Advertisement
E-Paper

চল্লিশ পেরিয়ে রক্তাল্পতা? রজোনিবৃত্তি পর্বে এসেও হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি হয়, কী ভাবে সামলাবেন?

চল্লিশ পেরিয়ে অনেক মহিলই শারীরিক ও হরমোনজনিত নানা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যান। এই পর্বটিকে বলে 'পেরিমেনোপজ়'। এই সময়ে অত্যধিক রক্তপাতের কারণে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি হয় অনেকেরই। ওই বয়সে এসে রক্তাল্পতার ধাক্কা সামলাবেন কী উপায়ে?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ১৭:৫৯
Anaemia  after 40, how to tackle Hemoglobin drop during Perimenopause

চল্লিশ পেরিয়ে শুধু সাপ্লিমেন্ট নয়, কী কী খেলে রক্তাল্পতা হবে না? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রজোনিবৃত্তির পর্যায়টা খুবই কঠিন। ঋতুচক্র শুরুর যেমন নির্দিষ্ট সময় আছে, তেমনই শেষ হয়ও সময় ধরেই। কারও কিছুটা আগে, কারও পরে। ঋতুচক্র হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় না, বরং এই পর্বটা আসে ধীরে ধীরে। রজোনিবৃত্তির দুই থেকে তিন বছর আগে এমন এক পর্যায় আসে,, যখন মহিলাদের শরীরে হরমোনের তারতম্য খুব বেড়ে যায়। ওই পর্বেই শরীরে ক্যালশিয়ামের ঘাটতি বাড়ে, মেদ জমতে থাকে পেটে ও কোমরে। সেই সঙ্গে হতে পারে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই পর্যায়টিকে বলে ‘পেরিমেনোপজ়’। এ সময়ে শরীরের পাশাপাশি মানসিক দিক থেকেও অনেক বদল আসে। রজোনিবৃত্তির পূর্ববর্তী এই পর্বে রক্তাল্পতা হলে শুধু সাপ্লিমেন্ট খেয়ে কাজ হবে না। ডায়েটেও কিছু জরুরি বদল আনতে হবে।

চল্লিশের পরে কেন হতে পারে রক্তাল্পতা?

পেরিমেনোপজ় পর্বে ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। স্ত্ররোগ চিকিৎসক মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই পর্বে এসে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের ক্ষরণে তারতম্য দেখা দেয়। প্রোজেস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে জরায়ুর ভিতরের দেওয়াল অতিরিক্ত পুরু হয়ে যায়। সে সঙ্গে ঋতুস্রাবও অনিয়মিত হতে শুরু করে। অনেকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রক্তপাত হয়। শরীর থেকে টানা কয়েক মাস ধরে অতিরিক্ত রক্ত বেরিয়ে গেলে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি দেখা দেয়। তা ছাড়া অনেক মহিলারই ওই বয়সে জরায়ুতে ফাইব্রয়েডের (একধরনের টিউমার, যা ক্যানসার নয়) সমস্যা হতে দেখা যায়। ফাইব্রয়েড হলে ঋতুস্রাবের সময়ে অস্বাভাবিক রক্তপাত হয়, যা রক্তাল্পতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

আয়রনের ঘাটতি মেটানোর উপায় কী?

প্রোটিন জাতীয় খাবার বা মাছ, মাংস, ডিম বেশি করে খেতে হবে। যাঁরা নিরামিষ খান, তাঁদের নানা রকম ডাল, পনির, ছানা খেতে হবে।

গাজর, নানা রঙের বেলপেপার খাওয়া ভাল। এতে থাকা বিটা ক্যারোটিন শরীরে ভিটামি এ-তে পরিণত হয়, যা আয়রন শোষণে সাহায্য করে।

বেসন আয়রনের ভাল উৎস। তার মধ্যে কুচোনো পালংশাক, পেঁয়াজ ও ধনেপাতা মিশিয়ে চিলা বানালে সকালের খাবার হয়ে ওঠে আরও পুষ্টিকর। টক দই দিয়ে সকালের জলখাবারে এমন চিলা খেতে পারেন।

রাঙাআলু, ব্রকোলি, পেঁয়াজকলি, কুমড়ো, বাঁধাকপির মতো সব্জি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলে ভাল।

খেজুর, কিশমিশ, অ্যাপ্রিকট, বেদানা, তরমুজ, স্ট্রবেরির মতো ফলে প্রচুর আয়রন থাকে। এই ধরনের ফল খেলে উপকার হবে।

রাগি আয়রনে সমৃদ্ধ। ওট্‌স, ডালিয়া ও নানা রকম দানাশস্য খেলেও আয়রনের ঘাটতি মিটবে।

ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সাহায্য করে। রোজের খাবারে লেবু জাতীয় ফল রাখলে ভাল। সে পাতিলেবু, গন্ধরাজ লেবু, কমলালেবু বা মোসাম্বিও হতে পারে। তা ছাড়া পেয়ারা, আমলকি, টম্যাটো খেলেও উপকার হবে।

অঙ্কুরিত মুগ বা ছোলার ডাল আয়রনের ভাল উৎস। তার মধ্যে পেঁয়াজ, টম্যাটো, ধনেপাতা আর লেবুর রস মিশিয়ে চাট বানানো যায়। সন্ধ্যার জলখাবারে এমন খাবার রাখতেই পারেন।

Anemia Menopause
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy