Advertisement
E-Paper

পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নির্মাণের উদ্যোগ থেকে সরে দাঁড়াল হ্যাল! তেজস-‘ব্যর্থতার’ কারণেই সিদ্ধান্ত?

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, চিনের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘জে-১০সি’র মোকাবিলার উদ্দেশ্যেই দ্রুত এএমসিএ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে কেন্দ্র।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩৪
HAL out, Indian private firm to make Advanced Medium Combat Aircraft fighter

পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। —ফাইল চিত্র।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার গত বছরের মে মাসে প্রকল্পের প্রাথমিক ছাড়পত্র অনুমোদন করেছিল। সেই ‘প্রোগ্রাম এগ্‌‌জ়িকিউশন মডেল’-এ ইঙ্গিত ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্‌স লিমিটেড’ (হ্যাল)-এর পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলিকেও দরপত্র দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে ‘হ্যাল’ সরে এসেছে প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি।

কী সেই প্রকল্প? পোশাকি নাম, ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্‌ট’ (এএমসিএ)। আদতে ভারতের প্রতিরক্ষাশিল্পের ইতিহাসে দেশীয় প্রযুক্তিতে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির প্রথম উদ্যোগ। প্রাথমিক ভাবে পাঁচটি এএমসিএ নির্মাণের বরাতের জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্র। কিন্তু দরপত্র দেওয়া সংস্থাগুলির তালিকায় হ্যাল-এর নাম নেই। বরাত পাওয়ার ‘লড়াই’ এখন টাটা গোষ্ঠী, কল্যাণী গ্রুপের অধীনস্থ সংস্থা ভারত ফোর্জ লিমিটেডের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম, এল অ্যান্ড টি নিয়ন্ত্রিত ‘ডিফেন্স পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং’ (ডিপিএসইউ)-এর অন্তর্গত বিইএমএল লিমিটেড এবং বেসরকারি সংস্থা ‘ডিফেন্স ইলেকট্রনিক্স ফার্ম ডেটা প্যাটার্নস (ইন্ডিয়া) লিমিটেড’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, চিনের তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘জে-১০সি’র মোকাবিলার উদ্দেশ্যেই দ্রুত এএমসিএ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে কেন্দ্র। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে ‘দ্য প্রিন্ট’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০৩১ সালের মধ্যেই প্রথম দফার পাঁচটি পঞ্চম প্রজন্মের মাঝারি যুদ্ধবিমান নির্মাণ শেষ করা হবে। প্রথমটি নির্মাণের কাজ শেষ হবে ২০২৮ সালের মধ্যে। ২০৩৫ সালের মধ্যে উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। বিমানগুলিতে ব্যবহার করা হবে জিই-৪১৪ ইঞ্জিন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ আগেই জানিয়েছিলেন, ‘অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি’ (এডিএ) শিল্প অংশীদারির মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত।

প্রসঙ্গত, চুক্তি অনুযায়ী চতুর্থ প্রজন্মের হালকা ‘মাল্টি রোল সুপারসনিক’ তেজস যুদ্ধবিমান সময়মতো সরবরাহ করতে ‘হ্যাল’ ব্যর্থ হয়েছে বলে বছরখানেক আগেই অভিযোগ তুলেছিলেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিংহ। এই আবহে হ্যালের পক্ষে সময়সূচি মেনে এএমসিএ নির্মাণ সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। এই পরিস্থিতিতে অংশীদারির ভিত্তিতে প্রকল্পের বরাত বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ‘স্বাধীন ভাবে কিংবা যৌথ উদ্যোগে অথবা কনসোর্টিয়াম হিসাবে দরপত্র জমা দেওয়া যেতে পারে’। শেষ পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়াল হ্যাল।

Fighter Jets Aircraft HAL Indian Democracy AMCA Tejas Defence
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy