মেঘ-বৃষ্টির আবহাওয়ায় গরম চা যেমন খেতে ভাল লাগে, তেমনই স্বাস্থ্যের জন্যও তা ভাল। কারণ বর্ষাকালে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, সর্দি-কাশি, ফ্লু এবং পেটে সংক্রমণের মতো অসুখ লেগেই থাকে। চায়ে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে, সেই সব রোগের সঙ্গে যুঝতে সাহায্য করে। এমনিতে দুধ-চিনি ছাড়া লাল চা যে একেবারেই উপকারী নয়, তা নয়। কিন্তু অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের কথা মাথায় রেখে যদি চা বাছতে হয়, তবে গ্রিন টি বেশি ভাল। আবার চায়ের দুনিয়ায় হোয়াইট টি-র কদর গ্রিন টি-র চাইতেও বেশি। তার মৃদু সুগন্ধ অন্যরকম আমেজ তৈরি করে। তবে কি বর্ষাকালে রোগবালাই দূরে রাখতে গ্রিন টি-র চেয়েও ভাল হোয়াইট টি?
গ্রিন টি বনাম হোয়াইট টি
গ্রিন টি এবং হোয়াইট টি—উভয়ই তৈরি হয় ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস নামের গাছ থেকে। তবে এদের প্রক্রিয়াকরণ বা প্রসেসিং-এর পার্থক্যের কারণে কার্যকারিতায় কিছুটা তফাত দেখা যায়।
গ্রিন টি: গ্রিন টি-তে রয়েছে ‘এপিগ্যালোকাটেচিন গ্যালেট’ (ইজিসিজি) নামের এক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা থাকে প্রচুর পরিমাণে। এটি শরীরের মেটাবলিজ়ম বৃদ্ধি করতে তো পারেই, সেই সঙ্গে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধেও ভাল লড়াই করতে পারে। এ ছাড়া বর্ষাকালীন হজমের সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করতে পারে ইজিসিজি নামের ওই অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট।
হোয়াইট টি: হোয়াইট টি মূলত গাছের কুঁড়ি এবং কচি পাতা থেকে তৈরি হয়। আর এই চা খুব বেশি প্রক্রিয়াকরণ করা হয় না। বলা ভাল, চায়ের যত রকমফের রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে কম প্রক্রিয়াজাত চা হোয়াইট টি-ই। চা পাতার প্রক্রিয়াকরণ বেশি হলে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের মাত্রা কমে যায়। হোয়াইট টি-তে তেমন হওয়ার সুযোগ কম। এর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের পরিমাণ গ্রিন টি-র থেকেও কিছুটা বেশি থাকে। যা শরীরের কোষগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে এবং দ্রুত রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করতে কার্যকর।
বর্ষায় কোনটি খাওয়া বেশি ভাল?
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে দুটি চা-ই ভাল। তবে বিশেষজ্ঞেরা মনে করেন, দৌড়ে হোয়াইট টি সামান্য এগিয়ে থাকবে।
কম প্রক্রিয়াজাত হওয়ায় এতে প্রাকৃতিক ফ্ল্যাভোনয়েড এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের মাত্রা যেহেতু অনেকটাই বেশি থাকে, তাই শরীর বর্ষার ভাইরাস এবং ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে যুঝতে পারে বেশি।
তবে যদি বর্ষায় গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা বেশি হয়, তবে গ্রিন টি বেশি উপকারে লাগতে পারে।
অতএব
দেখা যাচ্ছে দুটি চায়েরই নিজস্ব স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় সুস্থ থাকতে যে কোনও একটি বেছে নিতে পারেন। তবে শুধু চা খেয়ে শরীর ঠিক রাখা যাবে না যদি সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় না রাখেন। পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিশ্রুত জল পানের অভ্যাসও বর্ষায় সুস্থ থাকার জন্য জরুরি।