সব নির্দেশ পালন করে, ভুল শুধরে নিয়েও শেষ রক্ষা হল না। ‘ভবিষ্যতের ভূত’ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হল রাজ্য সরকারকে। 

সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার দাবি করেছিল, ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবির উপরে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। কোনও হল মালিককে ছবির প্রদর্শন বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। যা শুনে বিচারপতি ধনঞ্জয় ওয়াই চন্দ্রচূড়ের প্রশ্ন, ‘‘আপনারা কি বলতে চান, হল মালিকরা নিজেরাই ছবির প্রদর্শন বন্ধ করে দিলেন?’’ তাঁর প্রশ্ন, লিখিত নির্দেশ দিলে আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে জেনেই কি ‘অলিখিত নির্দেশ’ জারি করা হয়েছিল? 

গত সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, ‘ভবিষ্যতের ভূত’ মুক্তির চার দিন আগে ছবিটি দেখতে চেয়ে চিঠি দিয়ে রাজ্য পুলিশ এক্তিয়ার বহির্ভুত কাজ করেছিল। প্রযোজকদের কাছে পাঠানো সেই চিঠি প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রসচিব ও পুলিশের ডিজি-কে হল-মালিকদের চিঠি লিখে জানাতে হবে, রাজ্য সরকার ওই ছবির উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। 

বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের প্রশ্ন 
• ছবি না দেখানোর জন্য ‘অলিখিত নির্দেশ’ ছিল?
• হল মালিকরা নিজেরাই ছবির দেখানো বন্ধ করে দিলেন?
• রাজনৈতিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়টা ঠিক কী?
• রাজনৈতিক শ্রেণিকে কটাক্ষ করলে সাধারণ মানুষের কোন আবেগে আঘাত লাগে? 

আজ সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের আইনজীবী সুহান মুখোপাধ্যায় জানান, রাজ্য প্রশাসন সব নির্দেশ পালন করেছে। কিন্তু তার পরেও বিচারপতি চন্দ্রচূড় প্রশ্ন তোলেন, কেন ওই ছবি পুলিশ অফিসাররা দেখতে চেয়েছিলেন? প্রযোজকদের পাঠানো চিঠিতে পুলিশ বলেছিল, ওই ছবি মুক্তি পেলে সাধারণ মানুষের আবেগে আঘাত আসতে পারে। রাজনৈতিক আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হতে পারে। বিচারপতির প্রশ্ন, ‘‘বলুন তো, এই রাজনৈতিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়টা ঠিক কী? রাজনৈতিক শ্রেণিকে কটাক্ষ করলে সাধারণ মানুষের কোন আবেগে আঘাত লাগে?’’ 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

রাজ্যের আইনজীবী যুক্তি দেন, কোনও ছবির উপর নিষেধাজ্ঞা জারির করার আইনগত অধিকার রাজ্য সরকারের রয়েছে। বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেন, রাজ্য অবশ্যই আইনের গণ্ডির মধ্যে থেকে নিজের অধিকার অনুযায়ী কাজ করতে পারে। আদালতে তার বিচারও হতে পারে। কিন্তু লিখিত নির্দেশ জারি না-করে, মৌখিক নির্দেশ জারি করা হয়ে থাকলে অন্য প্রশ্ন। ছবির প্রযোজকের আইনজীবী সঞ্জয় পারেখ চিঠি দেখিয়ে অভিযোগ তোলেন, একটি মাল্টিপ্লেক্সের তরফ থেকে তাদের জানানো হয়েছে, উপরমহলের নির্দেশে ছবির প্রদর্শন বন্ধ করতে হচ্ছে।

পারেখ আজ তিনটি দাবি তুলেছেন। এক, ক্ষতিপূরণের বন্দোবস্ত করা হোক। দুই, এই ধরনের মৌখিক হুমকি বা অলিখিত নির্দেশ বাকস্বাধীনতার অধিকার খর্ব করে। আদালত তার প্রতিকারের ব্যবস্থা করুক। তিন, হল মালিকদের সুপ্রিম কোর্ট কোনও সরাসরি নির্দেশ দিতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক। সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় রায় সংরক্ষিত রেখেছে।