Advertisement
E-Paper

উকুনের কারণেই মৃত্যু ওড়িশার কিশোরীর! সাধারণ এই সমস্যা কখন প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে?

ওড়িশায় উকুনের সংক্রমণে বারো বছরের কিশোরী লক্ষ্মীপ্রিয়া সাহু-র মৃত্যুর ঘটনায় তাই গোটা দেশই স্তম্ভিত। গুরুতর অবস্থায় তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। উকুনের সমস্যাকে সাধারণ ভেবে অবহেলা করলেই বিপদ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৫২
উকুন যখন প্রাণঘাতী।

উকুন যখন প্রাণঘাতী। ছবি: সংগৃহীত।

স্কুল থেকে ফিরেই শিশুর মাথায় চুলকানি শুরু। মা মাথায় চিরুনি দিতেই ধরা পড়ল আসল ভিলেন। একটা, দু’টো নয় মাথায় থিকথিক করছে উকুন। সেই উকুন তাড়াতে গিয়ে নিমপাতা থেকে কর্পূর, রকমারি ভেষজ তেল, উকুনের শ্যাম্পু কতই না ঝক্কি পোহাতে হয় বাবা-মায়েদের। তবে উকুনের কারণে মৃত্যু হয়েছে এমনটা সচারচর শোনা যায় না। ওড়িশায় উকুনের সংক্রমণে বারো বছরের কিশোরী লক্ষ্মীপ্রিয়া সাহু-র মৃত্যুর ঘটনায় তাই গোটা দেশই স্তম্ভিত। গুরুতর অবস্থায় তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।

পুরীর চম্পাগড়া এলাকার স্থানীয় স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী লক্ষ্মীপ্রিয়া। বেশ কয়েক মাস ধরেই উকুনের সমস্যায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল কিশোরী। ঘরোয়া টোটকা, বাজার থেকে কেনা কোনও শ্যাম্পুতেই লক্ষ্মীপ্রিয়ার অবস্থার উন্নতি হয়নি। সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিশোরীর মা তাঁকে ন্যাড়া হওয়ার কথা বললেও, লক্ষ্মীপ্রিয়া মায়ের পরামর্শে রাজি হয়নি। সমস্যা বাড়তে শুরু করে। একটা সময় তার মাথা থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করে। একটা সময় স্কার্ফ দিয়ে মাথা স্কুলে যেতে শুরু করে লক্ষ্মীপ্রিয়া। বাড়ির লোকেরা জানায়, মাথার দুর্গন্ধের কারণে বাড়ি থেকে বেরোনো বন্ধ করে দেয় সে।

কিশোরীর মৃত্যুর তিন দিন আগে সে রক্তবমি করতে শুরু করেমেয়ের এই অবস্থা দেখে তাকে পুরির মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায় তার বাবা-মা। তবে শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালের চিকিৎসক অক্ষয় শতপথী জানান, উকুনের জন্য স্ক্যাল্পে মারাত্মক সংক্রমণ এবং সেখান থেকে সেপটিসেমিয়ার কারণেই ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে। গোটা বিষয়টি এখনও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। কলকাতার চর্ম চিকিৎসক এম পাল বলেন, ‘‘উকুন মাথার ত্বক থেকে রক্ত শোষণ করতে শুরু করে। যে কারণে চুলকানি শুরু হয়। ঘন ঘন নখ লেগে মাথার ত্বকে ক্ষত হতে শুরু করে। সেই ক্ষত বাড়াবাড়ি বর্যায় পৌঁছলে সেই থেকেই সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায় কয়েক গুণ। সংক্রমণ থেকে সেপটিসেমিয়াও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে রক্তে বিষক্রিয়া শুরু হয়। এর প্রভাবে ধীরে ধীরে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলি বিকল হতে শুরু করে। অবশেষে প্রাণ সংশয়ও হতে পারে।’’ উকুন নিয়ে অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক। এ ক্ষেত্রে সংক্রমণের মাত্রা, উকুনের বাড়বাড়ন্তের আগেই কিন্তু যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

উকুন তাড়াতে সবার আগে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ভীষণ জরুরি। অভিভাবকদের সে দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। শিশুর ব্যবহৃত পোশাক-অন্তর্বাস, বিছানার চাদর, বালিশের কভার, গামছা-তোয়ালে গরম জলে ধুতে হবে। শিশুর খেলনা, সফট টয়ও নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। বাড়িতে পোষ্য থাকলে বাবামায়েদের আরও বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy