এক কালে যখন কথায় কথায় ডাক্তার বদ্যির কাছে যাওয়ার চল ছিল না। তখন এই সমস্ত ছোটখাট ঘরোয়া ‘ওষুধ’ রোগভোগ দূরে রাখত। আর এই ধরনের বেশ কিছু ‘ওষুধ’ তাদের নিজগুণেই এ যুগেও একই ভাবে প্রাসঙ্গিক। যেমন, ঘিয়ে ভাজা রসুন।
শীতকালে গরম ভাতে ঘিয়ে ভাজা রসুন খাওয়া এক অতি পুরনো ঘরোয়া টোটকা। বাড়িতে বয়স্ক মানুষ থাকলে জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন। অনেকেই হয়তো শীত কালে বা ঋতুপরিবর্তনের সময় গরম ভাতের সঙ্গে প্রথম পাতে ঘিয়ে ভাজা একটি বা দু’টি রসুন খেয়ে থাকবেন। কারণ, তাঁরা শুনেছেন, এতে নানারকম রোগ দূরে থাকে। সেই দাবির নেপথ্যে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও আছে। তারকা পুষ্টিবিদ রুজুতা দ্বিবেকর জানিয়েছেন, শীতে গরম ভাতের সঙ্গে ঘিয়ে ভাজা ২-১ কোয়া রসুন খেলে কী কী উপকার হতে পারে।
১. শরীর উষ্ণ থাকে
রসুন এবং ঘি—দু’টি উপাদানেই শরীরকে উষ্ণ রাখার ক্ষমতা রয়েছে। শীতে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এবং ভেতর থেকে শরীর গরম রাখতে তাই এই টোটকা দারুণ কার্যকর। এতে বিপাকের হার বেড়ে শরীরে শক্তিও জোগায়।
২. ঠান্ডা লাগার সমস্যা থেকে মুক্তি
শীতকালে ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার প্রকোপ বেড়ে যায়। রসুনে থাকা অ্যালিসিন নামক উপাদান প্রাকৃতিক অ্যান্টি-বায়োটিক ও অ্যান্টি-ভাইরাল হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত এটি খেলে সাধারণ সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা এবং সাইনাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
ঘিয়ে আছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। যা রসুনের সব পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ ভাবে আহরণ করতে সাহায্য করে শরীরকে। ফলে রসুনের অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট আরও সক্রিয় ভাবে কাজ করে শরীরে। ঘিয়ে ভাজা রসুন তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
৪. ব্যথা উপশম
শীতের কনকনে ঠান্ডায় অনেকেরই পুরনো বাতের ব্যথা বা অস্থিসন্ধির ব্যথা বেড়ে যায়। রসুনে থাকা শক্তিশালী প্রদাহনাশক উপাদান এবং ঘি অস্থিসন্ধির নমনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ভাতের সঙ্গে ঘিয়ে ভাজা রসুন খেলে ব্যথায় আরাম পাওয়া যায়।
৫. হজমশক্তি বৃদ্ধি
শীতকালে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা মন্থরগতি হয়ে যায়, ফলে পেট ফোলা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়। ঘি হজমে সাহায্যকারী এনজাইম নিঃসরণে সাহায্য করে। রসুন অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করে হজমশক্তিকে উন্নত করে।