নতুন প্রজন্মের যাপনের ধরন-ধারণ ফ্যাটি লিভার রোগের দাপট বাড়িয়ে চলেছে। এই রোগ এখন আর বিরল নয়। অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, কম কায়িক শ্রম, ওজন বৃদ্ধি এবং বিপাকীয় সমস্যার কারণে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে কায়িক শ্রমের পাশাপাশি খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসেও পরিবর্তনও আনা দরকার।
দুপুরে এবং রাতে না হয় মেপে খাচ্ছেন, কিন্তু সান্ধ্য খাবার নিয়ে মাঝেমধ্যেই ভুল হয়ে যায়। অতিরিক্ত ভাজাভুজি বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খেয়ে ফেলেন রোগীরা। কিন্তু স্ন্যাক্সের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তাই এই বিভ্রান্তি কাটাতে সম্প্রতি এমস এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক সৌরভ শেট্টী সম্প্রতি এমন ৭টি খাবারের কথা বললেন, যা স্ন্যাক্স হিসাবে খাওয়া যায়।
ফ্যাটি লিভারের রোগীরা কী কী খেতে পারেন স্ন্যাক্স হিসাবে?
বাদাম ও বীজ
সান্ধ্য খিদের সময়ে আখরোট, আমন্ড, সূর্যমুখীর বীজ, চিয়া বীজ, তিসির বীজ ইত্যাদি খেতে পারেন নিশ্চিন্তে। এগুলি শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের ভাল উৎস। অনেকেই ফ্যাটের ভয়ে এগুলি এড়িয়ে চলেন। কিন্তু এই চর্বি শরীরের জন্য উপকারী এবং পরিমিত পরিমাণে খেলে সামগ্রিক বিপাকক্রিয়া ভাল থাকে। শরীরের জন্য উপকারী কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
পনির বা মোৎজ়ারেলা চিজ়
চিকিৎসকের মতে, পনির বা মোৎজ়ারেলা দিয়ে তৈরি সাধারণ চিজ় স্টিকও উপযুক্ত জলখাবার হতে পারে। এগুলিতে প্রোটিন এবং ক্যালশিয়াম থাকে, যা দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা অতিরিক্ত নুন মেশানো পণ্য বেছে নেওয়া উচিত নয়।
অ্যাভোকাডো
এটি এমন এক ফল যা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটে ভরপুর। নুন ও গোলমরিচ ছড়িয়ে নিলে খেতেও ভাল লাগবে। অ্যাভোকাডোয় ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টও রয়েছে। এগুলি শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতিতে খুবই উপকারী।
গ্রিক ইয়োগার্ট বা টক দই
নানা রকমের বাদাম ও বীজ মিশিয়ে ইয়োগার্ট বা দই খেলে পেট অনেক ক্ষণ ভরা থাকে। পাশাপাশি, এগুলি ফ্যাটি লিভারের রোগীদের জন্য অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর খাবার। প্রোটিনের পাশাপাশি অন্ত্রের উপকারী ব্যাক্টেরিয়া প্রোবায়োটিককে পুষ্টির জোগান দিতে পারে। ফলে বিপাকীয় সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
সব্জির স্ন্যাক্স
শসা, গাজর বা সেলারির মতো সব্জি ছোট ছোট টুকরো করে খাওয়া যেতে পারে। এগুলিতে ক্যালোরি কম, কিন্তু ফাইবার বেশি। ফলে খিদে মেটে, আবার অতিরিক্ত ক্যালোরিও শরীরে প্রবেশ করে না। চিকিৎসকের মতে, এর সঙ্গে কাবলিছোলা এবং তাহিনি সস দিয়ে তৈরি হুমাস মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে খিদে পেলে। এই যুগলবন্দি ফাইবার এবং প্রোটিনের ভাল উৎস।
সেদ্ধ ডিম
চট করে পেট ভরানোর জন্য সেদ্ধ ডিমের চেয়ে ভাল কীই বা হতে পারে! প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উৎস হিসাবে ভাল করে সেদ্ধ করা ডিম খেতে পারেন রোগীরা। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডিম সেদ্ধ খেতে হবে।
ভাপানো এডামামে
খোসা-সহ কাঁচা সয়াবিন অর্থাৎ এডামামে খাওয়া যেতে পারে। বাজারে না পেলে অনলাইনে অর্ডার করে নেওয়া যায়। এগুলি শুকনো অবস্থায় পাওয়া যায়। অল্প জলে ভাপিয়ে নিয়ে নুন ছড়িয়ে খেতে ভাললাগে এগুলি। এতে ফাইবার ও প্রোটিন রয়েছে ভরপুর।