সেতু নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত ক্রেন ভেঙে পড়ল চলন্ত ট্রেনের উপর। তার জেরে লাইনচ্যুত হল যাত্রিবাহী ওই ট্রেন। ঘটনাটি ঘটেছে তাইল্যান্ডে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে মৃতের সংখ্যা ২৫-এর বেশি বলে দাবি করা হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের।
জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে (স্থানীয় সময়) ব্যাঙ্কক থেকে একটি যাত্রিবাহী ট্রেন উত্তর-পূর্ব প্রদেশের দিকে যাচ্ছিল। ব্যাঙ্কক থেকে ২৩০ কিলোমিটার দূরে নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের শিখিও জেলায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, আচমকাই চলন্ত ট্রেনের উপর ভেঙে পড়ে ক্রেনটি। ধাক্কা খেয়ে লাইনচ্যুত হয়ে যায় ট্রেন। আগুনও ধরে যায়। স্থানীয় পুলিশকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম ৮০ জনের বেশি।
দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল। প্রথমেই ট্রেনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে দমকলবাহিনী। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর শুরু হয় উদ্ধার কাজ। সংবাদসংস্থা এপি-কে তাইল্যান্ডের পরিবহণমন্ত্রী ফিফাত রাচাকিতপ্রাকান জানান, ওই ট্রেনে ১৯৫ জন যাত্রী ছিলেন। লাইনচ্যুত হওয়া বগিগুলি থেকে যাত্রীদের বার করে আনার কাজ চলছে। অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে। আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। তবে কার গাফিলতিতে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হবে, জানান পরিবহণমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
ঘটনার কয়েকটি ভিডিয়ো ছড়িয়েছে সমাজমাধ্যমে (যদিও সেই সব ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার অনলাইন)। ভিডিয়োগুলিতে দেখা যাচ্ছে, ক্রেন ভেঙে ট্রেনের বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাগ্রস্ত বগির বাইরের অংশ কাটছে। ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে যাত্রীদের একে একে ট্রেনের মধ্যে থেকে বার করছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যেরা। ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে অ্যাম্বুল্যান্স এবং চিকিৎসকদের দল। আহত এবং মৃতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। ওই ট্রেনের যাত্রিতালিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ৪৮ হাজার কোটি ডলারের উচ্চগতির রেলপ্রকল্পের কাজ চলছে তাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব প্রদেশে। সেই প্রকল্পের কাজে ক্রেনটি ব্যবহার করা হচ্ছিল।