×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৮ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

ছবিতে হাতেখড়ি চুম্বনদৃশ্যে, বাবার দ্বিতীয় বিয়ের মতো সৎ ভাইবোনকে নিয়েও নীরব অকৃতদার রাহুল

নিজস্ব প্রতিবেদন
০৮ এপ্রিল ২০২১ ১১:২৭
বলিউডের সুদর্শন নায়কদের মধ্যে তাঁর বাবা ছিলেন অন্যতম। দাদাও নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। কিন্তু জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে রাহুল খন্না রয়ে গেলেন তাঁর বাবা ও দাদার থেকে অনেক দূরেই।

শৈশবে বাবার সঙ্গ এবং খ্যাতি থেকে বঞ্চিতই ছিলেন রাহুল। তার জন্য শুধু ব্যস্ত সূচি নয়। দায়ী ছিল সংসারের প্রতি বিনোদের বৈরাগ্যও। জীবনের অর্থ খুঁজতে বিনোদ চলে গিয়েছিলেন ওশো রজনীশের আশ্রমে। সংসার এবং পরিবার ছেড়ে জীবনের একটা বড় পর্বে বিনোদ ছিলেন আশ্রমিক।
Advertisement
পরে অবশ্য ফিরে এসেছিলেন তিনি। তখন তাঁর দুই ছেলে বড় হয়ে গিয়েছেন। বাবার সান্নিধ্য না পেলেও তাঁর মতো অভিনেতা হতেই চেয়েছিলেন রাহুল। তাই মুম্বইয়ে ইন্টারন্যাশাল স্কুল, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের পরে নাটক নিয়ে পড়াশোনা করতে তিনি চলে যান নিউ ইয়র্ক।

 নিউ ইয়র্কের লি স্ট্র্যাসবার্গ থিয়েটার ইনস্টিটিউট এবং ম্যানহাটনের স্কুল অব ভিসুয়াল আর্টস-এ পড়াশোনা করেন তিনি। ৩ বছর আমেরিকায় অভিনয় নিয়ে উচ্চশিক্ষার পরে রাহুল জানতে পারেন এমটিভি এশিয়া নতুন মুখ খুঁজছে।
Advertisement
অডিশন দিয়ে এমটিভি-র ভিডিয়ো জকি মনোনীত হন রাহুল। ইউটিউব-পূর্ব সেই যুগে অল্পবয়সিদের মধ্যে মিউজিক চ্যানেলের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। জকিদের মধ্যে রাহুল ছিলেন দর্শক-শ্রোতাদের পছন্দের শীর্ষে। জনপ্রিয় শোগুলির সঞ্চালনার দায়িত্ব ছিল তাঁর।

কাজের সূত্রে এর পর রাহুলকে সিঙ্গাপুর পাঠিয়ে দেয় এমটিভি। সে সময় রাহুলের ভাই অক্ষয়কে বলিউডে লঞ্চ করেন বিনোদ খন্না। বড় ছেলের জন্যেও তাঁর আলাদা পরিকল্পনা ছিল। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ ছবিতে তিনি রাহুলকে লঞ্চ করবেন বলে ভেবেছিলেন।

কিন্তু অক্ষয়ের প্রথম ছবি ‘হিমালয় পুত্র’ বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে এর পর বিনোদ ঠিক করেন তিনি আর রাহুলকে লঞ্চ করবেন না। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ ছবিটি অধরাই থেকে যায়।

পরিবর্তে রাহুল মন দেন মঞ্চাভিনয়ে। নাটকে অভিনয় তিনি উপভোগই করছিলেন। সে সময় দীপা মেহতা তাঁকে সুযোগ দেন ‘আর্থ ১৯৪৭’ ছবিতে। আমির খান-নন্দিতা দাস জুটির এই ছবিতে সহ-নায়ক ছিলেন রাহুল।

একে বিপরীতে নন্দিতার মতো বলিষ্ঠ অভিনেত্রী, তার উপর প্রথম বার ছবিতে অবিনয়। রাহুল বেশ নার্ভাস ছিলেন। প্রথম দিনের শ্যুটিং বাতিল হয়ে যায়। দ্বিতীয় দিন প্রথমেই রাহুলকে বলা হয় নন্দিতার সঙ্গে চুম্বনদৃশ্যে অভিনয় করতে।

নবাগত রাহুলের যাতে কোনওরকম অস্বস্তি না হয়, প্রথম থেকেই সচেষ্ট ছিলেন পরিচালক দীপা। চুম্বনদৃশ্যে রাহুলের অভিনয় পছন্দ হয় পরিচালকের। উতরে গিয়ে স্বস্তি পান রাহুল নিজেও।

১৯৯৯ সালে মুক্তি পায় ‘আর্থ ১৯৪৭’। সমান্তরাল ছবিতে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করা রাহুল প্রথম থেকেই ছবি নিয়ে ছিলেন খুঁতখুঁতে। বাণিজ্যিক ছবির তুলনায় তাঁর বেশি ভাল লাগত বিষয়বস্তুসমৃদ্ধ ছবিই।

এর পর দীপার ‘ভবন্দর’-এ অভিনয় করেন। ‘বলিউড হলিউড’-এ লিজা রে-এর সঙ্গে রাহুলের জুটি জনপ্রিয় হয়। বাড়তে থাকে রাহুলের অনুরাগী সংখ্যা। কিন্তু তাঁর ছবির সংখ্যা বিশেষ বাড়ল না।

বার্তাবাহী বিশেষ ছবি পছন্দ হলেও কিছু বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করেছিলেন রাহুল। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘এলান’, ‘রকিব’ এবং ‘দিল কবাডি’। কিন্তু বক্স অপিসে বিশেষ সফল হয়নি ছবিগুলি।

‘লভ আজ কাল’ ছবিতে অবশ্য রাহুল তাঁর ভক্তদের প্রত্যাশা কিছুটা হলেও পূর্ণ করতে পেরেছিলেন। ‘ওয়েক আপ সিড’ ছবিতে রাহুলের উপস্থিতি ছাপিয়ে গিয়েছিল নায়ক রণবীরকেও।

সিনেমার পাশাপাশি টিভিতেও তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু ছবির সংখ্যার তুলনায় রাহুল সবসময় গুণগত মানের উপরেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই তাঁর কাজ কম, কিন্তু অন্যরকম। যেখানেই কাজ করেছেন, নিজের সেরাটুকু উজাড় করে দিয়েছেন বিনোদ খন্নার জ্যেষ্ঠপুত্র।

তবে ভাই অক্ষয়ের মতো তিনিও ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখতে ভালবাসেন। বিনোদের ওশো রজনীশের আশ্রমে থাকা থেকে বাবা মায়ের বিচ্ছেদ, কোনও কিছু নিয়েই আলোচনা তাঁদের না-পসন্দ।

মডেল গীতাঞ্জলি তালেয়ার খানের সঙ্গে বিনোদের ১৪ বছরের দাম্পত্য ভেঙে যায় ১৯৮৫ সালে। এর পর বিনোদ বিয়ে করেন কবিতাকে। বিনোদের জীবনের এই টানাপড়েন নিয়েও রাহুল-অক্ষয় কিছু বলতে চাননি। নীরব থেকেছেন সৎ ভাই-বোন সাক্ষী এবং শ্রদ্ধাকে নিয়েও।

অভিনয়ের পাশাপাশি রাহুলের অন্যতম শখ লেখালেখি। নিজের ব্লগ ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তিনি লেখেন। ভাই অক্ষয়ের মতো রাহুলও অকৃতদার। জীবনকে উপভোগ করছেন একাকিত্বের ঘেরাটোপেই।