরমব্রত: খুব শান্ত, সাদামাটা একটা বাঙালি ছেলে। যে পুরনো বাড়িতে থাকতে ভালবাসে। নিজের মতো করে। বেশিরভাগ ইয়াং জেনারেশনকে এখন যেমন দেখি, তেমন নয় ঠিক। আমিও একসময় ছিলাম এরকম (হাসি)। মানে আমার সঙ্গে এই জায়গাটায় মিল রয়েছে। গল্পের বেশিরভাগটাই এই দুটো ছেলেমেয়েকে নিয়ে, মানে আমি আর অনুষ্কা।

অফারটা যখন এল, রাজি হয়েছিলেন কি অনুষ্কা শর্মার প্রোডাকশন বলে?
পরমব্রত: আসলে দেড় দিনের মধ্যে সব ফিক্স হয়েছিল। তখনও জানতাম না কে কোন চরিত্র করছে। পরে শুনলাম অনুষ্কা লিড করছে। আমি মেল লিড। তবে হ্যাঁ, যদি এমন হত খুব গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র কিন্তু সেভেন্থ লিড, খুব গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র কিন্তু নাইনথ লিড— তা হলে হয়তো ভেবে দেখতাম।

আরও পড়ুন, প্রযোজক অনুষ্কাকে নিয়ে কেমন অভিজ্ঞতা বাঙালি পরিচালকের

সেটা বলিউডের বড় প্রোডাকশন হাউজ হলেও?
পরমব্রত: হ্যাঁ। কারণ বড় প্রোডাকশন হাউজ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু চরিত্রটাও তো দেখতে হবে।

কিন্তু তবুও সে ভাবে দেখলে এই মুহূর্তে আপনার কেরিয়ারগ্রাফে বলিউড খুব ইমপর্ট্যান্ট। মানে ছয়, চার হচ্ছে তো ক্রমাগত।
পরমব্রত: (ভুরু কুঁচকে) জানি না। তবে একটাই বলিউড প্রজেক্ট মনে হয় ভুল সিলেকশন ছিল।

কোনটা?
পরমব্রত: ইয়ারা সিলি সিলি। বাকিগুলো ঠিকঠাক।


‘পরী’র লুকে অনুষ্কা শর্মা।

আর টলিউড? কোথায় আপনি?
পরমব্রত: কেন? নিজের ছবি করছি। প্রোডাকশন হাউজ চালাচ্ছি। সেখানে ওয়েবের জন্য অনেক নতুন ধরনের কনটেন্ট প্রোডিউস করছি। আর এটার ক্রিয়েটিভ পার্টটা পুরোটাই আমি নিজে দেখি। এখান থেকেই পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি ‘সোনার পাহাড়’ শেষ করলাম।পরের ছবি শুরু করলাম। সেখানে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয়ও করছি। 

কিন্তু অন্য পরিচালকদের ছবিতে অভিনেতা পরমব্রত কোথায়? অফার নেই?
পরমব্রত: (মুচকি হাসি) এটা একটা মজার বিষয়। আসলে ছোট ইন্ডাস্ট্রির একটা সমস্যা আছে। কেউ একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ করলে অনেকের সমস্যা হয়। মুম্বইতে এটা নেই। ওখানে তুমি যদি ঠিকঠাক আউটপুট দিতে পার, তা হলে ১৫ ঘণ্টা কাজ করো। কিন্তু এখানে সেটা নয়।

আরও পড়ুন, ‘অপ্রিয় সত্যি বলে ফেললে প্রিয়পাত্রী হওয়া যায় না’

সমস্যাটা কোথায় হল?
পরমব্রত: যখনই আমি অনেক রকম কাজ একসঙ্গে করতে শুরু করলাম, তখনই ইন্ডাস্ট্রির লোক ভাবল যে অভিনয়ে আর পরমের খুব একটা মন নেই। বাঙালি তো চিরকালই একটু জেঠু টাইপ (হাসি)। ফলে ‘আরে, এ ভাবে হবে না’, ‘অভিনয়টা মন দিয়ে করলে পারত’… এ সব নানা উপদেশ কানে আসতে থাকল। বিশ্বাস করুন, সেগুলোর আমার কোনও প্রয়োজন ছিল না। ফলে একটা নেগেটিভ পরম ভাইব অনুভব করছিলাম। সে সময় আমার নিজের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ছবি ‘হেমন্ত’ সে ভাবে ওয়ার্ক করল না। তখন লোকে আরও বলার সুযোগ পেল, ‘হু হু… বলেছিলাম তো’, ‘দেখেছো, জানতাম এটাই হবে।’ এ সব বলতে শুরু করল। কিন্তু সে সময়ই কম বাজেটের ছবি ‘বাস্তুশাপ’ বা মাল্টিস্টারার ‘জুলফিকর’ ভাল ব্যবসা করেছিল। সে সব লোকে বলল না। যেহেতু ‘হেমন্ত’ আমার সোলো ছিল সেটা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেল।

এটা কোন সময়?
পরমব্রত: ওই ২০১৬-র মাঝামাঝি। তারপর সিনারিওটা আবার বদলেও গেল।


‘পরী’তে পরমব্রত এবং অনুষ্কা।

যেমন? সেই বদলটা টের পেলেন কখন?
পরমব্রত: ধরুন ২০১৭-র শেষ। ‘ফেলুদা’ হল, ‘পরী’ হল।নতুন প্রযোজকদের ছবি ‘আবার যকের ধন’, ‘সমান্তরাল’ও দর্শকদের ভাল লাগল। তখন আবার ওই লোকগুলোই জাস্ট উল্টো কথা বলতে শুরু করল। আমার নিজের জন্য এই ফেজটা দেখা, লোকগুলোকে চেনা খুব দরকার ছিল।

পরিস্থিতি বদলেছে বলছেন, কিন্তু টলিউডে আপনার হাতে ছবি কোথায়?
পরমব্রত: এখনই বলতে পারছি না। কিন্তু দু’একটার খবর দিতে পারব বোধহয়। আসলে এখনও সই করিনি। আর হিন্দি এখনই কিছু করছি না।

আরও পড়ুন, বিয়ে করে কি কেরিয়ারে পিছিয়ে পড়লেন? মুখ খুললেন সমতা

‘পরী’র ইউএসপিটা কী?
পরমব্রত: দেখুন, ভাল হরর ফিল্ম বলতে আমরা যেটা বুঝি, সেটা ভারতে নেই। হরর বলতেই কোথাও সেক্স বা খুব চিপ কিছু এতদিন দেখেছেন দর্শক। ‘পরী’ সেই ধারণাটাই একেবারে বদলে দেবে।

শুটিংয়ে কখনও কি অনুষ্কা বিরাটের কথা বলতেন?
পরমব্রত: দেখুন অনুষ্কা আদ্যন্ত প্রফেশনাল একজন মানুষ। তবে বিরাটের প্রসঙ্গ নিশ্চয়ই আসত। সেটা খুব পার্সোনাল লেভেলে। বলাটা ঠিক হবে না। আমি বরং অন্য একটা সিক্রেট বলতে পারি।

আরও পড়ুন, ‘হনিমুন’ নিয়ে ব্যস্ত শুভশ্রী বললেন, ‘বরটা ফেঁসে গিয়েছে’!

প্লিজ বলুন…
পরমব্রত: অনুষ্কা টিমের এমন একজন যে আমার নামটা প্রপারলি উচ্চারণ করতে পারে। যখনই ডাকত ‘পরমব্রত’, মানে পুরো নামটা ধরেই ডাকত। আর ওর সবচেয়ে প্রিয় বাংলা শব্দ হল ‘কোথায়’। ও যখন তখন যে কোনও কথার মাঝে বলে ‘কোথায়’। আমরা ঘাবড়ে যেতাম, ‘কোথায়’ মানে? এসব বলতাম। ও কিন্তু শব্দটার মানে জানে। তবুও মাঝে মধ্যেই ‘কোথায়’ বলাটা অনুষ্কা প্রায় হ্যাবিট করে ফেলেছিল (হাসি)।