দোসার মতো মুচমুচে নয়, তবে পাতলা এবং গোলাকার। তৈরি হয় বেসন অথবা মুগ ডাল দিয়ে। ভারতীয় খাদ্যতালিকায় এই খাবারই পরিচিত চিলা নামে। অল্প তেলে রান্না, বেসন বা ডাল থাকায় তা স্বাস্থ্যকরও। কিন্তু বেসন না মুগ ডাল, কোন চিলার পুষ্টিগুণ বেশি?
করিনা কপূরের পুষ্টিবিদ রুজুতা দিবেকর বলেছেন, ‘‘বাজারচলতি সিরিয়ালের থেকে ভারতের প্রথাগত খাবার চিলা অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। কারণ, এই খাবারে নিজের মতো করে উপকরণ যোগ করা বা বাদ দেওয়া যায়।’’
১০০ গ্রাম বেসনের পুষ্টিগুণ
৩৮৭ কিলোক্যালোরি
প্রোটিন ২২ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট ৫৮ গ্রাম
ফাইবার ১০ গ্রাম
ফ্যাট ৬ গ্রাম
আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফোলেট
১০০ গ্রাম হলুদ মুগ ডালের পুষ্টিগুণ
৩৪৮ কিলোক্যালোরি
আরও পড়ুন:
প্রোটিন ২৪.৫ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট ৫৯-৬৩ গ্রাম
ডায়টেরি ফাইবার ৮-১৬ গ্রাম
ফ্যাট ১.৪ গ্রাম
দিল্লি নিবাসী পুষ্টিবিদ পূজা মলহোত্র জানাচ্ছেন, বেসনের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ( কোন খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কতটা বাড়তে পারে, সেই সূচক) কম। ফলে ডায়াবেটিকেরাও তা স্বচ্ছন্দে খেতে পারেন। বেসন জাতীয় খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে দেয় না। তা ছাড়া, কেউ ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে প্রোটিন এবং ফাইবার নির্ভর খাবারের প্রয়োজন পড়ে। তার দু’টি মেলে বেসনে। পাশাপাশি, বেসনের চিলায় পেঁয়াজ, লঙ্কা, ধনেপাতা, গাজর, লাউ— পছন্দের যে কোনও সব্জি যোগ করা যায়।
মুগ ডাল বা বিভিন্ন ডাল মিশিয়ে তৈরি হয় ডাল চিলা। ফ্যাটের মাত্রা কম, ডায়টেরি ফাইবারও এতে মেলে যথেষ্ট পরিমাণে। প্রোটিন বেসনের চেয়ে সামান্য হলেও বেশি। ডাল হজমেও তেমন সমস্যা হয় না। তা ছাড়া, ওজন কমাতেও সাহায্য করে ডাল। বেসনের চিলার চেয়ে ডালের চিলায় ক্যালোরির মাত্রা কম, ফ্যাটও কম।
বেছে নেবেন কোনটি
বেসন এবং ডালের চিলা দু'টিই পুষ্টিগুণে ভরপুর, উপকারী। হালকা কিছু খেতে চাইলে ডালের চিলা বেছে নিতে পারেন। আবার পেট ভরাতে চাইলে শুধু বেসন চিলা না খেয়ে, তার ভিতরে পনির জুড়তে পারেন। এতে ক্যালোরি, পুষ্টির মাত্রা দুই-ই বাড়বে। হালকা কিছু খেতে চাইলে বেছে নিতে পারেন ডালের চিলা। ওজন কমাতে দুই ধরনের চিলাই খাওয়া যায়। তবে চিলা কী ভাবে প্রস্তুত হচ্ছে, তার উপর এর পুষ্টিগুণ নির্ভরশীল। স্বাস্থ্যকর করতে হলে তেলের মাত্রা কমাতে হবে, বৃদ্ধি করতে হবে সব্জির মাত্রা।