Advertisement
E-Paper

একের পর এক টুইটে বিতর্কের ঝড়, ঋষির ধ্যানভঙ্গ হবে কি

২০০২ সালে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনাল জেতার পর লর্ডসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে জার্সি উড়িয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সৌরভের সেই জার্সি ওড়ানোর ছবি পোস্ট করে ঋষি টুইটারে লেখেন, “২০০২ সালে ইংল্যান্ডকে লর্ডসে হারিয়ে যে ভাবে সেলিব্রেট করেছিলেন সৌরভ, তার পুনরাবৃত্তি দেখার অপেক্ষায় রয়েছি।”

রাইমা চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০১৭ ১৫:২০

অবিশ্বাস্যই বটে! অভিনয়ের পর, বিতর্কিত টুইট করে কোনও অভিনেতা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন। কথা হচ্ছে ঋষি কপূরের। কথায় কথায় টুইট! না, যেমন-তেমন করে মনের কথা বলে ফেলা নয়। রং চড়িয়ে, মনের মাধুরী মিশিয়ে রীতিমতো ‘গা-জ্বালানো’ টুইট। যাকে বলে ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য। ঋষির টুইটের চোটে, নেটিজেনরা আজকাল তাঁকে ‘মিস্টার কন্ট্রোভার্সি’ কপূর নাম দিয়েছে।

‘মেরা নাম জোকার’-এ শিশু অভিনেতা হিসেবে জাতীয় পুরস্কারের খেতাব জয় করে অভিনয় জগতে যাঁর হাতে-খড়ি, সেই ঋষি কপূরের হঠাৎ হল কী?

কথায় আছে, নানা মুনি, নানা মত। তা বলে এমন মন্তব্য? ঋষির লেটেস্ট টুইটের মধ্যমণি ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনালের ক্লাইম্যাক্সের আবহে রীতিমতো বারুদের কাজ করেছিল সেই টুইট।

আরও পড়ুন: সোশ্যাল মিডিয়া এ বার ঋষির এই নাম দিল!

২০০২ সালে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনাল জেতার পর লর্ডসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে জার্সি উড়িয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সৌরভের সেই জার্সি ওড়ানোর ছবি পোস্ট করে ঋষি টুইটারে লেখেন, “২০০২ সালে ইংল্যান্ডকে লর্ডসে হারিয়ে যে ভাবে সেলিব্রেট করেছিলেন সৌরভ, তার পুনরাবৃত্তি দেখার অপেক্ষায় রয়েছি।” আর এর পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক কটাক্ষ উড়ে আসতে থাকে ঋষি কপূরের দিকে। তোপের মুখে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে টুইটের ব্যাখ্যা দিতেও ফের টুইট করেন অভিনেতা।

আরও পড়ুন: রামানন্দ সাগরের ‘শ্রী কৃষ্ণ’ এখন কি করছেন জানেন?

তবে এ ধরনের বিতর্কিত টুইটের শুরুটা কিন্তু অনেক আগে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মনের কথা বলতে গিয়ে বেশ কয়েক বারই ভাল রকমের ‘বাড়াবাড়ি’ করে ফেলেছিলেন ঋষি। মনে পড়ছে গত বছর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি দক্ষিণ ভারতে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘ভরদা’র কথা? বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া সেই ঘূর্ণি তছনছ করে দিয়েছিল উপকূলের রাজ্যগুলিকে। সেই ঘটনা নিয়েও একটি টুইট করেছিলেন ঋষি। লিখেছিলেন, “চেন্নাইয়ে যে ঝোড়ো বাতাস বইছে, তা আসলে রজনীকান্ত তাঁর জন্মদিনে কেকের উপরের মোমবাতি নেভানোর জন্য ফুঁ দিয়েছেন।”

ব্যুমেরাং হয়েছিল। অন্যকে খোরাক করতে গিয়ে টুইটারে নিজেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। এর পর পরই আবার ঋষির ‘টুইটাস্ত্র’ পড়েছিল কপিল শর্মা শো-এর উপর। কেমন করে?

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে কপিল শর্মার সঙ্গে ঝামেলার জেরে ‘দ্য কপিল শর্মা শো’-তে ফিরতে চাননি সুনীল গ্রোভার। দুই কৌতুকাভিনেতার সেই ঝামেলার মধ্যেও নাটকীয় ভাবে ঢুকে পড়েছিলেন ঋষি। টুইট করেছিলেন, ‘‘সানরাইজার্স হায়দরাবাদ টিমে কপিল শর্মার মতো দেখতে এক জন আছেন। কেউ কি সুনীল গ্রোভারকে কোনও টিমে খুঁজে পাচ্ছেন? বন্ধুরা তোমরা এক হও।’’

ঋষি তাঁর ‘টুইটাস্ত্র’ নিয়ে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পাড়ি জমিয়েছে বিদেশেও। এক বার টার্গেট করে ফেলেছিলেন মার্কিন টিভি তারকা কিম কার্দাশিয়ানকে। কিমের লাল ড্রেস পরা একটি ছবি টুইট করে ফেলেন ঋষি। সঙ্গে কোলাজে এক বস্তা পেঁয়াজ। ছবির নীচে লেখা ছিল, ‘‘অনুপ্রেরণা যে কোনও জায়গা থেকে আসতে পারে।’’ আর ঋষি নিজে ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘‘ঠিক যেন বস্তা ভর্তি পেঁয়াজ।’’

বিতর্কটা আরও বেড়েছিল যখন আক্রমণ করলেন সোজা মার্কিন মুলুকের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীকে। হিলারি ক্লিনটনের ছবি পোস্ট করে ঋষি তাতে জুড়ে দিয়েছিলেন অশালীন ইঙ্গিতপূর্ণ কিছু শব্দ। ছবিতে ছিল, হিলারি ক্লিনটনের হাত তাঁর মুখের কাছে মুঠো করে ধরা। আর সেই ছবির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া,— “মোনিকা ব্যাপারটা ঠিক আছে তো? ইজ ইট রাইট?” মোনিকা মানে মোনিকা লিউনস্কি। যাঁর সঙ্গে হিলারির স্বামী বিল ক্লিন্টনের অবৈধ সম্পর্ক থাকার গুঞ্জন রয়েছে। সঙ্গে ঋষি লিখেছিলেন, “ইতিহাস পরখ করে নেওয়া গেল! ধন্যবাদ, এবি জুনিয়র! এটা যদি ঠিক না হত, তবে একটা বাজে স্বাদ মুখে লেগে থাকত!’’

রজনীকান্ত-কপিল-সুনীল-কিম-হিলারির পর, ভারত-পাক ম্যাচ। গত জুনের মাঝামাঝি এক রবিবাসরীয় ওভালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান। এই ম্যাচ নিয়ে বরাবরের মতোই উন্মাদনা তুঙ্গে ছিল। তার ঠিক আগেই ক্রিকেটের সঙ্গে জঙ্গিবাদকে মিলিয়ে একাকার করেছিলেন ঋষি।

পর পর বেশ কয়েকটি টুইট করে পাকিস্তানকে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াতে সরাসরি লিখেছিলেন, ‘‘পিসিবি, এ বার ক্রিকেট দল পাঠিও। আগের বারের মতো হকি বা খো খো দল নয়। কারণ ১৮ জুন ফাদার্স দে। সে দিন বাবার সঙ্গে খেলতে হবে তোমাদের।’’

বলি অভিনেতার এমন টুইটের পর পাক সমর্থকরাও জবাব দিতে ছাড়েননি। কিন্তু নেটিজেনদের কড়া কাটাছেঁড়াকে সামলাতে যেন মাত্রাজ্ঞানই হারিয়ে ফেলেছিলেন ঋষি। তারকার টুইট, ‘‘আচ্ছা ছাড়ো। তোমরাই জেতো। হাজার বার জেতো। শুধু সন্ত্রাসবাদটা বন্ধ করো।’’

তুমুল বিতর্ক হয়েছিল সে বারেও। সিনিয়র কপূরের এ হেন অসংবেদনশীল মন্তব্য নিছক ঠাট্টা হিসেবে মেনে নিতে পারেননি কেউই। অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে টুইটারে তাঁকে বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন।

তবে টুইটারে বয়কট হননি ঋষি। আজও দিব্যি টুইট করছেন। করবেন। হয়তো আরও বিতর্কও হবে।

নেটিজেনদের অনেকেরই প্রশ্ন, কই, ঋষি কপূরের পরিবারের আর কেউ তো সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কাণ্ড ঘটান না? তবে কি ঋষি কপূরের টুইট আসলে হেডলাইনে থাকার জন্য ‘চিপ স্ট্র্যাটেজি’ মাত্র? না কি কাজ না থাকলেই এমন ‘টুইট টুইট’ মন হয়?

মুশকিল হল, এই সব উত্তরই শুধু ‘মিস্টার চিন্টু’বাবুই জানেন! সব মিলে ঋষি কপূর তাঁর ‘টুইটাস্ত্র’-র খোঁচায় নিজেই এক ‘চলতা-ফিরতা’ বিতর্কে পরিণত হয়েছেন।

Rishi Kapoor Celebrity Tweets twitter Troll Bollywood Gossip Celebrity Gossip
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy