Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

দরিদ্র দুধ ব্যবসায়ীর ছেলে থেকে সাংসদ, তারকা রবি কিশনের সঙ্গে নাগমার সম্পর্কে আপত্তি ছিল না স্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১১:৪০
‘‘আমি ফেলে দেওয়া পয়সা নিই না’’—দিওয়ার ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের এই বিখ্য়াত সংলাপ তাঁর দারুণ লাগত ছোটবেলায়।  সেই শৈশব কেটেছিল পাঁচ ভাইবোনের সঙ্গে, মুম্বইয়ের সান্তাক্রুজের এক ঘিঞ্জি এলাকার ছোট্ট ঘরে। সান্তাক্রুজেই ১৯৬৯-এর ১৭ জুলাই জন্ম রবীন্দ্র শ্যামনারায়ণ শুক্লর। যিনি কয়েক বছর পরে বিনোদন দুনিয়ায় পরিচিত হবেন রবি কিশন নামে।

রবির বাবা ছিলেন পুরোহিত। সঙ্গে দুধের দোকানও চালাতেন। রবির যখন বছর দশেক বয়স, তাঁর বাবার সঙ্গে ঝগড়া হয় কাকার। ব্য়বসা গুটিয়ে রবির বাবা সপরিবার চলে গেলেন গ্রামের বাড়িতে। বিহার-উত্তরপ্রদেশের সীমানায় জৌনপুর জেলার প্রত্যন্ত গ্রামে তাঁদের আদিবাস ছিল। সেখানেই চলে যান তাঁরা।
Advertisement
জৌনপুরের গ্রামে সাত বছর থাকেন রবি কিশন। কিন্তু গ্রামে থাকতে একটুও ভাল লাগত না তাঁর। চোখে ভাসত মুম্বইয়ের জীবন। কানে বাজত অমিতাভের বিভিন্ন ছবির সংলাপ। পড়াশোনায় কোনওদিনই বিশেষ মন ছিল না রবি-র। ভাল লাগত রামলীলায় সীতা সাজতে।

এদিকে বাবার ইচ্ছে, ছেলে পারিবারিক দুধের ব্যবসায় শামিল হোক। কিন্তু রবির সে ইচ্ছেও ছিল না। তাঁর দু’চোখে অন্য় স্বপ্ন। যদিও বাবার কথা অমান্য করায় মারধরের হাত থেকেও রেহাই পেতেন না।
Advertisement
শেষ অবধি মায়ের কাছ থেকে পাঁচশো টাকা নিয়ে জৌনপুর থেকে মুম্বই পালিয়ে এলেন রবি। থাকতে শুরু করলেন পুরনো ঠিকানার ঘরেই। বন্ধু রীধেশ দেশমুখের সাহায্যে পরিচিতি বাড়ল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে।

১৯৯২ সালে বি গ্রেডের একটি ছবি ‘পীতাম্বর’-এ অভিনয় করলেন রবি। পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন পাঁচ হাজার টাকা।  এর পরের কয়েক বছরে ‘জখমি দিল’,‘অগ্নি মোর্চা’, ‘জাস্টিস চৌধুরি’-সহ বেশ কয়েকটি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি।

কিন্তু পরিচিতি বা জনপ্রিয়তা অধরাই থেকে যায়। এক দশকেরও বেশি সময় কাজ করার পরে রবি কিশন পরিচিতি পান ২০০৩-এ। সলমন খানের সঙ্গে ‘তেরে নাম’ ছবিতে অভিনয়ের পরে।

পরিচিতি তৈরি হলেও বলিউডের প্রথম সারির নায়কদের মধ্য়ে কোনওদিন পা রাখতে পারেননি রবি। একদিন তাঁর কাছে ভোজপুরী ছবিতে অভিনয় করার প্রস্তাব আসে। কিন্তু বলিউড থেকে সরে গিয়ে আঞ্চলিক ছবিতে অভিনয় করতে দ্বিধা ছিল
রবির।

মায়ের কথায় সেই দ্বিধা দূর হয়। রবিকে তাঁর মা বলেন গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য ভোজপুরী ছবিতে অভিনয় করতে। তাঁরা বাড়িতে অওয়ধি কথ্যরীতিতে কথা বলতেন। ফলে ভোজপুরী ভাষা আয়ত্ত করতেও সমস্যা হয়নি রবি কিশনের।

ভোজপুরী ছবিতে অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে যেন রবি কিশনের জীবনে ম্যাজিক হল। কয়েকটি ছবিতে অভিনয়ের পরেই তিনি সুপারস্টার হয়ে গেলেন। ঘিঞ্জি এলাকার ছোট্ট ঘরের বদলে তাঁর নতুন ঠিকানা হল মুম্বইয়ের বিশাল বাংলো।

ভোজপুরী ছবির পাশাপাশি তিনি অভিনয় করতেন তেলুগু, তামিল ও কন্নড় ছবিতেও। ভোজপুরী ছবির তারকা হওয়ার পরে  রবি অভিনয় করেছেন ‘ওয়েলকাম টু সজ্জনপুর’, ‘ফির হেরাফেরি’, ‘লাক’, ‘মানি হ্য়ায় তো হানি হ্যায়’, ‘রাবণ’,‘ওয়েলডান আব্বা’, ‘তনু ওয়েডস মনু’, ‘বুলেট রাজা’, ‘এজেন্ট বিনোদ’,‘মুক্কাবাজ’-সহ বেশ কিছু ছবিতে।

বলিউডে সইফ আলি খান এবং কোরিয়োগ্রাফার গণেশ আচার্য তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু।  সুপারস্টার হওয়ার পরে তিনি অংশ নিয়েছেন ‘ঝলক দিখলা যা’ এবং ‘বিগ বস’-এর মত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো-এ। ২০০৭-এ ‘স্পাইডার ম্যান’-এর ভোজপুরী সংস্করণে তিনি ডাবিং করেছিলেন মূল চরিত্র পিটার পার্কারের সংলাপেই।

অভিনেতা-জীবনে খ্যাতি ও পরিচিতির মধ্যেই পালাবদল। রাজনীতিতে এলেন রবি কিশন। যোগ দিলেন কংগ্রেসে। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করলেন। কিন্তু জৌনপুর কেন্দ্রে ভোট পেলেন মাত্র ৪.২৫ শতাংশ। তিন বছর পরে ২০১৭-এ তিনি যোগ দেন বিজেপিতে। ২০১৯  লোকসভা নির্বাচনে গোরক্ষপুর কেন্দ্র থেকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সমাজবাদী পার্টির প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হন রবি কিশন।

সম্প্রতি তিনি  মাদক প্রসঙ্গে  সংসদে বলেন, বলিউডে মাদকের ভাল রকম ব্যবহার হয়। এনসিবি-র প্রশংসা করে তিনি সরকারের কাছে মাদককাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করার অনুরোধও করেন। এখানেই থেমে যাননি অভিনেতা। দাবি করেন,
ভারতের যুবসমাজকে ধ্বংস করার জন্য চিন এবং পাকিস্তানই নাকি এই নেশা ছড়িয়ে দিচ্ছে তাঁদের মধ্যে।

এরপরেই জয়া গর্জে ওঠেন রবির বিরুদ্ধে। বর্ষীয়ান অভিনেত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ বলেন, “শুধুমাত্র কয়েকজনের জন্য পুরো ইন্ডাস্ট্রিকেই কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। রবির মন্তব্য শুনে আমি লজ্জিত বোধ করছি।” যে হাত খাওয়াচ্ছে, তাকেই কামড়াচ্ছে, কটাক্ষের তির ছুঁড়ে দেন রবি কিশনের দিকে।

রবির মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এক সাক্ষাৎকারে অনুরাগ বলেন, “আমার শেষ ছবি মুক্কাবাজ-এ অভিনয় করেছেন রবি । ‘জয় শিবশঙ্কর’, ‘জয় ব্যোম ভোলে’ বলে দিন শুরু হতো ওঁর। আর সে সময়েই গাঁজা খেতেন রবি। নিয়মিত খেতেন। সারা দুনিয়া তাঁর এই অভ্যাসের কথা জানেন। ইন্ডাস্ট্রিতে এমন একজনও নেই, যার অজানা যে রবি গাঁজা খেতেন। হতে পারে এখন তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। এখন উনি মন্ত্রী। হতে পারে নিজেকে ‘শুদ্ধ’ করেছেন তিনি।

অনুরাগের এই অভিযোগ উড়িয়ে দেন রবি।  কেরিয়ারের মতো রবির ব্য়ক্তিগত জীবনও বর্ণময়। রবির স্ত্রী প্রীতি বিনোদন দুনিয়ার কেউ নন। প্রীতি এবং চার সন্তানের ঘেরাটোপে রবি আদ্য়ন্ত ফ্যামিলি ম্য়ান। কিন্তু অভিনেত্রী নাগমার সঙ্গে রবির সম্পর্ক কার্যত ওপেন সিক্রেট ইন্ডাস্ট্রিতে।

নাগমা কোনও দিন এই সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলেননি। কিন্তু রবি কিশেণ বলেন,তাঁর স্ত্রী প্রীতি এই সম্পর্ক নিয়ে ওয়াকিবহাল। কারণ তিনি স্ত্রীর কাছে কিছু গোপন করেন না। এক সাক্ষাৎকারে রবি জানিয়েছিলেন, তাঁর বাড়িতে এসে প্রীতির সঙ্গে রান্নাও করতেন নাগমা। কোনও আপত্তি তো নয়ই। বরং, নাগমার সঙ্গে একই ছবিতে অভিনয়ের জন্য স্ত্রী প্রীতি তাঁকে উৎসাহ দিতেন বলে
জানিয়েছিলেন রবি। তবে নাগমার সঙ্গে রবির সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।