ভিড়ে মিশে থাকা নিপাট সাধারণ একটা চেহারা। গোল ফ্রেমের চশমা। বেশিরভাগ সময়ই পরিপাটি। শহরে একের পর এক ঘটে চলা অপরাধের তদন্ত করছেন তিনি। তিনি ‘কে’। শহর কলকাতায় ভরা গোয়েন্দাদের বাজারে নতুন। সৌজন্যে পরিচালক অভিরূপ ঘোষের নতুন ছবি ‘কে: সিক্রেট আই’। মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে এই ছবির ট্রেলার।

আরও পড়ুন, ‘আমি সিঙ্গল, বয়ফ্রেন্ড থাকলে অনেক ঝামেলা’

ইঞ্জিনিয়ার অভিরূপের সিনেমা নিয়ে অবসেশন দীর্ঘ দিনের। এর আগে শর্ট ফিল্ম তৈরি করলেও এই ছবিটি দিয়েই তাঁর ফিচার ফিল্মে ডেবিউ। ‘কে’ কেমন? অভিরূপের কথায়, ‘‘চেনা গোয়েন্দাদের মতো ‘কে’ হিরো নয়। বরং ওর মধ্যে অ্যান্টি হিরো মেটিরিয়াল রয়েছে। চরিত্রের মধ্যে অনেক শেডস রয়েছে। তবে শুধু গোয়েন্দা গল্প নয়, সায়েন্স ফিকশন, হরর এলিমেন্টও রয়েছে এই ছবিতে।’’ গোয়েন্দা চরিত্রে রুদ্রনীলকে কাস্ট করার কারণ কী? পরিচালক শেয়ার করলেন, ‘‘আসলে ভিড়ের মধ্যে খুব সহজে মিশে যেতে পারে এমন কাউকে চেয়েছিলাম। এই চরিত্রটার জন্য রুদ্রদা পারফেক্ট।’’


‘কে: সিক্রেট আই’-এর একটি দৃশ্য।

‘কে’-এর চরিত্র রুদ্রনীলের কেরিয়ার গ্রাফে কোথায় আলাদা? অভিনেতা বললেন, ‘‘সমাজের মধ্যে থাকা দোষে গুণে একজন মানুষ হলেন ‘কে’। আমাদের চেনা আর পাঁচজন গোয়েন্দার থেকে একেবারেই আলাদা। আমাদের পড়া বা দেখা গোয়েন্দাদের মধ্যে একটা দেবতাসুলভ ব্যাপার আছে। কেউ বউ ছাড়া অন্য কোনও মহিলার সঙ্গে কথা বলেন না। কোথাও আবার কোনও মহিলা চরিত্রই নেই। ‘কে’ তেমন নয়। ক্লায়েন্টকে ভুল বুঝিয়ে দু’বার পয়সা নেয়। কিন্তু এন্ড অফ দ্য ডে সে ডিটেকটিভ।’’ টলিউডে এই মুহূর্তে গোয়েন্দাদের ভরা বাজারে এটা কি তাঁর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ? রুদ্রনীল বললেন, ‘‘ব্যোমকেশ, শবর, ফেলুদা, কাকাবাবু, কিরীটি— কারও সঙ্গে ‘কে’-এ কোনও চ্যালেঞ্জ নেই। বাড়িতে যিনি থাকেন তাঁর মধ্যে ডিটেকটিভ সত্ত্বা থাকলে তিনি যেমন প্রবলেম সলভ করতে পারেন। ‘কে’ও তেমনই একজন। তাই যাঁরা ওই গোয়েন্দাদের বড়পর্দায় দেখেন তাঁরা ‘কে’ও দেখতে যাবেন।’’

‘কে’-এর জার্নি নিয়ে তৈরি এই ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী ২৬ মে। রুদ্রনীল ছাড়াও রজতাভ দত্ত, দেবস্মিতা বসুর অভিনয় সমৃদ্ধ করেছে ছবিটিকে।