ষাটের দশকে ‘আইটেম গার্ল’ হিসাবে একাই বলিউডে দাপিয়েছেন হেলেন। তাঁর নাচে মুগ্ধ হন দর্শক। এখন তাঁর বয়স ৮৬ বছর। আজও তিনি ভীষণ ফিট। হেলেনের ফিট থাকার নেপথ্যে রয়েছে তাঁর নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস।
৯০-এর দোরগোড়ায় পৌঁছেও হেলেন ধরে রেখেছেন তাঁর ফিটনেস রুটিন! এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর ফিটনেস প্রশিক্ষক ইয়াসমিন করাচিওয়ালা। ইয়াসমিন সম্প্রতি তাঁর ইনস্টাগ্রামে হেলেনের একটি ভিডিয়ো ভাগ করে নিয়েছেন। ভিডিয়োতে হেলেন বলেন, ব্যায়ামের ব্যাপারে তিনি ভীষণ কড়া। হেলেনের মতে, নিয়মিত শরীরচর্চা করলে তিনি শারীরিক ভাবে চাঙ্গা থাকেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি মানসিক ভাবেও সুস্থ বোধ করেন। হেলেন বলেন, ‘‘ব্যায়াম করা কেবল সৌন্দর্যের বিষয় নয়। নিয়মিত ব্যায়াম করলে দৈনন্দিন কাজে আত্মবিশ্বাস মেলে। হাঁটাচলার ক্ষেত্রেও অনেক সুবিধা হয়।’’
বয়স হলে শরীরের নিম্নভাগ খানিকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। হাঁটাচলার ক্ষেত্রে বয়স্কদের অসুবিধা হয়। অনেক সময় তাঁরা শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পেরে পড়ে যান।
হেলেনকে যেন এই সব সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়, তার জন্য বর্ষীয়ান অভিনেত্রীকে কোন কোন শরীরচর্চা করান ইয়াসমিন?
১) সিট অ্যান্ড স্ট্যান্ড: এ ক্ষেত্রে কোনও জায়গায় বসে হাতের সাহায্য না নিয়ে উঠতে হয়। এই ব্যায়াম করার সময়ে শরীরের পুরো ভারটাই পড়ে পশ্চাৎদেশ, ঊরু আর গোড়ালির উপরে।
২) হিল রেইসেস: এই ব্যায়ামে সামনে দেওয়াল বা কোনও উঁচু টেবিলে ভর দিয়ে পায়ের পাতা মাটিতে ঠেকিয়ে গোড়ালি উপরে তোলা হয়। শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখতে আর পায়ের পেশির জোর বৃদ্ধি করতে এই ব্যায়াম উপকারী।
৩) লেগ রেইসেস ফর ব্যালান্স: এ ক্ষেত্রে কোনও কিছুর উপর ভর দিয়ে একটি পা হাওয়ায় তুলতে হয়। এ ক্ষেত্রে যে যতটা পা তুলতে পারবেন, ততটাই ভাল। শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে ও পায়ের জোর বৃদ্ধি করতে এই ব্যায়াম অভ্যাস করতে হবে।
বয়স্কদের ব্যায়াম করার সময় কী কী মাথায় রাখতে হবে?
১। শরীরচর্চার আগে ও পরে শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় নিন। ব্যায়াম শুরুর আগে খালি হাতে ‘স্ট্রেচিং’ করে নিলে শরীরের উষ্ণতা ব্যায়ামের উপযুক্ত হয়। পাশাপাশি, মূল ব্যায়াম শেষ হয়ে গেলেও শরীরকে ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ দিন। ঠিক মতো ‘কুল ডাউন’ করলে পেশির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে।
২। প্রশিক্ষকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ব্যায়াম করা চলবে না। শরীরচর্চা করতে হবে নিয়ম মেনে। ৫০ পেরিয়ে গেলে ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক। কিন্তু রোজ নিয়ম মেনে এক ধরনের ব্যায়াম করলে শরীরও ধীরে ধীরে মানিয়ে নেবে।
৩। যাঁরা ৫০ পেরিয়ে শরীরচর্চা শুরু করছেন, তাঁদের ধীরে ধীরে শুরু করাই ভাল। যে কোনও কিছুর সঙ্গেই মানিয়ে নিতে সময় লাগে শরীরের। তাই এ ক্ষেত্রেও ধৈর্যই আসল। প্রথম দিকে হাল্কা ব্যায়াম করুন। তার পর ধীরে ধীরে ব্যায়ামের সময় ও পরিমাণ বাড়াতে হবে।
৪। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন শরীরচর্চার পর। ৫০-এর পর পেশি ও অন্যান্য অঙ্গের কোষের পুনর্গঠনে বেশি সময় লাগে। তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে হিতে বিপরীত হবে।