ঘি, মাখন ভাল লাগলেও, হজমের সমস্যার জন্য আবার অনেকে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের বাড়াবাড়ির কারণে তা এড়িয়েই চলেন। তবে জানেন কি, মাখনও হতে পারে স্বাস্থ্য ভাল রাখার উপায়। কোলেস্টেরল কমাতে, হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করতে পারে মাখন। তবে তা তৈরি হয় কাঠবাদাম দিয়ে।
কাঠবাদামে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ই, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম। পেস্তা বি ভিটামিনের অন্যতম উৎস। এতে রয়েছে কপার, ভিটামিন বি ১, বি ৬। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে।
কাঠবাদামের মাখন তৈরি হয় বাদামে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। কাঠবাদাম শুকনো খোলায় নেড়েচেড়ে ফুড প্রসেসর দীর্ঘ ক্ষণ ঘোরালে, বাদামের মধ্যস্থ ফ্যাট বা তেল বেরিয়ে আসে। মাখনের মতো হয়ে যায়।
কাঠবাদামের মাখনের উপকারিতা
হার্ট ভাল রাখে
কাঠবাদামের মাখনে রয়েছে পলি এবং মনো আনস্যাচুপরেটেড ফ্যাট। এই ফ্যাট রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল বলে চিহ্নিত এলডিএল-এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফলে হার্ট ভাল থাকে।
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে
কাঠবাদামের মাখনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই মেলে, যা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। মস্তিষ্কের কোষগুলোকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে এবং স্নায়ুতন্ত্রের কার্যাবলিতে সাহায্য করে।
ত্বক ঔজ্জ্বল্য আনে
মাখনে থাকা ভিটামিন ই এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। বাদামের মাখন খেলে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমে ফলে ত্বক ভাল থাকে। ত্বকের জেল্লা ধরে রাখার জন্য ফ্যাটজাতীয় খাবার খাওয়া জরুরি। কাঠবাদামের স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সেই কাজটিও করে।
হজম শক্তি ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য
কাঠবাদামের খোসায় থাকা ফাইবার প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। এটি অন্ত্রের ভাল ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পেটের স্বাস্থ্য ভাল থাকা মানেই হজম ভাল হওয়া।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ
এতে কার্বোহাইড্রেট কম কিন্তু ফাইবার, প্রোটিন এবং ম্যাগনেশিয়াম প্রচুর থাকে। ম্যাগনেশিয়াম ইনসুলিন নামক হরমোনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে ডায়াবেটিকেরাও এটি খেতে পারেন।
তবে উপকারী হলেও, নিয়মিত খাওয়ার আগে সতর্কতা জরুরি। এতে থাকা উচ্চমাত্রার ফ্যাট অনেকে হজম করতে পারেন না। বিশেষত লিভারের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে। ডায়েটে জুড়লেও মাখন এক চামচের বেশি খাওয়া ঠিক নয়।