বিভিন্ন বিষয়ে স্পষ্ট মতামত দেন জাভেদ আখতার। আবার এই স্পষ্ট কথার জন্য বিতর্কেও জড়াতে হয় তাঁকে প্রায়ই। কিন্তু তা-ও নিজের ভাবনা ও মতামতের সঙ্গে আপস করেন না বর্ষীয়ান গীতিকার। ফের এক বার তেমনই একটি ঘটনার সম্মুখীন তিনি। নিন্দককে জবাব দিতে গিয়ে নিজের ধর্মীয় ভাবনা নিয়েও কথা বলেন জাভেদ।
সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে একটি পোস্ট করেন জাভেদ। সেখানে ট্রাম্পকে কটাক্ষই করেছেন বর্ষীয়ান গীতিকার। জাভেদের সেই পোস্ট দেখে ধেয়ে আসে কটাক্ষ। তারও আবার পাল্টা জবাব দেন জাভেদ। শনিবার গীতিকার তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “ট্রাম্প এমন এক জন মানুষ, যিনি মিথ্যা বলার জন্যই পরিচিত। ট্রাম্পের তালিকায় আরও একটি মিথ্যা যোগ হল এ বার। তাঁর দাবি, মেলোনি নাকি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য রীতিমতো ‘ভিক্ষা করেছেন’! প্রথমত, ইটালির মতো একটি দেশের এক জন আত্মবিশ্বাসী, জনপ্রিয় ও ক্ষমতাশালী মহিলা প্রধানমন্ত্রী কেন এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ‘ভিক্ষা’ করবেন! শুধুমাত্র আলোচনার জন্য যদি ধরেও নেওয়া হয় যে ঘটনাটি সত্যি, তা হলেও আপনারা ভাবুন। কতটা অসভ্য ও রুচিহীন মানুষ সাংবাদিক বৈঠকে এমন দাবি করে?” জাভেদ এ-ও জানান, ইটালির সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, ভাস্কর্য ট্রাম্পের আমেরিকাকেও বিভিন্ন ভাবে সমৃদ্ধ করেছে। তাই সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী কেন ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তুলতে চাইবেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন গীতিকার।
ট্রাম্পকে কুখ্যাত বলেও দাবি করেছেন জাভেদ। তার পরেই সেই পোস্টের মন্তব্যে কটাক্ষ ধেয়ে আসে। এক ব্যক্তি জাভেদের ধর্মীয় সম্প্রদায় নিয়ে সরাসরি খোঁচা দেন। এর জবাবে জাভেদ আখতার লেখেন, “যদি আপনার ছোট এবং অপরিণত মন বুঝতে পারত, তা হলে আপনি এতদিনে জানতেন যে, আমি একজন নাস্তিক। হয়তো আপনি এই শব্দটির সঙ্গে পরিচিতই নন। এর অর্থ হল— যে কোনও ধর্মেই বিশ্বাস করে না।”
এর পরে জাভেদ স্পষ্ট করে দেন, তিনি সকলকে ভারতের মানুষ হিসাবেই দেখেন। কোনও ধর্ম বা জাতি দিয়ে বিচার করেন না।
এই প্রথম নয়। এর আগেও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন জাভেদ আখতার। আমেরিকা-ইরান সংঘাত নিয়ে মার্চ মাসে তিনি লিখেছিলেন, “আমার মনে হয় এ বার ট্রাম্প এবং ইজ়রায়েল নিজেদের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে।” সেই সময়েও জাভেদের দিকে ধেয়ে এসেছিল কটাক্ষ।
উল্লেখ্য, ফ্রান্সে আয়োজিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সংঘাত বেড়েই চলেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ভিক্ষা করছিলেন মেলোনি। তাই না-চাইতেও তিনি রাজি হয়েছেন। ইটালিতে মেলোনির জনপ্রিয়তা কমে গিয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। অভিযোগ, তা বাড়ানোর জন্যই ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তোলার চেষ্টা। মেলোনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কারও কাছে কিছুর জন্য ভিক্ষা করেন না।