পড়ে পাওয়া চোদ্দো আনা একখানা দিন বটে! জামাইয়ের পাতে ভাল জাতের ল্যাংড়া, আকাশচুম্বী দামের ইলিশ, দাঁড়া নেড়ে কিনে আনা চিংড়ি আর আগের দিন অর্ডার দিয়ে আসা কচি পাঁঠার রাংয়ের মাংস তুলে দেওয়ার সমাজ স্বীকৃত উৎসব। সে আয়োজনে ত্রুটি রাখেন না শ্বশুর-শাশুড়িরাও। সকাল থেকেই বাজার করো রে, রান্না করো রে, বাটনা বাটো রে করে শেষ বেলায় ক্লান্তি দিয়ে শেষ।

তাই ভোজনরসিক জামাতাকূল আর আর আপ্যায়ণপ্রিয় শ্বশুরবাড়িদের আরেকটু সুবিধা করে দিতে এ বার জামাইষষ্ঠী স্পেশাল থালির আয়োজন করল শহরের দুই নামজাদা রেস্তরাঁ। বাড়িতে রান্নার পাট তুলে জামাই আদরে এ বছর ঢুঁ মারতেই পারেন ‘আহেলি’ ও ‘দ্য ললিত গ্রেট ইস্টার্ন’-এ।

ভরপুর বাঙালি ভোজের থালি-তে কী কী থাকছে, কত দাম, বাড়তি উপহারই বা কী সে সব রইল আপনাদের জন্য।

‘আহেলি’

প্রাদেশিক রান্নার চেয়ে জামাইষষ্ঠীর থালিতে এ বার ভরপুর বাঙালিয়ানার স্বাদই রাখছে ‘আহেলি’। তাই প্রাদেশিক রান্না বা বিদেশি ফিউশন ফুডের ঠাঁই এ বার নেই এদের থালিতে। পিয়ারলেস ইন ও অ্যাক্সিস মল-এ ‘আহেলি’-তে।

‘আহেলি’-র জামাই থালি এ বার সেজেছে এ ভাবেই।

তাদের এ বারের বিশেষ জামাই থালিতে থাকবে ভাত, লুচি, পোলাও, বেগুনভাজা, মাছের মাথা দিয়ে মুগডাল, পটলের দোলমা, ভাজা মশলা আলুর দম, বরিশালি ইলিশ, চিংড়ি মাছের হরেক পদ, ফুলকপির ডালনা, মাটন কষা, চাটনি, পাঁপড়। লিচুর পায়েস ও আম রাজভোগ।

দুপুর ও রাতের মেনু একই। খরচও এক। জনপ্রতি ২২২৫ টাকা (কর অতিরিক্ত)। সময়: বেলা ১২টা থেকে বেলা ৪টে। আবার বেলা ৪.৩০ থেকে রাত ১১টা।

এ দিন জামাইদের জন্য থাকছে বিশেষ উপহারও।

‘দ্য ললিত গ্রেট ইস্টার্ন’

জামাইষষ্ঠীতে এ বছর বাফে লাঞ্চ ও ডিনার— দুইয়েরই আয়োজন রেখেছে এরা। আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে পদও। জামাই ষষ্ঠীর দিন বাফে শুরু হবে বেলা ১২.৩০ থেকে। চলবে বেলা ৩ টে পর্যন্ত। আর রাতে যেতে চাইলে পৌছন ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে।

শরবতের বিভাগে থাকছে তেঁতুল ও লেবু পাতা দিয়ে শরবত। এ ছাড়া বিশেষ লস্যি।

নানা প্রদেশের সুস্বাদু দু’রকমের স্যুপও মিলবে এবারের তালিকায়। ভেজ ও নন ভেজ স্যুপের আয়োজন মন ভোলাবে নিশ্চিত।

‘দ্য ললিত গ্রেট ইস্টার্ন’-এর জামাই ভোজ।

মেন কোর্সের আয়োজন মোটেও মন্দ নয়। সাদা ভাত তো থাকছেই, তার সঙ্গে আছে বাসন্তি পোলাও, কলকাতা মুর্গ দম বিরিয়ানি, কিমা বোটি পোলাও। প্রাদেশিক রান্না হিসেবে রয়েছে মির্চি অউর ব্যায়গন কা সালান।

ভাজাভুজি দিয়ে শুরু হলে মন্দ হয় না। আর এই তালিকায় থাকছে ভাজা মুরগি শিক কাবাব, ডিমের ডেভিল, ট্যাংরা স্টাইল চিলি পনির, কাঁচা আম-আলুর চপ।

ডালের বিষয়েও কার্পণ্য নেই আয়োজনে। থাকছে ডাল বালুচি, কড়াইশুটি দিয়ে মুগ ডাল।

নিরামিষাশীদের জন্যও থাকছে হরেক তরকারি। এ দিন বাফে-তে মিলবে বাঙালি রান্নার রকমফের। ধোকার ডালনা, নারকেল পোস্ত পটল, চাপর দিয়ে পাঁচমেশালি চচ্চড়ি, ভাজা মশলা দিয়ে আলুর দম। চাইনিজ পদও পাবেন বাফে-তে। থাকবে গ্রিমোলাতা ক্রাশড বেকড ভেজ, ওরিয়েন্টাল ভেজ ইন ব্ল্যাক বিন সস ও ফাদ থাই নুডল।

তবে জামাইষষ্ঠী কি আর নিরামিষে জমে? তাই আমিষাশী পদে মিলবে মুর্শিদাবাদী চক মুরগির ঝোল, গোয়ালন্দ মাটন কারি, থোর ভরা চিংড়ি ডালনা। আর বিদেশি রান্নায় মন ভরাতে চাইলে বাফে-তে চাখতে পারেন পমেরি মাস্টার্ড ম্যারিনেটেড ফিশ উইথ আমন্ড ভেলো ও ডাইস চিকেন উইথ মাফন্টেন চিলি কোরিয়েন্ডার সস।

মিষ্টির আয়োজনও এলাহি। কাঁঠালের পায়েস, শক্তিগড়ের ল্যাংচা, আমের রসমালাই যেমন থাকছে, তেমনই আছে পিস্তাচিও বিসকটি, লেমন-ম্যারিঙ্গো টার্টের মতো নানা রকম ডেজার্ট।

আনন্দ আরও কয়েক গুণ বাড়াতে লাইভ স্টলে থাকছে ফুচকা, পাটিসাপটা, ফ্রুট কেক ইত্যাদির কাউন্টারও।

দুপুরে খাওয়ার খরচ পড়বে জনপ্রতি ১৫৫০ টাকা (কর অতিরিক্ত) ও রাতে মাথাপিছু ১৯০০ টাকা (কর অতিরিক্ত)

ছবি: মৃণাল কান্তি হালদার