বয়স বাড়লে স্বাভাবিক ভাবেই হাড়ের জোর কমতে থাকে। বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যেরা তার অন্যতম উদাহরণ। বসলে উঠতে পারেন না। আবার বসতে গিয়েও সমস্যা হয় অনেকেরই। ইদানীং কম বয়সেও অস্থিসংক্রান্ত নানা সমস্যা দেখা দিতে শুরু করেছে। তবে একটা বয়সের পর এই ধরনের অসুস্থতা জাঁকিয়ে বসে। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, বিশ্বে বয়সজনিত কারণে হাড়ে যে সমস্যাগুলি দেখা দেয়, অস্টিয়োপোরেসিস তার মধ্যে অন্যতম। বয়স ৩০-এর কোঠা পেরোলেই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বা়ড়তে থাকে। সমীক্ষা জানাচ্ছে, সারা বিশ্বে ৫০ পার করা মহিলাদের তিন জনের মধ্যে এক জন আক্রান্ত হয়েছেন এই রোগে। সারা বিশ্বে প্রায় ২০ কোটি মানুষ অস্টিয়োপোরেসিসে আক্রান্ত। এই রোগে হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। সেই ঝুঁকি কমাতে ভরসা রাখতে পারেন কয়েকটি পানীয়ে।
হলুদ-দুধ
দুধে রয়েছে ক্যালশিয়াম, যা হাড়ের যত্ন নেয়। হাড় শক্ত এবং মজবুত করতে ক্যালশিয়ামের জুড়ি মেলা ভার। ক্যালশিয়ামের অভাবে মূলত হাড়ের নানা সমস্যা দেখা দেয়। অস্টিয়োপোরেসিস তার মধ্যে অন্যতম। হলুদেও রয়েছে কিউমিন নামক উপাদান, যা হাড় শক্ত এবং মজবুত রাখে। ফলে দুধের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে খেলে হাড় সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি কমে।
সব্জির স্মুদি
সব্জিতে রয়েছে নানা ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের মতো উপাদান। যা হাড়ের যত্ন নেয়। অস্টিয়োপোরেসিসের ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন সব্জি দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন স্মুদি। সপ্তাহে কয়েক দিন খেলেও যত্নে থাকবে হাড়। স্মুদি খানিক সুস্বাদু এবং আরও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে টক দই মিশিয়ে নিন। টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান অস্থিসংক্রান্ত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
বেদানার রস
উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুরু করে হাড় সংক্রান্ত ব্যথা-বেদনা, বেদানা অনেক ব্যথাযন্ত্রণার উপশম ঘটায়। বিশেষ করে হাড়ের নমনীয়তা বৃদ্ধি করতে এবং মজবুত করতে, বেদানার রসের জুড়ি মেলা ভার। অস্টিয়োপোরেসিসের রোগীদের বেদানার রস খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। এই রোগের ঝুঁকি কমাতেও বেদানার রসের ভূমিকা অনবদ্য।