প্রতি দিন দাঁত মাজেন, তবুও দাঁতে শিরশিরানি, মাড়িতে ব্যথা, মুখে দুর্গন্ধ— সমস্যা লেগেই রয়েছে। অনেক সময়ে সমস্যার কারণ হতে পারে দাঁত মাজার ভুল পদ্ধতি। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া নিবাসী দন্ত্যচিকিৎসক মার্ক বুরহেন এমন চারটি সাধারণ ভুলের কথা জানিয়েছেন, যা দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি করতে পারে। আর তার ফলে নানা ধরনের রোগ দানা বাঁধতে পারে শরীরে।
দাঁত মাজার সময়ে কোন ৪ ভুল করা যাবে না?
১. ব্রাশ চালনায় ভুল
করাত চালানোর মতো করে ব্রাশ নিয়ে দাঁত এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার অভ্যাস? এ ভাবে আদপে দাঁত পরিষ্কার হয় না। নির্দিষ্ট চলন মেনে ব্রাশ করতে হবে। প্রতিটি দাঁত এবং মাড়ির সংযোগস্থলে ব্রাশ রেখে গোল গোল করে মাজতে হবে। যদি ইলেকট্রিক ব্রাশ থাকে, তা হলে সুবিধা অনেক বেশি। কারণ, ওই স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র সঠিক ভাবে গোল গোল করে ঘুরে যায়। তার জন্য কেবল প্রতিটি দাঁতের উপর ব্রাশ রাখতে হবে।
দাঁত পরিষ্কার করার পদ্ধতি। ছবি: সংগৃহীত
২. শক্ত ব্রাশ ব্যবহার
অনেকেই এখনও শক্ত ব্রিসলযুক্ত ব্রাশ ব্যবহার করেন। কিন্তু চিকিৎসক বলছেন, শক্ত ব্রাশ দাঁত ও মাড়ির কতটা ক্ষতি করে, সে সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা নেই। দাঁতের বাইরের সুরক্ষাস্তর এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ধীরে ধীরে দাঁতে শিরশিরানি হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সাধারণত নরম ব্রিসলযুক্ত ব্রাশ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। তা ছাড়া প্রতিটি ব্রাশ ৪-৬ সপ্তাহ অন্তর বদলে ফেলতে হবে। নয়তো দাঁতের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
৩. মুখ ধোয়ার ভুল
দাঁক মাজার সঙ্গে সঙ্গে মুখ ধুয়ে ফেলেন? এখানেই ক্ষতির শুরু। অনেকেই জানেন না, খানিক ক্ষণ টুথপেস্ট দাঁতে রেখে দেওয়া দরকার। চিকিৎসক জানাচ্ছেন, দাঁত মাজার ফলে যে ফেনা তৈরি হচ্ছে, সেটুকু ফেলে দেওয়ার পর অল্প খানিক ক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে মুখ ধুয়ে ফেললে চলবে না। টুথপেস্টে থাকা ন্যানো-হাইড্রক্সিঅ্যাপাটাইট অথবা ফ্লুয়োরাইড দাঁতকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। ব্রাশ করার পর সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর জল দিয়ে কুলকুচি করলে সেই উপাদান দ্রুত ধুয়ে যেতে পারে। ব্রাশ করার পরে শুধু অতিরিক্ত ফেনা ফেলে দিন। এতে ওই উপাদানগুলি কিছুটা বেশি সময় ধরে দাঁতের উপর কাজ করতে পারে।
আরও পড়ুন:
৪. দাঁত পরিষ্কার না করানো
নিয়মিত দন্ত্যচিকিৎসকের কাছে পরীক্ষা না-করানো বা দাঁত পরিষ্কার না-করানো বড় ভুল বলে মনে করেন চিকিৎসক। পেশাদারের কাছে দাঁত পরিষ্কার করাতে যাওয়া দরকার। আপনার দাঁত কতটা পরিষ্কার, তার উপর নির্ভর করছে আপনার ত্বক কতটা পরিষ্কার, আপনার হার্ট ভাল আছে কি না, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ঠিক আছে কি না এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে আছে কি না। পোশাদারের কাছে পরিষ্কার না-করালে পরবর্তী কালে দাঁতের স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।