মোটে দু’টো ছবিতে কাজ করেই ঈশান খট্টরের ব্যবহারে আমূল পরিবর্তন এসেছে বলে মুম্বই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে জোর গুঞ্জন। ক’দিন আগে খবরে এসেছিল, বিশাল ভরদ্বাজের ছবি থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন ঈশান। কিন্তু শুধু ছবি নয়, পরিচালকের সঙ্গে একটি ওয়েব সিরিজ়েরও পরিকল্পনা ছিল অভিনেতার। এখন দুটোর কোনও প্রজেক্টই অভিনেতার হাতে নেই। বিশালের সঙ্গে মতবিরোধের কারণেই দুই প্রজেক্ট থেকে বেরোতে হয়েছে তাঁকে। এ দিকে ঈশানের সহ-অভিনেত্রী জাহ্নবী কপূর এখনও পর্যন্ত সই করে ফেলেছেন চারটি ছবিতে! সুতরাং ‘অ্যাটিটিউড প্রবলেম’-এর কারণে ঈশান যে বিরাট বিপাকে, সেটা মোটামুটি সকলেই মেনে নিচ্ছেন।

কিন্তু বিশালের সঙ্গে ঠিক কী হয়েছিল ঈশানের? সূত্রের খবর, সলমন রুশদির ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’কে ওয়েবের জন্য অ্যাডাপ্ট করতে চেয়েছিলেন বিশাল। বইয়ের প্রোটাগনিস্ট সেলিম সিনাইয়ের চরিত্রটিই ঈশানের করার কথা ছিল। শাহিদ কপূরের ভাই হিসেবে বিশালের কাছে ঈশানের গুরুত্বও ছিল। কারণ শাহিদের সঙ্গে বিশালের সুসম্পর্কের কথা ইন্ডাস্ট্রিতে সকলেই জানেন। বিশালের সঙ্গে ‘কমিনে’, ‘হায়দর’, ‘রঙ্গুন’-এর মতো ছবি করেছেন শাহিদ। প্রি-প্রোডাকশনের কাজ শুরু হওয়ার ঠিক আগেই চিত্রনাট্যে কিছু সমস্যার কথা পরিচালককে জানাতে শুরু করেন ঈশান। কিন্তু তাঁর কথা বলার ধরন পরিচালকের কাছে বেশ আপত্তিকর ঠেকেছিল বলেই শোনা যাচ্ছে। বিশালকে তিনি নাকি সরাসরি বলেন চিত্রনাট্যে রদবদল ঘটানোর জন্য। কারণ ঈশানের মনে হয়েছিল, তাঁর চরিত্রের প্রতি যথেষ্ট সুবিচার করেননি বিশাল। 

এতেই স্তম্ভিত হন বর্ষীয়ান পরিচালক। কারণ তিনি এমন এক জন পরিচালক, যাঁর সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে থাকেন মুম্বই ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সব অভিনেতাই। তাঁকে এক জন জুনিয়র অভিনেতা কাজ শুরু হওয়ার আগেই এ রকম নির্দেশ দিতে শুরু করায় তিনি বিরক্তই হন। 

এটাও খবরে এসেছে যে, এই ঘটনার পরে বিশাল আর কথাও বলেননি ঈশানের সঙ্গে। ঈশানের রুক্ষ ব্যবহারের প্রমাণ আগে যাঁরা পেয়েছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ বিশালকে নাকি সতর্কও করেছিলেন অভিনেতার ব্যাপারে। কিন্তু সিনিয়র পরিচালক ঈশানের প্রতিভাকেই অগ্রগণ্য মনে করেছিলেন বলে সেই সতর্কতাকে জরুরি মনে করেননি। এখন নতুন কোনও মুখের খোঁজেই রয়েছেন তিনি।

ইরানি পরিচালক মাজিদ মাজিদির প্রথম ভারতীয় ছবি ‘বিয়ন্ড দ্য ক্লাউডস’ ঈশানেরও প্রথম ছবি। তবে বক্স অফিস সাফল্য পায়নি তা। ‘সাইরাট’-এর হিন্দি রিমেক ‘ধড়ক’ অবশ্য বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছিল। কিন্তু তার পর থেকে বহু প্রজেক্টের কথা চললেও কোনওটাই ঠিক মতো দাঁড়ায়নি ঈশানের ক্ষেত্রে। তার পিছনেও ধারণা করা হচ্ছে, ঈশানের রুক্ষ আচরণই প্রধান কারণ। শোনা যাচ্ছে, কর্ণ জোহরের ধর্মা প্রোডাকশনসের সঙ্গেও কথায় কথায় বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন তিনি। সুতরাং ওই সংস্থার সঙ্গে চুক্তিও যে নড়বড়ে, সেটাও আন্দাজ করছেন অনেকে।