আবহাওয়া বদলে ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি-কাশি লেগেই থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে জ্বরে ভোগার পরে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তার উপর যদি পেটের সমস্যা থাকে, তা হলে খিদে কমে যাওয়া, সবসময়ে বমি ভাব থাকার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। পেশির শক্তি কমে, শরীর আরও দুর্বল লাগে। তাই এই সময়ে ওষুধের পাশাপাশি ঘরোয়া পথ্যেই বেশি জোর দিতে বলেন চিকিৎসকেরা। সে ক্ষেত্রে শুধু ওআরএস নয়, শরীরে শক্তির জোগান দেবে বেশ কিছু ইলেকট্রোলাইট পানীয়।
ইলেকট্রোলাইট নামটির সঙ্গে সকলেই কমবেশি পরিচিত। নুন-চিনির জল বলে যা খাওয়া হয়, তা-ও একধরনের ইলেকট্রোলাইট সলিউশন। ইলেকট্রোলাইট আসলে কী? জলে মিশে থাকা কিছু খনিজ আয়নই হল ইলেকট্রোলাইট। যেমন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি। শরীরে এই খনিজ পদার্থগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখা সুস্থ থাকার পক্ষে খুবই জরুরি।
কোনও কারণে শরীরের জলীয় পদার্থ বেশি মাত্রায় বেরিয়ে গেলে শরীর ডিহাইড্রেটেড বা জলশূন্য হয়ে পড়ে। যেমন, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, ব্যায়াম, পেটখারাপ, বমি, দীর্ঘ সময় ধরে জ্বরে ভুগলে বা অসুস্থ থাকলে এমন হতে পারে। শরীর থেকে জলের সঙ্গে সোডিয়াম, পটাসিয়ামের মতো অতি প্রয়োজনীয় খনিজও বাইরে চলে যায়। তখন শরীর অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়ে, পেশির খিঁচুনি দেখা দেয়। তাই এই সময়ে ইলেকট্রোলাইট পানীয় খাওয়া বেশি জরুরি।
আরও পড়ুন:
কী কী পানীয় শরীরে শক্তি জোগাবে?
লেবু-মধুর ইলেকট্রোলাইট
খুবই সাধারণ ঘরোয়া উপায়ে এই পানীয় বানানো যায়। জ্বর বা পেটখারাপের সমস্যা হলে এক গ্লাস জলে একটি গোটা পাতিলেবু ও মধু মিশিয়ে নিন, তাতে মেশান এক চিমটে ব্ল্যাক সল্ট। এই পানীয় দিনে দু’বার খেলে শরীরে জলশূন্যতা হবে না।
ডাবের জল-ফলের রসের ডিটক্স
দু’কাপ জল আর এক কাপ ডাবের জল মিশিয়ে নিন আগে। এর পর তাতে আধ কাপের মতো কমলালেবুর রস, এক চামচ পাতিলেবুর রস, এক চামচ মুসাম্বির রস, সৈন্ধব লবণ আধ চামচ, মধু ১ থেকে ২ চামচ মিশিয়ে দিন। উপর থেকে পুদিনা পাতা ছড়িয়ে দিন।
আপেল-দারচিনির ডিটক্স
একটি গোটা আপেল ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে। এ বার একটি কাচের জারে জল নিয়ে আপেল টুকরো ও ২-৩টি দারচিনির স্টিক ফেলে দিন। তাতে কিছু পুদিনা পাতাও মেশাতে পারেন। ঘণ্টা দুয়ের জারটি ফ্রিজে রেখে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে ডিটক্স পানীয়। এই জল ওজন কমাবে, পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রাও কমাবে।