×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৩ জুন ২০২১ ই-পেপার

অস্তরাগের শশী ১৯৩৮-২০১৭

০৬ ডিসেম্বর ২০১৭ ০১:১৪
শশী কপূর

শশী কপূর

আরব সাগরের তীর জুড়ে উথালপাথাল হাওয়া। সাইক্লোন ‘অক্ষি’র দাপটে অবিরাম ঝড়, বৃষ্টির দাপট। তারই মাঝে রুপোলি পরদার সেই অমলিন হাসি, মায়াবী চোখ আর সুদর্শন চেহারার শশী কপূরকে শেষ বারের জন্য বিদায় জানাল গোটা চলচ্চিত্র দুনিয়া। শশীর প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গেই বলিউডের অন্যতম কপূর সাম্রাজ্যের একটি প্রজন্মের অবসান হয়ে গেল।

সোমবার সন্ধেয় শশীর মৃত্যুর পরই তাঁর বাড়িতে শোক জ্ঞাপন করতে আসতে থাকেন একের পর এক অভিনেতা। মঙ্গলবার সকালে কোকিলাবেন ধীরুভাই অম্বানি হাসপাতাল থেকে শশীর মৃতদেহ এসে পৌঁছয় জানকী কুটিরে, শশীর বাড়িতে। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সান্তা ক্রুজ ক্রিমেটোরিয়ামে। বর্ষীয়ান এই অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, নাসিরুদ্দিন শাহ, রত্না পাঠক শাহ, অনিল কপূর, সঞ্জয় দত্ত, জ্যাকি শ্রফ, অভিষেক বচ্চন, ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন, টিনু আনন্দ, পুনম ধীলোঁ, শক্তি কপূর, শ্যাম বেনেগাল, সেলিম খান, সুরেশ ওবেরয়, সরোজ খান প্রমুখ। শশীর পরিবার থেকে ছিলেন রণধীর কপূর, ঋষি কপূর, রণবীর কপূর, রাজীব কপূর, নীতু কপূর, সইফ আলি খান প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন শশীর তিন ছেলে-মেয়ে কর্ণ, কুনাল এবং সঞ্জনা।

Advertisement



অমিতাভ

মুম্বই থেকে কলকাতা, বড় পরদা থেকে নাটকের মঞ্চ, কমার্শিয়াল ছবি থেকে ভিন্ন ধারা, অভিনয় থেকে প্রযোজনা— প্রায় সর্বত্রই অনায়াস বিচরণ ছিল নায়কের। অভিনয় ছাড়াও তিনি ছিলেন ভীষণ ভাবে সংসারী।

তাই অভিনেতার রবিবারগুলো কাটত কাজ ও বন্ধুবর্জিত, শুধুই পরিবারের সঙ্গে। এহেন নায়ক এবং মাটির কাছাকাছি থাকা এক তারকার মৃত্যুতে শোকাহত পুরো দেশ।



সঞ্জয় ও অনিল

জ্যাকি জানান, ‘‘একজন ভাল অভিনেতার সঙ্গে সঙ্গে ভীষণ ভাল মানুষও ছিলেন উনি। ওঁর চলে যাওয়া আসলে পুরো দেশের পক্ষে ক্ষতি।’’ শশীর সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছিলেন পুনম ধীঁলো। তিনি বলেন, ‘‘ওঁর হাসিটা ভীষণ ভাবে মিস করব।’’



স্ত্রী রত্নার সঙ্গে নাসিরুদ্দিন

নিজের ব্লগে অমিতাভ বচ্চন লিখেছেন সহকর্মী ও বন্ধু শশীর প্রসঙ্গে। শশীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ, পনেরোটিরও বেশি ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অবিরাম সখ্য ও শিক্ষার অবকাশ, প্রিয়তমা স্ত্রী জেনিফার কেন্ডালের মৃত্যুর পর শশীর ভেঙে পড়া... উঠে এসেছে নানা কথা।



শাহরুখ

তারকার মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি প্রসঙ্গে অমিতাভ উল্লেখ করেছেন রুমি জাফরির লেখা— ‘হম জিন্দেগি কো আপনি কহাঁ তক সমহালতে/ ইস কিমতি কিতাব কা কাগজ খারাব থা!’

সত্যিই, জীবনের খাতার পাতা শূন্যই রয়ে যাবে শশীর বিদায়ে!

ছবি: অম্লান দত্ত

Advertisement