Advertisement
E-Paper

রোগা হওয়ার ওষুধের জনপ্রিয়তা বাড়়ছে! ৬১ শতাংশ চর্বি ঝরালেও অন্য রোগের ঝুঁকি! কারা নিতে পারেন

ওজ়েম্পিক, উইগোভি, মউনজ়রো, সাকসেন্ডার মতো ওষুধগুলি ওজন হ্রাসের ওষুধ নয়। কিন্তু চর্বি ঝরানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩১
ওজ়েম্পিকের মতো ওষুধ কারা ব্যবহার করতে পারবেন?

ওজ়েম্পিকের মতো ওষুধ কারা ব্যবহার করতে পারবেন? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

প্রসাধনী নয়, নিছকই ওষুধ। মধুমেহ সংক্রান্ত চিকি়ৎসায় কার্যকরী ফল দিলেও ওজ়েম্পিক, উইগোভি, মউনজ়রো, সাকসেন্ডার মতো ওষুধগুলি সম্পর্কে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। না হলে ক্যানসার হতে পারে। মধুমেহ চিকিৎসক আশিস মিত্রের থেকে এই ওষুধের খুঁটিনাটি জেনে নিন।

ওজ়েম্পিকের মতো ওষুধগুলি কী ভাবে শরীরে কাজ করে?

ওজ়েম্পিক, উইগোভি, মউনজ়রো, সাকসেন্ডার মতো ওষুধগুলি ওজন হ্রাসের ওষুধ নয়। জিএলপি-১ (গ্লুকাগন-লাইক-পেপ্টাইড-১) এবং জিআইপি (গ্লুকোজ়-ডিপেন্ডেন্ট ইনসুলিনোট্রোপিক পলিপেপ্টাইড বা গ্যাস্ট্রিক ইনহিবিটোরি পেপ্টাইড), এই দু’টি হরমোনের উপর কাজ করে এই ওষুধগুলি। ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানোর পর ওষুধগুলি চারটি প্রধান কাজ করে—

১. ইনসুলিনের ক্ষরণ ঘটায় ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়।

২. গ্লুকাগন হরমোনের কর্মক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়।

৩. খাবার খাওয়ার ও পেট খালি হওয়ার সময়ের ব্যবধান বাড়িয়ে দেয়, ফলে দ্রুত খিদে পায় না। সুস্থ শরীরে খাবার প্রথমে পাকস্থলীতে ৪ ঘণ্টা থাকে, তার পর অন্ত্রে নেমে যায়। কিন্তু এই ওষুধগুলির ফলে খাবার আরও কয়েক ঘণ্টা পাকস্থলীতেই থেকে যায়। ফলে পেট ভরা থাকে অনেক ক্ষণ। আর ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ কমে যায়।

৪. মস্তিষ্কের দু’টি অংশের মধ্যে একটিতে খিদে বোধের সঙ্কেত দেয়, অন্যটি পেট ভরার সঙ্কেত পাঠায়। এই ওষুধগুলির ফলে খিদে পাওয়ার তাগিদ কমে যায় এবং মস্তিষ্কে খিদের বোধই তৈরি হয় না।

ওষুধগুলি কারা নিতে পারবেন?

এই ওষুধ ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্য প্রেসক্রাইব করা হয়। বিশেষ করে যে রোগীরা ডায়াবিটিসের পাশাপাশি স্থূলত্বের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের এই ওষুধ খাওয়ানো হয়। ভুঁড়ি বেড়ে যাচ্ছে, শরীরের নানা অংশে মেদ জমছে, এ রকম টাইপ ২ ডায়াবিটিসের রোগী এবং স্থূলত্বের রোগীদের ক্ষেত্রে ওজ়েম্পিকের মতো ওষুধ ব্যবহার করা হয়।

চিকিৎসক বলছেন, ‘‘স্থূলত্বের সমস্যা রয়েছে কি না, সেটা বোঝার জন্য আমরা বডি মাস ইনডেক্স হিসেব করি। যাঁদের বিএমআই ৩৫-এর উপর, তাঁরা অবশ্যই এই ওষুধ নিতে পারেন। যাঁদের ডায়াবিটিস এবং কো-মর্বিডিটি (হার্টের রোগ, স্লিপ অ্যাপনিয়া) আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বিএমআই ২৭-এর উপর হলেও দেওয়া হয়।’’

ওষুধগুলি কারা নিতে পারবেন না?

এই ওষুধ খুব কার্যকরী হলেও অনেক রোগীর ক্ষেত্রে এটি প্রেসক্রাইব করা হয় না। যাঁদের প্যানক্রিয়াটাইটিসের ইতিহাস রয়েছে, গলব্লাডারে পাথর রয়েছে অথবা পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের জন্য এই ওষুধ অন্যান্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। চিকিৎসক জানালেন, প্রাণীর শরীরে পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, এই ধরনের ওষুধ থাইরয়ে়ডের ক্যানসারের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক। আল্ট্রাসোনোগ্রাফির মতো কিছু পরীক্ষা করে নেওয়ার পরই এই ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লেখেন চিকিৎসকেরা।

কেমন প্রস্তুতি দরকার?

শারীরিক ভাবে সক্রিয় না হলে ওজ়েম্পিকের মতো ওষুধ কোনও ভাবেই খাওয়া যাবে না। কারণ এই ওষুধগুলিতে ৬১ শতাংশ চর্বি ঝরার সঙ্গে সঙ্গে ৩৯ শতাংশ পেশিও কমতে শুরু করে। তখন শরীর ভেঙে পড়ার বিপদ দেখা দিতে পারে। তাই এই ওষুধ নেওয়ার আগে নিয়মিত শরীরচর্চা করে পেশি মজবুত করতে হবে।

কত দিন খেতে হয়?

সপ্তাহে মাত্র এক দিন এই ওষুধগুলি খেতে হয়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী?

· বমি ভাব

· অম্বল, চোঁয়া ঢেকুর, গ্যাস

· বমি

· ডায়েরিয়া

· প্যানক্রিয়াসের রোগ (যদিও বিরল)

ozempic Weight Loss Pill
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy