ওজন কমানোর যাত্রায় পা রাখেন অনেকেই। কেউ সফল হন, কেউ হন না। আর সেই যাত্রা নিয়ে নানা কাহিনি শোনা যায়। কেউ ডায়েট করেন, কেউ জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটান, কেউ বা একেবারে অন্য কোনও পথ অবলম্বন করেন। কৌতুকাভিনেত্রী ঐশ্বর্যা মোহনরাজ তৃতীয় পন্থায় হেঁটে ওজন ঝরিয়েছেন। আর সম্প্রতি তিনি নিজে তাঁর ওজন কমানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন।
মাত্র ৬ মাসে ২০ কেজি ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। অনুরাগীরা বলছেন, তাঁকে এখন চেনা দায়। সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছেন নিজেকে। তবে এই পরিবর্তনের নেপথ্যে মুখ্য ভূমিকায় ডায়েট বা ব্যায়াম, কোনওটিই ছিল না। চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া একটি ওষুধই কাজ দিয়েছে কেবল। আর সেটি হল, মউনজরো। যেই ওষুধটি ওজ়েম্পিকেরই দলভুক্ত বলা যেতে পারে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা এখন সমাজমাধ্যমে একাংশের আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে।
মউনজরো। ছবি: সংগৃহীত
ঐশ্বর্যা জানিয়েছেন, ছোট থেকেই তিনি খুব রোগা ছিলেন। কৌতুকাভিনেত্রীর কথায়, ‘‘তখন কোনও সমস্যা হত না, কারণ সমাজ যেন কেবল রোগাদের জন্যই তৈরি। ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে থাকায় অসুবিধার সৃষ্টি হয়।’’ এক সময়ে তাঁর ওজন প্রায় ৫১ কেজি ছিল। কিন্তু কিছু বছরের মধ্যে তা দ্রুত বেড়ে প্রায় ৭০ কেজির কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তার মাঝে তাঁর বিয়েও হয়। কিন্তু যাপন পরিবর্তন এর কারণ ছিল না। পরে জানা যায়, তাঁর পিসিওডি এবং হাইপোথাইরয়ডিজ়ম রয়েছে। এই দু’টি সমস্যাই ওজন নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তোলে। এর পাশাপাশি ইনসুলিন প্রতিরোধের সমস্যাও ছিল, যার জন্য চিকিৎসকেরা ওষুধ দেন। তিনি ডায়াবিটিস ও থাইরয়েডের ওষুধও খেয়েছেন। ওজন কমাতে তিনি প্রথমে স্বাভাবিক পথই বেছে নিয়েছিলেন। নিয়মিত ব্যায়াম করতেন, জাঙ্কফুড খেতেন না, প্রোটিন ও ফাইবারের উপরই নির্ভর করতেন এবং প্রতি দিন প্রায় ১০ হাজার পা হাঁটার অভ্যাসও করেছিলেন। এতে শরীরের মাপ কিছুটা কমলেও ওজন খুব একটা কম ছিল না। পরে পায়ের তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং প্লান্টার ফ্যাসাইটিস শনাক্ত হয়। ফলে ব্যায়াম প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং ওজন কমানোর প্রক্রিয়াও থেমে যায়। জাঁকিয়ে বসে মানসিক অবসাদ। তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে যেন লুকিয়ে ফেলেন, আড়াল করে ফেলেন। আর তখনই চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তপরীক্ষা করিয়ে এই ওষুধ শুরু করেন।
ওজ়েম্পিক, উইগোভি, মউনজরো, সাকসেন্ডার মতো ওষুধগুলি ওজন হ্রাসের ওষুধ নয়, কিন্তু ওজন কমাতে সাহায্য করে। জিএলপি-১ (গ্লুকাগন-লাইক-পেপ্টাইড-১) এবং জিআইপি (গ্লুকোজ়-ডিপেন্ডেন্ট ইনসুলিনোট্রোপিক পলিপেপ্টাইড বা গ্যাস্ট্রিক ইনহিবিটোরি পেপ্টাইড), এই দু’টি হরমোনের উপর কাজ করে এই ওষুধগুলি। ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো হয়। এই ওষুধ মূলত টাইপ-২ ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়, তবে ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়।
আরও পড়ুন:
ঐশ্বর্যা জানান, প্রথম সপ্তাহেই প্রায় এক কেজি ওজন কমে যায়। প্রথম মাসে কমে প্রায় চার কেজি। এই চিকিৎসা ছ’মাস চলার পর তাঁর ওজন ৭৪ কেজি থেকে কমে প্রায় ৫২ কেজিতে নেমে আসে। অর্থাৎ মোটামুটি ২০ কেজি ওজন কমে যায়। ওষুধ নেওয়ার প্রথম দিকে তীব্র বমি ভাব হচ্ছিল। দ্রুত ওজন কমার ফলে চুল পড়ার সমস্যাও দেখা দেয়। এ ছাড়া এই চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। ইঞ্জেকশনের প্রতিটি শটের দাম প্রায় চার হাজার টাকা। এই ধরনের ওষুধ সবার জন্য উপযুক্ত নয়। এটি সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শে এবং নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ঐশ্বর্যা সেই দলে পড়তেন বলেই তাঁকে এই ওষুধ দেওয়া হয়।
তাই শুধু দ্রুত ওজন কমানোর আশায় এই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা ঠিক নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ— এই তিনটি বিষয়ই স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।