সকালে সাধারণ ঝগড়া হয়েছে, অথচ বিকেলেও তা থেকে বের হতে পারছেন না? টিভিতে শুনলেন ধস নেমে রাস্তা বন্ধ, অমনি চিন্তা শুরু হয়ে গেল ওই পথে ভবিষ্যতে বেড়াতে যাবেন কি না!
ভাবনার নেপথ্যে কারণ থাকে ঠিকই। কিন্তু কখনও সেই ভাবনা অকারণেও হতে পারে। বিষয় খুব সামান্য, আর তা নিয়েই দিনরাত ভেবে চলেন অনেকে। এমন তালিকায় কি আপনিও পড়েন?
আরও পড়ুন:
ব্যক্তিগত জীবন কিংবা পেশাগত জীবনে এমন অনেক ঘটনাই ঘটতে পারে, যা রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। রাত ফুরোলেই যে সব আবার আগের মতো হয়ে যায় এমনটাও নয়। তা থেকেই শুরু হয় দুর্ভাবনা, চিন্তা। কিছু বিষয় নিয়ে যেমন সত্যি ভাবা প্রয়োজন হয়, তেমনই অনেকেই অহেতুক চিন্তা করে শরীর খারাপও করেন। চিন্তামুক্ত হওয়া সহজ নয়, তবে অহেতুক চিন্তায় লাগাম পরানো জরুরি। মনোবিদেরা বলেন, অতিরিক্ত চিন্তায় মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তা ছাড়া, ভাবনার সূত্র যেমন নিজের হাতে, তেমনই তাকে থামানোর কৌশলটিও রপ্ত করা দরকার।
অভিযোগ নয়
কোনও ঘটনা বা বিষয় নিয়ে অভিযোগ, আক্ষেপ করেই চলেন? এতেও মাথার মধ্যে নেতিবাচক চিন্তা ঘুরপাক খায়। একটি গোটা দিন নিজেকে তা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে। মাথার মধ্যে এমন কোনও বিষয় এলে সেই ভাবনা থেকে নিজেকে সরানোর চেষ্টা করতে পারেন। বিষয়টি সহজ না হলেও চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে অভ্যাস কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
কী হতে পারত?
এটা হলে কী হত, ওটা ঘটলে আমি কী করব, এমন অহেতুক ভাবনা আসতে থাকে অনেকের। মস্তিষ্ক কাল্পনিক সমস্যায় ডুবে যেতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে পাল্টা নিজের মনকে ইতিবাচক প্রশ্ন করতে পারেন। এটা না হয়ে, ওটাও হতে পারে। ভালও হতে পারে। উল্টো প্রশ্নের ধাক্কায় নেতিবাচক চিন্তা থমকে যেতে পারে।
মন ঘোরাতে জোর করে কোনও কাজে নিজেকে ব্যস্ত করা যেতে পারে।
১০ সেকেন্ডের নিয়ম
নেতিবাচক খবরও মনে দুর্ভাবনা ঢুকিয়ে দেয়। এই ধরনের কথোপকথন, খবর কানে গেলে বা স্ক্রিনে দেখলে, একটু থমকে ভাবা দরকার, এগুলি কি এই মুহূর্তে আদৌ প্রাসঙ্গিক! মনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলে, চিন্তা ঘুরলে ১০ সেকেন্ড থমকে ভেবে দেখতে পারেন, সেটা নিয়ে ভাবা যুক্তিযুক্ত হচ্ছে কি না। ওই সময়েই মস্তিষ্ক সঙ্কেত দেবে, সেটা অপ্রয়োজনীয় কি না।
খারাপ ভাবা বন্ধ করুন
অনেক সময়ে মন কাল্পনিক বিপর্যয় নিয়ে চিন্তায় ডুবে থাকে। ভবিষ্যতে কী কী হতে পারে, তা নিয়ে মনগ়ড়া ছবি তৈরি করে নেয়। ক্রমাগত খারাপ চিন্তায় মন তোলপাড় হলে, শরীরেও প্রভাব পড়ে। তাই ভাবনায় কিছুটা সচেতন ভাবেই রাশ টানার চেষ্টা করা প্রয়োজন।