তাঁর অভিনয়জীবনের বয়স প্রায় ৫০ বছর। ১৯৬৬ সালে শিশুশিল্পী হিসাবে অভিনয় শুরু করেন দেবশ্রী রায়। বাংলার বহু আলোচিত ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের মাধ্যমে রাজনীতির ময়দানে হাতেখড়ি হয় তাঁর। রায়দিঘি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হন দেবশ্রী। গত ১০ বছরে অভিনয় থেকে অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছেন অভিনেত্রী। নেপথ্যের কারণ কি রাজনীতি?
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও পুনর্নির্বাচিত হন দেবশ্রী। একটানা দুই মেয়াদেই বিধায়ক ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে প্রার্থী করেনি। তখন দলের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। ২০২১ সালেই তিনি দল থেকে ইস্তফা দেন। ২০২৬-এ রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে কী উপলব্ধি তাঁর? দেবশ্রীর স্পষ্ট উত্তর, দুই নৌকোয় পা দিয়ে চলতে চাইলে, কোনও একটা দিক ডুববেই।
একসময় মমতা-ঘনিষ্ঠ ছিলেন দেবশ্রী। ছবি: সংগৃহীত।
তিনি বলেন, “আমারই তো হয়েছিল। রাজনীতি করতে গিয়ে অভিনয়ের দিকটা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। টলিউডেও অনেককে দেখেছি, একে একে সবাই যোগ দিয়েছেন রাজনীতিতে। সময়ের সঙ্গে আমি উপলব্ধি করেছি, রাজনীতি করতে চাইলে, সেটাতেই মন দেওয়া উচিত। আর অভিনয় করলে, নিজের অভিনয়সত্তার দিকে মন দেওয়া দরকার। নিজেকে দিয়ে এটা বুঝতে পেরেছি। বেশি মন দিতে গিয়েছিলাম রাজনীতিতে, তাই আমার অভিনয়ে প্রভাব পড়েছিল। আর গত ১৫ বছরে বাংলা চলচ্চিত্রজগৎ শেষ হয়ে গিয়েছে। এই ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে গেলে কিছু সৎ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।”
আরও পড়ুন:
দেবশ্রী জানান, কেন যে সবাই সারি বেঁধে রাজনীতিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন, সেটাই বুঝতে পারেননি। তিনি তাই স্বরূপ বিশ্বাস, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের কোন্দল থেকে অনেকটাই দূরে সরে এসেছেন। অভিনেত্রী বলেন, “গত ১৫ বছরে যে কলকাতা দেখেছি, আমার রাজ্যকে আগে এই ভাবে কখনও দেখিনি। আমি দল করেছি। সেখানে বলেও কোনও লাভ হত না। লজ্জা করে বলতে যে, আমি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। আমি তো হতাশ হয়ে, বিরক্ত হয়ে দল ছেড়েছি।” প্রবীণ অভিনেত্রীর উপলব্ধি, অযোগ্য মানুষকে পদে বসিয়ে দিলে সমস্যা তো তৈরি হবে। যদিও এত কিছুর মাঝে অভিনেত্রীকে কখনও ‘ব্যান’ সংস্কৃতি বা বিতর্কে জড়াতে হয়নি।
দেবশ্রী জানান, নতুন সরকার আসার পরে তিনি কিছুটা আশাবাদী। বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারীরা ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন, এমনই আশা দেবশ্রীর।