২০২২ সালের ২৯ মে। আততায়ীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে প্রাণ হারান পঞ্জাবি শিল্পী সিধু মুসেওয়ালা। মাত্র ২৮ বছর বয়সেই খুন হন গায়ক। তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা গোটা পঞ্জাবি সঙ্গীতজগতকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। স্তব্ধ হয়েছিল গোটা দেশ। ঘটনার পরে গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রার প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে।
সিধুর মৃত্যুর কয়েক বছর পরে আবার আলোচনায় উঠে এল সেই ঘটনা। সম্প্রতি পঞ্জাবি র্যাপার সুলতান সমাজমাধ্যমে একাধিক বিস্ফোরক দাবি করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে ‘লাইভ’ করে সুলতান অভিযোগ করেন, পঞ্জাবি গায়ক কর্ণ আউজলাই নাকি সিধুর খুনের জন্য দায়ী। তিনি দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য নাকি দুষ্কৃতীদের যে টাকা দেওয়া হয়, তার একটি অংশ কর্ণেরই দেওয়া। তবে এই বিস্ফোরক অভিযোগগুলি একান্তই সুলতানের ব্যক্তিগত দাবি। এখনও পর্যন্ত তদন্তে এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও প্রমাণ মেলেনি।
কর্ণ এবং প্রয়াত সিধুর দ্বন্দ্ব পঞ্জাবি সঙ্গীতজগতে প্রবল আলোচিত। বলা হয়, ২০১৭ সালে এই বিবাদের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, তাঁকে উদ্দেশ করে তৈরি সিধুর একটি ভিডিয়ো নাকি কর্ণের সহকারী দলের হাতে পৌঁছোয়। এর পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে নাকি বিরোধ তৈরি হয়।
সময়ের সঙ্গে সেই দ্বন্দ্বে খানিক প্রলেপ পড়ে। কিন্তু, কর্ণের একটি ভিডিয়ো মুক্তির পরে সেই বিবাদ আবার নাকি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। কর্ণের তৈরি ‘লফাফে’ নামের গানটি নাকি মুসেওয়ালাকে উদ্দেশ করেই তৈরি বলে মনে করে দর্শকের একাংশ এর পরেই ফের বিবাদে জড়ায়।
আরও পড়ুন:
তবে সিধুর মৃত্যুর পর ২০২৩ সালে কর্ণ ‘মা’ গানটি প্রকাশ করেন। অনেকের মতে, এই গানের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিনের বিরোধে ইতি টানার চেষ্টা করেছিলেন এবং মুসেওয়ালার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, মুসেওয়ালার মৃত্যুর কয়েক বছর পরে আরও একটি বিতর্ক সামনে আসে। গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্নোইয়ের ভাই, যিনি সিধুর হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত, সেই অনমোল বিশ্নোইকে নাকি আমেরিকার এক অনুষ্ঠানে কর্ণের সঙ্গে দেখা যায়। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেও শুরু হয় আলোচনা, তৈরি হয় বিতর্ক। পরে অবশ্য কর্ণ বিবৃতি দিয়ে জানান, অনমোল যে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন, তিনি জানতেন না।
উল্লেখ্য, সুলতানের অভিযোগ নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি কর্ণ।