পেট ভাল মানেই, শরীর অনেকটাই সুস্থ। সঠিক সময়ে খিদে পাওয়া, নিশ্চিন্তের ঘুম ও নিয়ম মেনে পেট সাফ হলে বোঝাই যাবে, যে পেটে কোনও অসুখ ধরেনি। আবার পেট যদি ভাল থাকে, খাবার হজম ঠিকঠাক হয়, তা হলে লিভারও চনমনে থাকবে। শরীর অসুস্থ হলে যেমন তার কিছু উপসর্গ প্রকাশ পায়, তেমন সুস্থ থাকলেও তার সঙ্কেত দেয় শরীর। ইদানীং লিভারের নানা অসুখ যে ভাবে বেড়ে চলেছে, ফ্যাটি লিভার চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে, তাতে অনেকেরই মনে হতে পারে লিভার আদৌ ভাল আছে তো? তলে তলে কোনও রোগ বাসা বাঁধেনি তো? আশঙ্কা যদি এমনই হয়, তা হলে চিন্তা সরিয়ে বরং শরীরের কিছু লক্ষণ মিলিয়ে নিন। লিভার ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য কেমন, তা কিছু সঙ্কেতে জানান দেবে শরীর নিজেই।
কোন কোন লক্ষণ দেখে বুঝতে হবে লিভার ও অন্ত্রে রোগ নেই
কোষ্ঠকাঠিন্যে নেই
সবচেয়ে আগে দেখতে হবে পেট সাফ নিয়মাফিক হচ্ছে কি না। সমস্যা থাকলে বা হজমে গোলমাল হলে, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম হতে পারে। তখন পেট পরিষ্কারে সমস্যা হবে। পেটে যন্ত্রণা, পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দেবে। তা ছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য যাঁদের আছে, তাঁদের বুঝতে হবে অন্ত্র একেবারেই ভাল নেই। আর অন্ত্রে গোলমাল হলে তার রেশ লিভার অবধি ছড়াবেই।
জিভের রং
পেট কেমন আছে তা বোঝা যাবে জিভের রং দেখেও। যদি জিভ পরিষ্কার, হালকা গোলাপি রঙের হয় এবং উপরে কোনও সাদা বা হলদেটে আস্তরণ না থাকে, তবে এটি সুস্থ লিভার এবং সঠিক হজমের লক্ষণ। জিভের উপর লাল লাল ছোপ, ক্ষতের দাগ দেখা দেয় অনেকের। তেমন হলে বুঝতে হবে লিভারে রোগ বাসা বাঁধছে। শরীরে জলের ঘাটতিও হচ্ছে। হলুদ বা সবুজ আস্তরণ পড়তে থাকলে বুঝতে হবে সংক্রামক ব্যাক্টেরিয়া বাসা বাঁধছে শরীরে।
প্রস্রাবের রং
লিভারের অন্যতম প্রধান কাজ হল শরীর থেকে বর্জ্য বার করে দেওয়া। যদি প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ বা স্বচ্ছ হয় এবং তাতে কোনও দুর্গন্ধ না থাকে, তবে বুঝতে হবে লিভার শরীরকে ঠিকঠাক ডিটক্স করতে পারছে। প্রস্রাবের রং যদি গাঢ় হলুদ হয়, সে ক্ষেত্রে জন্ডিসের একটা আশঙ্কা থেকে যায়। তেমন হলে অতি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আরও পড়ুন:
একই সময়ে খিদে
রোজ যদি নির্দিষ্ট সময়েই খিদে পায়, তা হলে বুঝতে হবে লিভার ভাল আছে। হজমও ভাল ভাবে হচ্ছে। কিন্তু যদি খিদে কমে যায়, খাবার খাওয়ার পরেই পেট ভার হয়ে যায় বা পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দেয়, বমি ভাব থাকে, তা হলে বুঝতে হবে লিভার ও অন্ত্র ভাল নেই।
খাওয়ার পরে ঝিমুনি
অনেকের খাবার খাওয়ার পর খুব ঘুম পায় বা ক্লান্তি আসে। কিন্তু পেট ও লিভার ঠিক থাকলে খাওয়ার পর ক্লান্তি বোধ হবে না, বরং শরীরে শক্তি অনুভব করবেন। এটি নির্দেশ করে যে বিপাক প্রক্রিয়া ঠিক ভাবেই চলছে।
মুখে দুর্গন্ধ নেই
ব্রাশ করার পরেও মুখে দুর্গন্ধ থাকলে বুঝতে হবে খাবার ঠিকমতো হজম হচ্ছে না। যাঁদের বদহজমের সমস্যা লেগেই থাকে, ঘন ঘন গ্যাস, অম্বলের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের মুখে দুর্গন্ধ বেশি হয়।
স্থিতিশীল ওজন
বিপাকক্রিয়া ঠিকমতো চললে ওজন হঠাৎ করে বেড়ে বা কমে যায় না। লিভার যদি ঠিকমতো ক্যালোরি পোড়াতে পারে, তা হলে মেদ জমার প্রবণতাও কম থাকবে। ওজন প্রায় স্থিতিশীল থাকবে।