খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা। সকাল থেকে রাত কত কাজই করেন নিয়মিত। সে সব কাজ করার আগে অত ভাবনাচিন্তাও করেন না। অথচ অলক্ষ্যে সেই সব অভ্যাস দিব্যি প্রভাব ফেলছে আপনার স্বাস্থ্যে। কোনওটি ভাল করছে তো কোনওটির মন্দ প্রভাবে ক্ষতি হচ্ছে শরীরের। তেমনই পাঁচ নিত্য দিনের অভ্যাস ক্ষতি করছে দাঁতেরও। খুব ধীরে ধীরে ক্ষয় ধরছে, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দাঁত। ঠিক কোন কোন অভ্যাস গোপনে নষ্ট করছে দাঁত? জানা থাকলে আগে থেকে সতর্ক হতে পারবেন, বাঁচবে দাঁতের স্বাস্থ্যও।
১. অতিরিক্ত চা, কফি বা নরম পানীয় পান
চা বা কফিতে থাকা ‘ট্যানিন’ দাঁতে কালচে ছোপ ফেলে দেয়। আবার কার্বোনেটেড পানীয় বা কোল্ড ড্রিঙ্কসে প্রচুর পরিমাণে চিনি এবং অ্যাসিড থাকে, যা দাঁতের উপরিভাগের কঠিন স্তরে ক্ষয় ধরায়। ফলে দাঁত শিরশির করা বা ক্যাভিটির সমস্যা দেখা দেয়।
২. শক্ত ব্রাশ দিয়ে জোরে ব্রাশ করা
অনেকেই মনে করেন জোরে ব্রাশ করলে দাঁত বেশি পরিষ্কার হয়। আসলে বিষয়টি উল্টো। খুব জোরে বা শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে যায় এবং মাড়ি নীচের দিকে নেমে যায় । এতে দাঁতের গোড়া সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।
৩. দাঁত দিয়ে প্যাকেট খোলা বা শক্ত কিছু কামড়ানো
দাঁতকে আমরা প্রায়ই কাঁচির মতো ব্যবহার করি। চিপসের প্যাকেট খোলা, বোতলের ছিপি খোলা বা সুতো কাটা ইত্যাদি নানা কাজে কাজে লাগে দাঁত। এতে দাঁতে সূক্ষ্ম ফাটল দেখা দিতে পারে এবং যেকোনও সময়ে দাঁত ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
৪. খাওয়ার ঠিক পরেই ব্রাশ করা
টক ফল বা অ্যাসিডিক খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্রাশ করা ঠিক নয়। অ্যাসিডের কারণে দাঁতের এনামেল সাময়িকভাবে নরম হয়ে যায়। ওই অবস্থায় ব্রাশ করলে এনামেল দ্রুত ক্ষয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। খাওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে তারপর ব্রাশ করা উচিত।
৫. বারবার খাওয়ার অভ্যাস
খাবার খেলেই মুখের ভেতরের ব্যাক্টেরিয়া সেই খাবারের শর্করা ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে। যদি সারা দিনে বারে বারে অনেক বার অল্প অল্প করে মশলাদার খাবার বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে থাকেন, তবে দাঁত ক্রমাগত অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসতে থাকে। এতে ক্যাভিটি দাঁত ক্ষয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।