Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৪ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

সুলতানি

C/O স্যর

১৫ জুলাই ২০১৬ ০০:০০

একের পর এক প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন সলমন খান। পাশে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছেন জগদীশ কালীরামন।

সবে আখড়া থেকে কসরত সেরে বেরোলেন আমির খান। ডাকলেন ছোটখাটো চেহারার একজনকে, যাঁর নাম—কৃপাশঙ্কর বিষ্ণোই।

প্রথম জনের ‘সুলতান’ ইতিমধ্যেই বক্স অফিসে সুপার ডুপার হিট। অন্য জনও জোর কদমে তৈরি হচ্ছেন তাঁর ‘দঙ্গল’ নিয়ে। রোম্যান্টিক নায়কের তকমা ছেড়ে, দুই খানের নতুন প্রেম এখন কুস্তি। এবং তাঁদের এই লড়াইয়ে নেপথ্যের দুই নায়ক নিঃসন্দেহে জগদীশ এবং কৃপাশঙ্কর!

Advertisement

তাঁরা দু’জনেই আন্তর্জাতিক স্তরের প্রাক্তন কুস্তিগির। তবে এই মুহূ্র্তে তাঁদের আরও একটি পরিচয়—তাঁরা যথাক্রমে সলমন এবং আমিরের কোচ। ‘সুলতান’য়ের শ্যুটিং শুরুর পাঁচ মাস আগে থেকে মুম্বইয়ের যশরাজ স্টুডিয়োস-য়ে সলমন এবং অনুষ্কা শর্মাকে কুস্তি শিখিয়েছেন জগদীশ। অন্য দিকে ‘দঙ্গল’ যুগ শুরুর আগে মুম্বইয়ের কান্দিভালিতে আমিরকে নিয়ে কোচিং করিয়েছেন প্রাক্তন জাতীয় কোচ কৃপাশঙ্কর।

দুই কোচই পুরোনো বন্ধু। কুস্তি শিখেছেন একসঙ্গে। জগদীশ দিল্লির বিখ্যাত চাঙ্গিরাম আখড়ায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেন দেশের উঠতি রেসলার-দের। আর কৃপাশঙ্কর এক সময় কাজ করেছেন সুশীল কুমার, যোগেশ্বর দত্ত-র মতো অলিম্পিয়ানদের সঙ্গে।

কিন্তু তাঁরা এখন বিপরীত শিবিরে। একজনের ‘সুলতা ন’ ইতিমধ্যেই ঢুকে গেছে ২০০ কোটির ক্লাবে। অন্যজনের ‘দঙ্গল’ পোস্ট-প্রোডাকশনে।

তবে, দুই শিবিরে থেকেও জগদীশ ও কৃপাশঙ্করের বন্ধুত্ব অটুট। শ্যুটিং চলাকালীন একে অপরের সেটেও গেছেন মাঝেমধ্যে। হোক না আলাদা ছবি, তাঁরা যে এখন খান-এ মজে!

এবং বোধহয় সেই কারণেই জগদীশ আর কৃপাশঙ্করের কাছে সলমন এবং আমির এখন ‘ভাইজান’। স্টারডমের আড়ালে তাঁরা যে খুঁজে পেয়েছেন দুই অন্য খানকে।

অনুষ্কা এক, সলমন দুই

জগদীশ অবশ্য বলেই দিচ্ছেন ‘সুলতান’য়ের আসল বিজেতার নাম সলমন খান নয়, অনুষ্কা শর্মা। কারণ? তাঁর পরিশ্রম ও ডেডিকেশন। সলমন যেখানে লড়েছেন পুরুষ কুস্তিগিরদের সঙ্গে, অনুষ্কাকে লড়়তে হয়েছে পুরুষ ও মহিলা দুইয়েরই বিরুদ্ধে। এবং সেই কারণে কোচের নজর কেড়েছেন বিরাট কোহালির গার্লফ্রেন্ড। ‘‘সল্লু ভাই প্রচুর খেটেছেন, কিন্তু পরীক্ষায় অনুষ্কাই ফার্স্ট,’’ মুচকি হেসে আনন্দplusকে বলছিলেন জগদীশ।



এনার্জিতে ‘সুলতান’য়ে যদি প্রেমিকা আরফা-র কাছে পিছিয়ে পড়েন বলিউডের ভাই, উল্টো দিকে ‘দঙ্গল’ শিবিরের ছবিটা অন্য। হাঁটুর বয়সিদের হারিয়ে এখানে চ্যাম্পিয়নের নাম সেই আমির খান। ওই শিবিরের কোচ কৃপাশঙ্কর জানালেন, সময় নিয়ে শিখলেও আমির প্রতিটি শট এক টেকে ওকে করেছেন।
‘‘উনি তো বাচ্চাদের গো-হারান হারিয়েছেন স্রেফ ডেডিকেশনে,’’ বলছিলেন কৃপাশঙ্কর।

তবে ‘সুলতান’য়ের সলমন কিন্তু কোচের মন জিতেছেন নিজের আন্তরিকতায়। শট ওকে হওয়ার পরও জগদীশের কাছে জানতে চেয়েছেন সব ঠিক আছে কি না!

এসি ঘর বনাম খোলা ময়দান

মুম্বইতে থাকলে যশরাজ স্টুডিয়োস-য়ে কুস্তি প্র্যাকটিস করতেন সলমন আর অনুষ্কা। শহরের বাইরে গেলে অবশ্য হোটেলের ঘর বা জিমে চলত কসরত। ‘‘কুস্তি শেখাটা সময় সাপেক্ষ। তাই সলমন বা অনুষ্কা যেখানেই যেতেন আমরাও সঙ্গে যেতাম যাতে একদিনও ক্লাস মিস না হয়,’’ জানালেন জগদীশ।

পাঁচ মাসের প্র্যাকটিসে সলমন কিংবা অনুষ্কা নিজেদের বন্দি রেখেছিলেন স্টুডিয়ো চত্বর কিংবা এসি ঘরে। বাইরের লোকদের বুঝতে দিতে চাননি তাঁদের স্ট্র্যাটেজি। ‘‘যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, ওঁরা যোগাযোগ রেখেছেন কুস্তিগিরদের সঙ্গে,’’ বলছিলেন জগদীশ।

যদিও এসি ঘরে প্র্যাকটিস করে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেছেন সুলতান আলি খান-রূপী সলমন, মহাবীর ফোগতের চরিত্রে আমিরের ভরসা অবশ্য খোলা আকাশ। শ্যুটিং শুরুর মাস ছয়েক আগে মুম্বইয়ের কান্দিভালিতে কোচিং ক্যাম্প শুরু করে টিম আমির। নিজে তো নিয়মিত আসতেনই, বাকিদের দেওয়া হয়েছিল কড়া বার্তা: ‘হয় ঠিক করে কুস্তি শেখো, না হলে অন্য পথ দেখো’। প্রতিকূল আবহাওয়াতেও সবার আগে ট্রেনিংয়ে যিনি হাজির হতেন তাঁর নাম আমির।

‘‘যেহেতু গল্পটাই গ্রামের, আমির প্র্যাকটিস করতেন ধুলো-বালির দঙ্গলে। প্রতিটা খুঁটিনাটি বিষয়ে তীক্ষ্ণ নজর ছিল ওঁর। প্রতিটা মুভমেন্ট যতক্ষণ না রপ্ত হচ্ছে, ততক্ষণ প্র্যাকটিস করে যাওয়াটাই ছিল ওঁর লক্ষ্য,’’ বলছিলেন ভারতীয় কুস্তি দলের প্রাক্তন কোচ কৃপাশঙ্কর।

ছবির বিষয়বস্তু যখন কুস্তি, আমির জানেন কোনও ফাঁকিবাজি দর্শক মানবেন না। এবং সে কারণেই এত নজর। ‘‘আয়োজনে কোনও ত্রুটি রাখেননি আমির, বাকিটা দর্শকের ওপর,’’ বলছিলেন তাঁর কোচ।

প্রেমের সঙ্গে প্রেম

এই সে দিনও বলিউডে একটা চালু রসিকতা ছিল—পর্দায় যদি সলমনের পোশাকি নাম প্রেম হয় তা হলে সে ছবি হিট হবেই। যদিও সেই ধারণা আজকাল পাল্টেছে। তবে সলমন বোধহয় এখনও সেই প্রেম-প্রীতি থেকে বেরোতে পারেননি। নইলে কি আর শ্যুটিংয়ের শেষে তেরো বছরের কুস্তিগির প্রেমকে নিজের রেসলিং শ্যু উপহার দেন!

ব্যক্তিগত জীবনে বিতর্কের আরেক নাম যদি সলমন হয়, ‘সুলতান’য়ের সেটে তিনি পরিচিত ‘মেহেরবান’ হিসেবে। কখনও ইউনিটের প্রবীণতম লাইন অপারেটরকে আর্থিক সাহায্য করছেন, তো কখনও আবার জুনিয়র অ্যাক্টরকে জানাচ্ছেন অভিনন্দন। ‘‘শ্যুটিং শেষের পর নিজেই প্রেমের হাতে তুলে দেন রেসলিং শ্যু। এই ব্যবহার আজকাল চোখেই পড়ে না,’’ বলছিলেন জগদীশ।



অবশ্য এতেই থেমে থাকেননি সলমন। শ্যুটিংয়ের শুরুর দিকে যখন সেটে আসতেন, অধিকাংশ কুস্তিগিরই ভয়ে ভয়ে থাকতেন। একে তিনি সুপারস্টার তায় আবার বদমেজাজি বলে দুর্নাম। কিন্তু সকলকে চমকে দিয়ে সলমন নিজেই বন্ধুর মতো মিশেছেন প্রত্যেকের সঙ্গে। ‘‘একদিন আমাদের এক কুস্তিগির ভয় পেয়ে কিছুতেই সলমনকে একটা স্টেপ শেখাতে পারছিল না। বার তিনেক এ রকম হওয়ার পর সলমন নিজেই তাকে দেখিয়ে দিলেন কী করতে হবে।’’ বলছিলেন কুস্তি কিংবদন্তি চাঙ্গিরামের ছেলে জগদীশ।

তবে শুধু সলমন একা নন। ‘দঙ্গল’য়ের সেটে আমির প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে গেছেন কুস্তিগিরদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশতে। ‘‘ এক বারও বুঝতে দেননি যে উনি এত বড় স্টার। এবং সে জন্য সাধারণ কুস্তিগিররা ওকে আজকাল ভাইজান বলে ডাকে,’’ স্মৃতি উসকে বলছিলেন কৃপাশঙ্কর।

নো স্মোকিং

শ্যুটিং চলাকালীন একদিনও সিগারেট খাননি আমির, ছেড়েছেন মদ্যপান। এবং ইউনিটের সবাইকে অবাক করেই নিরামিষাশীও হয়েছেন। ‘‘আখড়ায় কিছু নিয়ম থাকে, এবং সেই মতো আমি আমিরকে বারণ করেছিলাম সিগারেট না খেতে। সেটা তো মেনেছেনই। শ্যুটিং চলাকালীন একদিনের জন্যও আমিষ খাননি আমির,’’ বলছিলেন কৃপাশঙ্কর।

সলমন অবশ্য উল্টো পথেই হেঁটেছেন!

তিনি বলিউডের ভাই! তিনি এসব রুটিন মানবেন কেন? যেমন ঘণ্টার পর ঘণ্টা শ্যুটিং করেছেন একটানা, তেমনই চুটিয়ে উপভোগ করেছেন প্রতিটা মুহূর্ত। কিন্তু তাই বলে নিরামিষ খাবার? নৈব নৈব চ! বরং খাওয়ার ব্যাপারে অনেক বেশি সাবধানী ছিলেন অনুষ্কা।

‘‘সল্লুভাই নিজের ডায়েট চার্ট মেনে চলতেন, তবে খেতেন সব কিছুই। অনুষ্কা অবশ্য নিয়মিত প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট নিতেন ওজন ঠিক রাখার জন্য,” বলছিলেন কোচ।

একেই বলে শ্যুটিং!

প্রতিটা শট দেওয়ার আগে কুস্তির ভিডিয়ো ফুটেজ দেখতেন সলমন আর অনুষ্কা। আমিরও ব্যতিক্রম নন। প্র্যাকটিস শেষে নিয়মিত রেকর্ড করা হত তাদের মুভমেন্ট, এবং শ্যুটিং-এর ফাঁকে সেগুলো দেখেই নিজেদের তৈরি করতেন বলিউডের দুই সুপারস্টার। শট দেওয়ার আগে প্রতিটা স্টেপ লক্ষ করতেন আমির, এবং ফল-ও পেয়েছেন হাতেনাতে—সব শট-ই এক টেকে ওকে। “মাঝে মাঝে দেখে মনে হত, এটাই বোধহয় আসল কুস্তির দঙ্গল, এবং এঁরাই বোধহয় রিয়্যাল কুস্তিগির,” বলছিলেন কৃপাশঙ্কর।

…দুই খানের লড়াইয়ে, ফার্স্ট রাউন্ডে ইতিমধ্যেই এগিয়ে সলমনের ‘সুলতান’। তবে অনিশ্চয়তার এই খেলায়, আসল বাউট-টা সবে শুরু হল, যার ফাইনাল-টা দুনিয়া দেখবে ২৩ ডিসেম্বরের সকালে!

আরও পড়ুন

Advertisement