একরত্তি কি ধীরে ধীরে বড়দের দলে নাম লেখাতে চলেছে? কেবল মাতৃদুগ্ধ নয়, তরল খাবারও নয়, নরম খাবার খাওয়ানোর সময় হয়ে গিয়েছে কি? ব্যস্ততার জীবনে বাবা-মায়েরা সাধারণ প্যাকেটজাত খাবারই খাওয়ান তাঁদের সন্তানদের। বাইরে থেকে কেনা বেবি ফুড যথেষ্ট জনপ্রিয়। কিন্তু সম্প্রতি আমেরিকার একটি গবেষণায় দাবি উঠেছে, দোকানে থাকা বেবি ফুডের প্রায় ৭১ শতাংশই অতি-প্রক্রিয়াজাত। কোনওটিতে রং দেওয়া, কোনওটিতে ঘন করার উপাদান, কিছু খাবারে প্রচুর চর্বি বা চিনিও মেশানো থাকতে পারে।
কিন্তু শিশুর খাবার মানেই যে দোকানের প্যাকেটজাত কৌটোবন্দি, তা নয়। বাড়িতে অল্প কিছু উপকরণে খুব সহজেই শিশুর জন্য সুস্বাদু খাবার বানানো যায়। এতে সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, খাবারের ভিতরে কী রয়েছে, সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভাবে অবগত থাকা যায়। বাড়তি চিনি, নুন, রং বা সংরক্ষণকারী রাসায়নিক থাকে না তাতে। আর শিশুর স্বাদকোরকও ধীরে ধীরে তৈরি হতে থাকে। তা ছাড়া এই বিকল্প অনেক বেশি সাশ্রয়ীও বটে।
শিশুকে খাওয়ান ঘরের খাবার। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
শিশুদের জন্য দু’টি সহজ রেসিপি দেওয়া হল। বানাতেও সহজ, খেতেও ভাল আর শিশুর পেটের জন্যও বেশ আরামদায়ক।
প্রথম রেসিপি: আপেল ও কলার নরম পেস্ট
আপেল আর কলা দু’টিই শিশুর জন্য সহজপাচ্য ফল। এতে প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ থাকে, তাই শিশুরা অনেক সময় সহজেই খেতে চায়। এই খাবার পেট ভারী করে না, আবার শরীরে শক্তির জোগানও দেয়।
যা লাগবে
দু’টি পাকা আপেল
একটি পাকা কলা
যে ভাবে বানাবেন
আপেল ভাল করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। বীজ বার করে ছোট ছোট টুকরো করে নিন। এ বার একটি পাত্রে সামান্য জল দিয়ে আপেল ফুটিয়ে নরম করে নিন। আপেল নরম হয়ে গেলে আঁচ বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন। এর পর আপেল আর কলা এক সঙ্গে ভাল করে চটকে নিন। চাইলে মিক্সিতেও পিষে নিতে পারেন। পেস্টটি একেবারে নরম হলে শিশুকে খাওয়াতে পারেন। শিশুর বয়স অনুযায়ী পাতলা বা ঘন করে নিতে হবে। খাওয়ানোর আগে বাটি, চামচ ইত্যাদি ভাল করে স্টেরিলাইজ় (জলে ফুটিয়ে জীবাণুনাশ করার পদ্ধতি) করে নিতে হবে।
দ্বিতীয় রেসিপি: মিষ্টি আলুর নরম পেস্ট
মিষ্টি আলু স্বাদে মিষ্টি, তাই অনেক শিশু সহজে পছন্দ করে। এতে শরীরে শক্তি বাড়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ঠিক ভাবে রান্না করলে শিশুর পেটের জন্যও ভাল।
যা লাগবে
আধখানা মিষ্টি আলু
একটি গাজর
৩-৪টি ব্রকোলি/ ফুলকপির ফুল
যে ভাবে বানাবেন
মিষ্টি আলু, ব্রকোলি বা ফুলকপি এবং গাজর ভাল করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। ছোট ছোট টুকরো করে ভাপিয়ে নরম করে নিন। ঠান্ডা করে নিয়ে মিহি করে চটকে পেস্ট বানান। পেস্ট যদি খুব ঘন হয়, তা হলে সামান্য গরম জল মিশিয়ে নরম করে নিতে পারেন। তবে মিক্সার গ্রাইন্ডারও ব্যবহার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রেও একই নিয়ম মেনে চলতে হবে। খাওয়ানোর আগে বাসন ভাল করে স্টেরিলাইজ় করে নিতে হবে।